19-04-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
15-12-2009 মধুবন
‘‘পরিবারের সাথে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য নলেজফুল
হয়ে বাবা সমান সাক্ষী ভাবের স্থিতিতে থাকতে হবে, বাবা, স্বয়ং, ড্রামা এবং পরিবার এই
চারেতে নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে বিজয়ী হতে হবে"
আজ সমর্থ বাবা নিজের সমর্থ বাচ্চাদের দেখছেন। কেননা, প্রত্যেক বাচ্চা স্নেহের সাথে
বাবা সমান হওয়ার পুরুষার্থ অনেক নিষ্ঠার সাথে করছে। বাপদাদা বাচ্চাদের দেখে খুশি হন
এবং হৃদয়ে বাচ্চাদের গীত গান বাঃ বাচ্চারা বাঃ! কেননা, বাচ্চারা বাবার শিরোভূষণ।
দেখো, বাচ্চাদের পূজা ডবল রূপে হয়, বাবার পূজা এক রূপে হয়। তো বাচ্চারা বাবার দ্বারা
বাবার থেকে সামনে যায় সেইজন্য বাবা বাচ্চাদের পুরুষার্থ দেখে খুশি। তোমরা নম্বরক্রমে
আছো কিন্তু পুরুষার্থের লক্ষ্য সামনে চালিত করছে। আজ অমৃতবেলায় চতুর্দিকের
বাচ্চাদের মধ্যে একটা ব্যাপার দেখেছেন যা জ্ঞানের ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন হলো নিশ্চয়।
বলাও হয়েছে নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী। তো তোমাদের সকলের নিশ্চয় দেখেছেন, নম্বরক্রমে সবার
বাবার প্রতি নিশ্চয় তো আছেই, তার লক্ষণ হলো বাবাকে চিনে সবাই বাবার হয়েছে আর এখানেও
এসেছে বাবার সাথে মিলনের জন্য। বাবার প্রতি প্রত্যেক বাচ্চার অটুট নিশ্চয় আছে কিন্তু
বাবার সাথে আরও নিশ্চয় পাকা হওয়া দরকার তা' হলো স্ব-এর প্রতি নিশ্চয়। সেইসঙ্গে
ড্রামাতে নিশ্চয় আর পরিবারে নিশ্চয়। এই চার প্রকারের নিশ্চয়ে পাক্কা হওয়া অর্থাৎ
নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ন্তী হওয়া। তো চেক করো যে এই চার নিশ্চয়ে তোমরা পাক্কা হয়েছো?
বাবার জন্য তো সবাই বলো আমার বাবা আর আমি বাবার। বাবাকে আমার ব'লে বাবার উপর পুরো
অধিকার প্রাপ্ত ক'রে নিয়েছ। সদা বাবার দ্বারা অধিকারী হয়ে সর্ব ভাণ্ডারের অধিকারী
হয়ে গেছো।এইসঙ্গে স্ব-এর প্রতিও নিশ্চয় অবশ্যক কেন? যদি স্ব-এর প্রতি নিশ্চয় না থাকে
তবে বিভ্রান্ত হয়ে যায়। স্ব-এর প্রতি নিশ্চয় এটাই - আমি বাবার দ্বারা স্বমানধারী,
স্বরাজ্য অধিকারী। স্বয়ং বাবা আমাকে কত স্বমান দিয়েছেন। একেকটা স্বমান যদি স্মৃতিতে
আনো তো কত নেশা জাগে! আজকাল কেউ যদি কোনো টাইটেল পায় তো সেও নিজের সৌভাগ্য মনে করে।
কিন্তু তোমরা সব বাচ্চাকে একেকটা স্বমান কে দিয়েছেন! স্বয়ং বাপদাদা সব বাচ্চাকে
স্বমানধারী বানিয়েছেন। একেকটা স্বমান স্মরণ করতে করতে তোমরা খুশিতে ওড়ো, তখন
স্ব-এর মধ্যে সদা নিশ্চয়ের এত নেশা থাকুক যে বাবার দ্বারা স্বরাজ্য অধিকারী, স্বমান
অধিকারী কোটি কোটির মধ্যে আমি এক আত্মা। যেমন বাবার প্রতি নিশ্চয় আছে তেমনভাবে সাথে
