20-09-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 30-11-2011 মধুবন


"অমৃতবেলায় বিশেষ সর্ব শক্তির অনুভবী স্বরূপ হয়ে যোগের সকাশ বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দাও, মনকে সদা বিজি রাখো, সময়ের আহ্বান হলো - তীব্র পুরুষার্থী ভব"


আজ বাপদাদা চারিদিকের বাচ্চাদের ললাটে ঝলমল করতে থাকা ভাগ্যের তারা দেখছিলেন। এক, জন্মের দুই, সম্বন্ধের আর তিন, প্রাপ্তির। তিন ভাগ্যকে দেখে প্রফুল্লিত হচ্ছিলেন। জন্মের ভাগ্য তো তোমরা জানো যে তোমাদের সকলের এটা হলো দিব্য জন্ম, ব্রাহ্মণ জন্ম প্রদানকারী হলেন স্বয়ং ভাগ্য বিধাতা। তো চিন্তা করো, কত বড় ভাগ্য! সাথে-সাথে সম্বন্ধ, এর বিশেষত্ব জানো যে তিন সম্বন্ধ, বাবা, শিক্ষক, সদ্গুরু - তিন সম্বন্ধ এক বাবার সাথে রয়েছে । এক এর মধ্যেই তিন সম্বন্ধ । সেইভাবে বলতে গেলে জীবনে এই তিন সম্বন্ধ আবশ্যক কিন্তু দুনিয়ার মানুষের কাছে প্রত্যেক সম্বন্ধ আলাদা আলাদা আর তোমাদের তিন সম্বন্ধ একের সাথেই আছে। একের সাথে তিন সম্বন্ধ হওয়ার কারণে স্মরণও, অনুভবও সহজ হয়ে যায়। সবাই তিন সম্বন্ধের অনুভবী তাই না! বাবার থেকে কী প্রাপ্ত হয়? উত্তরাধিকার। উত্তরাধিকারও কত শ্রেষ্ঠ প্রাপ্ত হয়। আর এই উত্তরাধিকার অনেক সময় ব্যাপি চলতে থাকে কেননা পরমাত্মা বাবার থেকে প্রাপ্ত হয়। দ্বিতীয় সম্বন্ধ হলো শিক্ষকের, শিক্ষাকে বলা হয় সোর্স অফ ইনকাম। তো তোমাদের সকলের শিক্ষক দ্বারা কত শ্রেষ্ঠ প্রাপ্ত হয়েছে, সেটা তোমরা জানো তো না! এইরকম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি পরমাত্মা পিতা ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না। শিক্ষা দ্বারা পদের প্রাপ্তি হয় আর তোমাদের সকলের সবথেকে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হয়, দুনিয়াতেও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি রাজপদকেই বলা যায়। তো তোমাদেরও শিক্ষক দ্বারা রাজপদ প্রাপ্ত হয়েছে। এখনও তোমরা হলে স্ব রাজ্যের রাজা, কিভাবে? আত্মা রাজযোগী হওয়ার কারণে স্বরাজ্য অধিকারী হয়। নিজের উপর রাজ্য করে। কর্মেন্দ্রিয়ের বশীভূত হয় না, আত্মা মালিক হয়ে এই কর্মেন্দ্রিয়ের রাজা হয়ে যায়। তো এখন স্বরাজ্য আর ভবিষ্যতেও রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত হয়। তো ডবল রাজ্য, এখনও আর ভবিষ্যতেও পদের প্রাপ্তি হয়। আর তৃতীয় সম্বন্ধ হল সদ্গুরুর। তিন সম্বন্ধই প্রাপ্ত আছে তাই না! আছে? বাবার, শিক্ষকের আর তৃতীয় হল সদ্গুরুর। সদ্গুরুর দ্বারা গুরুর শ্রীমত প্রাপ্ত হয়। কত শ্রেষ্ঠ মত পেয়েছো? তো নিজেকে চেক করো যে সদা শ্রীমত অনুসারে চলছো? কখনও মনমত পরমতের দিকে বুদ্ধি চলে যাচ্ছে না তো? চেক করেছো? যারা মনে করছে সদ্গুরুর দ্বারা সদাই শ্রীমৎ, শ্রেষ্ঠ মত অনুসারে চলছে, মনমত পরমতের উপর কখনও স্বপ্নেও যায় না, তারা হাত ওঠাও, যারা সদা শ্রীমতেই চলে, পরমত মনমত নয়, হাত তোলো।