স্ব-এর প্রতিও নিশ্চয় আবশ্যক। কেননা, যদি স্ব প্রতি নিশ্চয় থাকে তো যেখানে নিশ্চয়
আছে সেখানে সব কর্মে নিশ্চয়বুদ্ধি অর্থাৎ স্বমানধারী বিজয়ী। নিশ্চয়ের অর্থই সফলতা।
এরকম নয়, আমার তো বাবার প্রতি নিশ্চয় আছে, বাবার প্রতি আছে সেটা তো খুব ভালো কিন্তু
বাবার সাথে স্ব-এর নেশাও আবশ্যক - আমি কে! একেক স্বমান যদি স্মরণ করো তবে নিশ্চয় আর
নেশা তোমাদের আচরণ এবং মুখমণ্ডল দ্বারা দৃশ্যমান হবে। দৃশ্যমান হচ্ছে এবং দৃশ্যমান
হতে থাকবে। সেইসঙ্গে তৃতীয় বিষয় - ড্রামাতেও নিশ্চয় খুব জরুরি। কেননা ড্রামাতে
সমস্যাও আসে আর সফলতাও হয়। যদি ড্রামাতে পাক্কা নিশ্চয় থাকে তবে ড্রামার নিশ্চয়
দ্বারা যে নিশ্চয়বুদ্ধি রয়েছে তা' সমস্যাকে সমাধান স্বরূপে বদলে দেয়। কারণ নিশ্চয়
অর্থাৎ বিজয়। তো কা'র উপরে বিজয়ী হও? পরিবর্তন করায়, এক সেকেন্ডে সমস্যা পরিবর্তন
হয়ে সমাধান রূপ হয়ে যায়। অস্থিরতায় আসবে না, অটল থাকবে। কেননা, ড্রামার জ্ঞান দ্বারা
তোমরা অনড় অটল হয়ে যাও। এই নিশ্চয় থাকে যে আমিই পূর্ব কল্পেও সমাধান স্বরূপ অর্থাৎ
সফল আত্মা হয়েছিলাম, হয়েছি এবং কল্পের পরেও আমিই হবো। তো এই নেশা ড্রামার নিশ্চয়
পাক্কা করায়। গর্ব থাকে, নেশা থাকে আমি ছিলাম, আমি আছি আর আমিই হবো। সেইজন্য এই
পুরুষার্থী জীবনে ড্রামার নিশ্চয়ও আবশ্যক আর চতুর্থত সেইসঙ্গে পরিবারে নিশ্চয় কেননা,
বাবা আসার সাথে সাথেই পরিবার তৈরি করেছেন। তো বাবার প্রতি যেমন নিশ্চয় আছে তেমন
পরিবারেও নিশ্চয় আবশ্যক। কারণ পরিবার কা'র? তাছাড়া এত বড় পরিবার আর কা'র হতে পারে!
তো পরিবারেও নিশ্চয় অতি আবশ্যক কেননা, এত বড় পরিবার বিশ্বে কা'র আছে? চেক করো
তোমাদের মতো পরিবার বিশ্বে কা'র আছে? এমনকি কোনও ডিভাইন ফাদারেরও নেই, ওখানে ফলোয়ার
আছে, এখানে এটা পরিবার। পরিবারের সাথেই সেবাতে, সম্বন্ধে থাকো তোমরা। এরকম নয় যে
আমার কানেকশন বাবার সাথেই, পরিবারের সাথে হয়নি, তো কী হয়েছে! পরিবারের প্রতি
তোমাদের নিশ্চয় তো ২১ জন্ম চলতে হবে। জানো তো না! পরিবারের সাথেই সম্বন্ধে এসে জানা
যায় যে আমি এত বড় পরিবারে সবার সাথে নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে চলছি, পরিবারে চলার জন্য এই
অ্যাটেনশন দিতে হয় - পরিবারে প্রত্যেকের সংস্কার ভিন্ন ভিন্ন হয় আর হবে। তোমাদের
স্মৃতিচিহ্ন মালা, মালাতে দেখো (কোথায় এক নম্বর আর কোথায় ১০৮ তম নম্বর! কেননা,
পরিবারে বিভিন্ন সংস্কার রয়েছে। তো এত বড় পরিবারের সাথে চলার জন্য পরস্পরের সমস্ত
সংস্কার বুঝে এটা একটা বড় পরিবার, এক বাবা, এক রাজ্য, তো আমাদের এক হয়ে চলতে হবে।
ঠিক যেমন এটা বড় পরিবার, তেমনই প্রত্যেকের প্রতি দরাজদিল, শুভ ভাবনা, শুভ কামনার
স্থিতিতে স্থিত হয়ে চলতে হবে। কেননা, পরিবারের মধ্যেই সংস্কার স্বভাব থাকে। কেউ কেউ
মনে করে পরিবারের সাথে কী গুরুত্ব আছে, আমার তো বাবার প্রতি নিশ্চয় আছে। কিন্তু
এখানে ধর্ম এবং রাজ্য দুইয়ের স্থাপন হয়, শুধু ধর্ম নয়, অন্য যে ধর্ম পিতারা এসেছে
তাদের শুধু ধর্ম থাকে, রাজ্য থাকে না, এখানে তো তোমাদের রাজত্বও করতে হবে। তো
রাজত্বে পরিবারের আবশ্যকতা থাকে এবং ২১ জন্ম ভিন্ন ভিন্ন রূপে পরিবারের সাথেই থাকতে
হবে, পরিবার ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না। তো চেক করো, এরকম ভেবো না বাবা জানে, আমি
জানি। বাবার সাথেই কার্য কিন্তু যদি এই চার নিশ্চয় থেকে একটাও নিশ্চয় কম হয় তাহলে
চাঞ্চল্যে এসে যাবে। অবশ্যই বাবা তোমাদের সেবার সাথি সকাশ দেওয়ার, কিন্তু তোমাদের
সাথি কে? তোমাদের সাকার সাথি তো পরিবার। বাবা দেখেছেন যে, তিন নিশ্চয়ে মেজরিটি ঠিক
চলছে, কিন্তু পরিবারে সাথে হওয়ার দায়িত্ব পালন করা, সংস্কার মিলিয়ে চলা, প্রত্যেককে
কল্যাণের ভাবনাতে দেখা আর একসাথে চলা, এতে কিছু বাচ্চা যথাশক্তি হয়ে যায়। কিন্তু
বাবা দেখেছেন পরিবারের নিশ্চয়ে যারা নলেজফুল হয়ে সদা বাবা সমান সাক্ষীভাবের স্থিতিতে
সাথে আসে, থাকে তারা নম্বর ওয়ান কিংবা নম্বর ওয়ান ডিভিশনে আসে। তো চেক করো, ভাব
স্বভাব পরিবারে হয়, সুতরাং ছোট ছোট ভুলও হয়, বিঘ্ন আসে - এসব পরিবারের সম্বন্ধেই আসে।
তো সবচাইতে আবশ্যক এই পরিবারের সম্বন্ধে পাশ হতে হবে। যদি পরিবারে সমস্যা সমাধানে
কোনও ত্রুটি হয় তবে সেই বিঘ্ন ছোট হোক বা বড় হোক মানসিক যন্ত্রণা দেয়। এটা কেন, এটা
কীভাবে - এগুলো পরিবারের কানেকশনে আসে। সুতরাং কেন প্রশ্ন ক'রো না, কেন-র পরিবর্তে
উপলব্ধি করো আমাকে মিলেমিশে একসাথে চলতে হবে, পারিবারিক গভীর ভালোবাসার দায়িত্ব
পূরণ করতে হবে। কেননা, এটা বাবার পরিবার, ভগবানের পরিবার। এটা সাধারণ পরিবার নয়।
নেশা থাকা উচিৎ বাহ্ বাবা! বাহ্ ড্রামা! বাহ্ আমি আর বাঃ পরিবার! ঠিক আছে? চেক করো
এটা? এই চারেই পাশ করেছ তোমরা? চারেই? একটাতেও কম নয়? চেক করো। এখন এখনই চেক করো
কেননা, এটাই বিজয়ী হওয়ার সাধন। পরিবারের মধ্যে সংস্কার বেরিয়ে আসে আর সেই সংস্কার
মিলিয়ে নিজেকেও পরিবর্তন করতে হবে আর পরিবারকেও এত উঁচু দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বাপদাদা
আগেও বলেছেন যে বাপদাদা লাস্ট বাচ্চাকেও অতি ভাগ্যবান মনে করেন, কেন? ভগবানকে চেনা,
সাধারণ রূপে বাবাকে চেনা, এত বড় বড় মহাত্মারাও চিনতে পারেনি, কিন্তু বাপদাদার লাস্ট
বাচ্চাও আমার বাবা বলে। হৃদয় থেকে আমার বাবা বলে। বাপদাদা যেমন বাচ্চাদের স্নেহাদর,
স্মরণ-স্নেহ দেন তেমন লাস্ট বাচ্চার বিশেষত্ব দেখে লাস্টের তাদেরকেও দিয়ে থাকেন। তো
চেক করো তোমরা তিনে ঠিক নাকি চারেতেই ঠিক আছ, নাকি দুইয়ে ঠিক কিংবা একে ঠিক আছো?