দেখো, মাতারা তুলেছে! অল্প অল্প তুলছে। কখনও-কখনও চলে যায় আর পরমত মনমত ধোঁকা দিয়ে দেয়। আর বিশেষ শ্রীমৎ কী? নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে এক বাবাকে স্মরণ করো। এটা সহজ নাকি কঠিন? কখনও কখনও কঠিন হয়ে যায়! কিন্তু বাবা এটাই চান যে সদা এই তিন সম্বন্ধের দ্বারা প্রত্যেক বাচ্চা আগে-আগে উড়তে থাকো। তো বাপদাদা জিজ্ঞেস করছেন যে যারা হাত তোলোনি তারা আজ থেকে মনমত, পরমতের ত্যাগ করতে পারবে? করতে পারবে? যারা মনে করছো পারবে, তারা হাত তোলো। আচ্ছা! কেননা বাপদাদা সময়ের ঈশারা দিয়ে দিয়েছেন। এখন সঙ্গমের সময় হল অতি ভ্যালুয়েবল। আর বাপদাদা এটাও ঈশারা দিয়েছেন যে বর্তমান সময় অনুসারে সব হঠাৎ করে হবে এইজন্য সদা এভারেডি থাকতে হবে তাই না! সবাই একসাথে যাবে নাকি পিছুনে পিছুনে আসবে? বাপদাদার সাথে নিজের ঘরে যেতে হবে তাই না! রেডি আছো তাই না! সাথে যাওয়ার জন্য রেডি তোমরা? এভারেডি। রেডি-ও নয়, এভারেডি। তো বাপদাদা সময়ের ঈশারা দিচ্ছেন। এই এক জন্মে ২১ জন্মের প্রালব্ধ বানাতে হবে। তাহলে চিন্তা করো কতটা অ্যাটেন্শান দিতে হবে। বাবা প্রত্যেক বাচ্চাকে সমান ভালোবাসেন, বাবা এটাই চাইছেন যে প্রত্যেক বাচ্চা বাবার সাথে যাবে আর এক সাথে রাজ্য অধিকারী হবে।

তো তোমরা সাথে যাওয়ার জন্য বাবার সমান সম্পূর্ণ আর সম্পন্ন হবে তবেই তো সাথে যেতে পারবে তাই না! এই সময় এই ছোটো জন্মে ২১ জন্মের প্রাপ্তি নিশ্চিত। তো চিন্তা করো সঙ্গমের ছোটো জন্মে এক-এক মিনিট কত মহান! হিসাব করো, এই জন্মে ২১ জন্মের রাজ্য ভাগ্য নিতে হবে তাহলে সঙ্গমের এক মিনিটও কত ভ্যালুয়েবল। তো এই ভ্যালুকে জেনে কি করতে হবে?