চেক করেছো? করেছ চেক? যারা মনে করো আমি চারেতেই, বাবা, স্বয়ং, ড্রামা এবং পরিবার
চার নিশ্চয়েই ঠিক আছি তারা হাত তোলো। ঠিক আছো? আচ্ছা ঠিক আছে। বাবা পেপার নেবেন?
হ্যাঁ, তোলো। আচ্ছা পরিবারের বিষয়ে পাশ করেছো? পরিবারের সম্বন্ধে তোমাদের আসতে হবে,
কারণ পরিবার ছেড়ে তো কোথাও যাবে না, থাকতেই হবে, দায়িত্ব পালন করতেই হবে। তো এতে
তোমরা পাশ করেছ? কখনো এমন ভাবো যে এ' যদি না থাকত তবে ভালো হতো, এ' কেন করে, এটা
কেন হয়, এমন সঙ্কল্প আসে তোমাদের? পরিবারের সম্পূর্ণ নেশা, চারেতে যার এমন নিশ্চয়
আছে তার সঙ্কল্পেও যেমন তেমন আসবে না। সঙ্কল্পে আসতে পারে এটা কেন এমন হয়, কিন্তু
এটা উচিৎ নয় কেন বা কি-এর প্রশ্ন তোমাকে টলিয়ে দেবে, তোমার মুড বদলে দেবে। একে বলে
চারেতেই পাশ। তোমরা হাত তুলেছো, বাপদাদাকে খুশি করেছো, কিন্তু পরিবারের এই যে
ব্যাপার তা' বাপদাদাকে কখনো কখনো দেখতে হয়, শুনতে হয়। তোমাদের সম্পূর্ণ উদারচিত্ত
হতে হবে, সবাইকে শুভ ভাবনা, শুভ কামনার দ্বারা ঠিক করতে হবে। কারণ পরিবার একটাই।
একমত হয়ে চলতে হবে আর চালাতে হবে। তোমাদের শুধু নিজেদের চললে হবে না, অন্যদেরও
চালাতে হবে। সেইজন্য বাপদাদা এই বিষয়ে অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন, পরিবারের যে কোনো
অস্থিরতায় যারা পাস হয়ে যায়, ব্যর্থ চলে না, অন্যদেরকে তাদের এরকমই বানাতে হবে। এখন
তো তোমরা নিজের নিজের সেন্টারে কতসংখ্যক থাকো, ধরা যাক বেশি থেকে বেশি ২৫-৫০, এত হয়
না কিন্তু মনে করো বড় জায়গা রয়েছে, তাতেও ৫০-৬০ হবে, ঠিক আছে বেশি থেকে বেশি ১০০-ই
মনে করো, এত বেশি নেই কিন্তু মনে করো, তো বাপদাদা সব সেন্টারের বাচ্চাদের লাস্টকেও
আমার প্রিয় বলে অগ্রচালিত করেছেন। আর ভালোবাসার লক্ষণ হলো রোজ বাপদাদা স্মরণ-স্নেহ
কী দিয়ে থাকেন। মিষ্টি মিষ্টি, তিনি জানেন টকও আছে কিন্তু স্মরণ-স্নেহে কখনো মিষ্টি
টক বলেছেন? তাদেরকেও প্রিয় বলেন, না শুধু বলেন, বরং নিজের ভাব দ্বারা আমার বাচ্চা
বলে অগ্রচালিত করেন। কেননা, ড্রামাতে, মালাতে সবাই এক নম্বর নয়, এটা রেজাল্ট।
সংস্কার ভিন্ন ভিন্ন হয়, হওয়ার আছে, নয়তো সবাই যদি রাজা হয়ে যায় তবে প্রজা কে হবে!
রাজত্ব কা'র উপরে করবে? ভালো প্রজাও তো দরকার, রয়্যাল প্রজা, রাজধানী আছে তো না।
এভাবে প্রত্যেকে নিজেকে চেক করো, পরিবারে কোনও ব্যাপারে সংস্কার খারাপ, কিন্তু আমার
সংস্কার কী? যদি খারাপকে দেখে আমার সংস্কারও সেরকম হয়ে গেছে তবে তো আমিও খারাপ হয়ে
গেলাম! খারাপ ভালোকেও বদলে দেয়।
স্থাপনের সময় বাবা ৩৫০-৪০০ একত্রে সামলেছেন, এত সংখ্যক তো এখন একত্রে থাকার পরিবার
কারও নেই। ঠিক আছে, ডিউটি আলাদা আলাদা, কিন্তু সেটা ডিউটি আর পরিবারে ডিউটি থাকে।
সাধারণ পরিবার, সাধারণ ডিউটি, সাধারণ নিয়মে দিনচর্যা যাপন করা, এটা নয়, স্বতন্ত্র
আর মনোরম পরিবার। এতে ডিস্টার্বড হওয়া, তারপর আবার এই বাহানা দাও যে সে করেছে তবেই
এটা হয়েছে। এ' করেছে তাই এটা হয়েছে। যেমনই হোক, বাবার সামনেও কী অপজিশন হয়নি!
ভাগন্তীও হয়েছে তো না! এটা অপজিশন নয়! কিন্তু বাবা তবুও বলেছেন, যদি কেউ ভাগন্তী হয়ে
গেছে তবুও তাকে টোলি পাঠাও, তাকে ডেকে আনার চেষ্টা করো, সার্ভিস করো, স্মরণ করাও।
এভাবে চার নিশ্চয়ে পাশ হতে হবে, নাকি তিনে বা দু'য়ে? নম্বর ওয়ান হতে হবে। তার জন্য
বিনাশের প্রস্তুতি হওয়া সত্ত্বেও বিনাশ থেমে আছে। প্রকৃতিও বাবার কাছে আসে,
প্রকৃতিও বলে এখন অনেক বোঝা হয়ে গেছে। প্রকৃতিও বোঝা থেকে রেহাই চায়। মায়াও বলে, আমি
জানি যে আমার পার্ট শেষ হতে চলেছে, কিন্তু ব্রাহ্মণ পরিবারে এমনও বাচ্চারা আছে যারা
ছোট ব্যাপারে আমার সাথি হয়ে যায়। আমাকে বসিয়ে দেয়। তো নিজের রাজত্ব কায়েম করতে এই
চার নিশ্চয় পার্সেন্টেজে আছে সেইজন্য সময়ও থেমে আছে। মায়া আর প্রকৃতি উভয়েই রেডি।
এবারে বলো অর্ডার করবো? বাচ্চারা যদি এভাররেডি নয় তবে মায়া আর প্রকৃতিকে বাবা
অর্ডার করবেন? করবেন? হাত উঠাও। তৈরি আছো? অযথা হাত উঠিও না। পেপার আসবে, আসবে
পেপার। তোমরা এভাররেডি?
এখন সব বাচ্চার প্রতি বাপদাদার এই আশা - 'কীভাবে'-কে সমাপ্ত ক'রে এভাবে করো। কীভাবে
করবো, কীভাবে হবে এটা নয়। এভাবে হবে। কী করবো সেটা নয়, এভাবে করবো। এই আশা কত সময়ে
পূরণ করবে? কত সময় চাই? কেননা, সবাইকে তৈরি হতে হবে। যদি তোমরা তৈরি আছো, হাত তুলেছো,
তাহলে তোমাদের কাজ কী? একে অপরকে নিজের সমান বানানো। আচ্ছা - বাপদাদা সব সমাচারের
রেজাল্ট শুনেছেন, যে প্রোগ্রাম চলেছে সেটা ভালো হয়েছে আর রেজাল্টও বেশ উৎসাহ-
উদ্দীপনার ছিল। সেইজন্য এখন লক্ষ্য রাখো হতেই হবে, করতেই হবে, সমাপ্তি সমীপে নিয়ে
এসো। তোমরা সামান্য যদি নড়ে যাওনা তবে সমাপ্তিও দূরে হয়ে যায়। তোমাদেরই সমাপ্তি
সমীপে আনতে হবে। কেননা, যারা রাজত্ব করবে তারাই যদি তৈরি না হবে তবে সময় কী করবে?