বাপদাদা প্রথমেই শুনিয়েছেন যে দুটি বিষয়ের উপরে বিশেষ অ্যাটেন্শান দাও। দুটি বিষয় কি কি? স্মরণে আছে তাই না! এক হল সময় আর দ্বিতীয় হল সংকল্প। সংকল্প ব্যর্থ যেন না যায়, সময় ব্যর্থ যেন না যায়। প্রত্যেক সেকেন্ড সফল হবে। তাহলে বলো এতটা অ্যাটেন্শান দিতে হবে তাই না! বাপদাদা তো সকল বাচ্চাকেই ভালোবাসেন। বাপদাদা এটাই চান যে একটি বাচ্চাও যেন বাবার সাথ ছেড়ে না যায়। সাথে আছে, সাথে যাবে, সাথে রাজ্য অধিকারী হয়ে সদা জীবনে সুখ-শান্তির অনুভব করবে। তো বলো, সাথে যাবে তো না! যাবে? এখানে থেকে যাবে না তো? দেখো তিন ভাগ্য তো প্রত্যেকের ললাটে ঝলমল করছে। নিজের ললাটে এই তিন ভাগ্য দেখা যায় তাই না! সঙ্গম যুগই হল ভাগ্যবান যুগ। যে যত ভাগ্য বানাতে চায় ততই বানাতে পারে। কিন্তু অনেক সময়ে অ্যাটেন্শান চাই। তো সকল বাচ্চারা নিজেদের পুরুষার্থে এখন তীব্রতা নিয়ে এসো। পুরুষার্থী তোমরা, বাপদাদা দেখছেন পুরুষার্থ করছে কিন্তু সকলের তীব্রতার পুরুষার্থ এখন হওয়া চাই। বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে বালক তথা মালিক দেখতে চাইছেন। কিসের মালিক? সর্ব খাজানার মালিক। কখনও কখনও কিছু বাচ্চা বাপদাদাকে বলে যে বাবা আপনি তো সর্ব শক্তি দিয়ে দিয়েছেন আর আমরাও নিজেদেরকে মাস্টার সর্বশক্তিমান মনে করি কিন্তু কিছু বাচ্চা অনুযোগ করে যে মাঝে মাঝে যখন যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সেই সময়ে সেই শক্তি আসে না। কিন্তু এর কারণ কি? বাবা প্রত্যেক বাচ্চাকে সর্ব শক্তি দিয়েছেন। দিয়েছেন নাকি কাউকে কম কাউকে বেশী দিয়েছেন? সর্ব শক্তি পেয়েছো? হাত তোলো। সবাই পেয়েছো কিন্তু সময় অনুসারে কেন কাজে আসেনা? এর কারণ কী? কারণটা তোমরা জানোও কিন্তু সেই সময় ভুলে যাও। সর্ব শক্তির খাজানা প্রত্যেক বাচ্চার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে। বাবা সবাইকে সর্ব শক্তির উত্তরাধিকার দিয়েছেন। কাউকে কম কাউকে বেশী দেন নি। সর্ব শক্তি দিয়েছেন কিন্তু সময় অনুসারে কেন কাজে লাগাতে পারো না! তোমরা চিন্তা করো কেউ যদি নিজের স্বমানের সীটে না থাকে তাহলে তার অর্ডার কেউ মান্য করবে? তো যখন প্রয়োজনের সময়ে শক্তি অর্ডার অনুসারে না আসে, তখন বুঝে নেবে যে তোমরা মাস্টার সর্বশক্তিমানের সীটে সেট হও নি এইজন্য বিনা সীটে অর্ডার কেউ মানবে না তো সদা নিজের সীটে সেট থাকো। যখন ওয়েস্ট থটস্ চলে বা টেনশন হয় তখনই স্বমানের সীট থেকে নেমে আসো। বাপদাদা প্রত্যেককে কত স্বমান দিয়েছেন। কত বড় স্বমানের লিস্ট আছে! গণনা করো, কত স্বমান বাবা দিয়েছেন? স্বমানে সেট থাকো না তো যেখানে স্বমান নেই সেখানে কী হয়? তোমরা তো জানো, তাই না! দেহ অভিমান আসে। হয় স্বমান থাকে, নাহয় দেহভান থাকে। তো দেহভানের সীটে বসে অর্ডার করলে শক্তি তো মানবে না। নাহলে তো মাস্টার সর্বশক্তিবানের অর্ডার শক্তি মান্য করবে না, এটা হতেই পারে না। সীটের উপর সেট থাকার অভ্যাস সদা করো। চেক করো, যদি কর্মযোগে থাকো, বা সেবা তে থাকো, বা নিজের মনন মন্থনে থাকো, কিন্তু সীটের উপর সেট থাকলে সর্ব শক্তিগুলি হাজির থাকবে।

আজ বাপদাদা দেখছেন, অমৃতবেলায় চক্কর লাগাচ্ছিলেন। চারিদিকে চক্কর লাগিয়েছেন, বিদেশেও এবং দেশেও। বাপদাদার চক্কর লাগাতে সময় লাগে না। তো কী দেখলেন? বলবো। মেজোরিটি সবাই বসে তো ছিল, ঘুম থেকে উঠে সবাই নিজ নিজ স্থানে বসে ছিল, পুরুষার্থও করছিল যে সমগ্র সময় সবাই অনুভবীমূর্তি হয়ে বসে ছিল কিন্তু কি দেখা গেল? অনুভবী মূর্তি কিছু কিছু বাচ্চা ছিল, কেননা সবথেকে বড় শক্তি হল অনুভবের। অনুভবী স্বরূপ, সর্বশক্তির অনুভবী স্বরূপ, মাস্টার নলেজফুল, মাস্টার সর্বশক্তি স্বরূপ, তো অনুভবী স্বরূপ হওয়াতে কিছু ঘাটতি দেখা গেছে। পুরুষার্থ করছে, বাপদাদা তথাপি অভিনন্দন দিচ্ছেন যে পুরুষার্থ করার জন্য মেজরিটি আসে, মেজরিটি যোগে বসে কিন্তু বাপদাদা এটাই চাইছেন যে লাইট মাইট স্বরূপের অনুভবী মূর্তি হয়ে বসবে, কেননা এই অমৃতবেলার যোগের সাকাশ সমগ্র বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এই অনুভবকে আরও বাড়াও। যেরকম ব্রহ্মা বাবাকে দেখেছো, কত পাওয়ারফুল ফরিস্তা স্বরূপের স্থিতিতে ছিলেন। এইরকমই এই অমৃতবেলায় এখন নিজ নিজ রূপে অ্যাটেন্শন আর অক্লান্ত হয়ে বসো। বাপদাদা দেখেছেন কিছু বাচ্চা লাইট মাইট রূপেও বসে, না নয়, হ্যাঁ-ও আছে। কিন্তু এইসময়ের পুরুষার্থকে আরও অ্যাটেন্শন দিতে হবে আর বাপদাদা পূর্বেও ঈশারা দিয়েছিলেন যে নিজের মনকে সদা বিজি রাখো। সেটা মন্সা সেবায় হোক, বাণীর সেবায় হোক, বা মনন শক্তিতে বিজি রাখো। মনন করো। মনন শক্তি মনকে একাগ্র বানিয়ে দেয়। কিছু কিছু বাচ্চা মনন খুব ভালোই করে কিন্তু মনন শক্তিকেও সারাদিনে বৃদ্ধি করো কেননা বাপদাদা লাস্ট বাচ্চাকেও খুব ভালোবাসেন। লাস্ট বাচ্চার থেকেও বাপদাদা এটাই চান যে বাবার সাথে বাড়ি ফিরে যাবে, এখানে থেকে যাবে না। পিছুনে যেন না থেকে যায়। তো কী করবে? অ্যাটেন্শন।