সেইজন্য সব অজুহাত, কারণ, কারণ শব্দ সমাপ্ত করো। নিবারণ সামনে আনো। কেননা, তোমাদেরও
এই লক্ষ্য আছে তো না যে দুঃখীদের বার্তা দিয়ে মুক্ত করার! তাদেরকে মুক্ত না ক'রে
তোমরা মুক্তিতে যেতে পারবে না। তো এদের মুক্ত করো। কেননা, বাবা এসেছেন তো না! তো
সমগ্র বিশ্বের বাচ্চাদের উত্তরাধিকার দেবে তো না! তোমাদেরকে বাবা জীবন্মুক্তির
উত্তরাধিকার দেবেন কিন্তু সবাই তো বাচ্চা তাইনা! তাদেরও উত্তরাধিকার দিতে হবে তো
না! তো তাদের উত্তরাধিকার হলো মুক্তি, তোমাদের উত্তরাধিকার জীবনমুক্তি। যতক্ষণ
মুক্তি না দেবে তোমরা যেতে পারবে না। এরজন্য ১২ বার ফরিস্তা রূপের, ১২ বার নিরাকার
স্বরূপের স্থিতিতে থাকার ড্রিল করো। রাত আর দিনের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা আছে আর ২৪ বার করতে
হবে, ঘুমের সময় ঘুমাও। বাপদাদা এটা বলেন না যে ঘুমিও না। ঘুমাও, কিন্তু দিনের বেলায়
বাড়াও। যখন কোনো ফাংশন করো তখন সারা দিন কাজ করো তো না! জেগে থাকো, থাকো তো না!
এভাবে এই ড্রিলের জন্য সময় বের করো। আচ্ছা।
চতুর্দিকের যারা বাবার স্নেহী হয় তারা অবশ্যই সহযোগী হয়, স্নেহের রিটার্নে
প্রত্যক্ষ রূপে তারা সব কার্যে তন-মন-ধন-জনের ব্যাপারে অবশ্যই পরস্পরের সহযোগী হয়।
তো এমন স্নেহি আর সহযোগী বাচ্চারা, সদা বাবার ভালোবাসায় লভলীন থাকে আর সদা বাবার
সর্বকার্যে সময় সঙ্কল্প নিয়োজিত করে, কেননা, সঙ্গম যুগে সময় আর সঙ্কল্পের ভ্যাল্যু
অনেক, এক জন্মে অনেক জন্মের প্রালব্ধ বানায়, এমন তীব্র পুরুষার্থী সব গুণ, সব শক্তি,
সবকিছু সময় অনুসারে কার্যে প্রয়োগ করে, এমন গুণ সম্পন্ন, শক্তি সম্পন্ন বাচ্চাদের
অনেক অনেক পদম পদম গুন স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।
বরদান:-
বিধাতার সাথে সাথে বরদাতা হয়ে সকল আত্মাতে বল ভরে
হৃদয়বান ভব
যদি কোনো আত্মা ইচ্ছুক হয়, কিন্তু সাহস না থাকার
কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রাপ্তি করতে পারে না, তখন এমন আত্মাদের জন্য বিধাতা
অর্থাৎ জ্ঞান দাতা হওয়ার সাথে সাথে হৃদয়বান হয়ে বরদাতা হও, তাদেরকে নিজের শুভ
ভাবনার এক্সট্রা বল দাও। কিন্তু এমন বরদানী মূর্ত তখনই হতে পারবে যখন তোমাদের সব
সঙ্কল্প বাবার জন্য সমর্পণ হবে। সব সময়, সব সঙ্কল্প, সব কর্মে সমর্পিত হওয়ার যে শপথ
নিয়েছো তা' পালন করো।
স্লোগান:-
নিজের সাথে স্বরূপের স্মৃতি থাকলে সত্যতার শক্তি এসে
যাবে।
অব্যক্ত ইশারা :- মহান হওয়ার জন্য মধুরতা আর নম্রতার
গুণ ধারণ ক'রো বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চার ললাটভাগে সম্পূর্ণ পবিত্রতার ঝলকানি দেখতে
চান। আধ্যাত্মিকতায় ঝলকানো নয়ন দেখতে চান, বোলে মধুরতা, বিশেষত্বের অমূল্য বোল শুনতে
চান এবং কর্মে সদা সন্তুষ্টি, নিরহংকার দেখতে চান। বিশেষ সূচনা :- মাসের তৃতীয়
রবিবারের যোগ অভ্যাস আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সব ভাইবোন সংগঠিত রূপে একত্রিত হয়ে
সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ৭: ৩০পর্যন্ত সম্পূর্ণ গ্লোব সামনে ইমার্জ ক'রে পবিত্রতার
শ্রেষ্ঠ ভাইব্রেশন দেওয়ার সেবা করতে হবে। চতুর্দিকের চিন্তা, ভয় আর দুঃখের
বায়ুমণ্ডলে নিজের সহৃদয় মাস্টার স্বরূপ দ্বারা শান্তি আর শক্তির সকাশ ছড়িয়ে দিতে হবে।