আজ বাপদাদা সভাকে দেখে জানতেনই যে, বাচ্চাদের বৃদ্ধি হবেই। ৭৫ বছরের জুবিলি পালন করছে। তার জন্য তো বাপদাদা বাচ্চাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বাপদাদা সেবারও লগণ দেখেছেন। প্রত্যেক স্থানের বাচ্চাদের মধ্যে উৎসাহ আছে আর সেবার ফল আর সেবার বল, সেটাও দেখা যাচ্ছে। বাপদাদা বিশেষ দেখেছেন যে যেখানেই বাচ্চারা সেবা করেছে, এইবার সেখানে গভর্নমেন্টের নিমিত্ত হওয়া আত্মারা বেশী এসেছে আর রেজাল্টে তারা এটা মেনে নিয়েছে যে এখনকার সময় অনুসারে যেভাবে দুঃখ অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তো এই যে টপিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটারই প্রয়োজন ছিল, কেননা যতই শান্তি চাইছে ততই অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনও না কোনও অশান্তির কথা এসেই যায়। এইজন্য চারিদিকে আরও টেনশন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন গভর্নমেন্টও চায় যে ভারত টেনশন ফ্রী হয়ে যাক। তো সবাই, যারা সেবা করেছে, সেইসকল বাচ্চাদেরকে বাপদাদা মুবারক দিচ্ছেন আর যারা এইরকম সেবা করতে চাইছে তাদেরকে অ্যাডভান্স অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

বাপদাদা এখন এটাই চাইছেন যে, প্রত্যেক বাচ্চা ফলো ফাদার করে বাবার সমান সম্পন্ন অবশ্যই হবে। বাপদাদা দেখেছেন যে পুরুষার্থও সব বাচ্চারা করছে। পুরুষার্থের লগণও আছে, নিজের কাছে প্রমিশও অনেকে করে - আজ থেকে আর কোনও ভুল করবো না, ভুল করবো না... কিন্তু কি কারণে হয়ে যায়? কারণ হলো পুরুষার্থে দৃঢ়তা কম থাকে। মাঝে মাঝে অলসতা এসে যায়। কাজ হয়ে যাবে, তৈরী হয়ে যাবো... এই অলসতা পুরুষার্থকে ঢীলা করে দেয়। তো এখন কী করবে? এখন এটা বিশেষ অ্যাটেন্শান দাও, নিজেই নিজের প্রোগ্রাম বানাও। মনকে বিজি রাখার জন্য নিজেই নিজের টাইম টেবিল বানাও। মনন করো, সেবা করো বা একে-অপরকে অ্যাটেনশন দাও কিন্তু বিজি রাখো। মন থেকে বিজি, শরীর থেকে বিজি তো হয়েই থাকো কিন্তু মন থেকে বিজি থাকো। মনকে বিজি রাখার ক্ষেত্রে নম্বরওয়ান বিজনেজম্যান হও। এটা করতে পারবে? করবে? করবে? কেননা তোমরা জানো যে ব্রহ্মা বাবাও তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন আর তোমাদের অ্যাডভান্স পার্টিও তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। কবে সময়কে নিকটে নিয়ে আসবে কেননা সময়কে নিকটে নিয়ে আসার দায়িত্ব তোমাদেরই। নিজেকে সম্পন্ন বানানো অর্থাৎ সময়কে নিকটে নিয়ে আসা।

তো বাপদাদা বিশেষ একমাস দিয়েছেন। এই একমাসে প্রত্যেককে তীব্র পুরুষার্থী হয়ে, শুধু পুরুষার্থী নয়, তীব্র পুরুষার্থী হতেই হবে। রাজী আছো? আছো রাজি? হাত তোলো। আচ্ছা অভিনন্দন। এখন প্রত্যেককে দৃঢ় সংকল্প করে প্রতিদিন বাপদাদাকে নিজের সারাদিনের রেজাল্ট কিভাবে দেবে? তীব্র পুরুষার্থের। পুরুষার্থ নয়, তীব্র পুরুষার্থ। এরজন্য তৈরী তোমরা?আছো তৈরী? দুই হাত তোলো। খুব ভালো। এখন বাপদাদা হঠাৎ-ই রেজাল্ট চাইবেন। ডেট বলবেন না। হঠাৎ-ই একমাসের মধ্যে যেকোনও ডেট-এ রেজাল্ট জানতে চাইবেন। করতেই হবে। এই প্রমিস নিজেই নিজের কাছে করো। বাপদাদা করাবেন, তিনি তো করিয়েই থাকেন কিন্তু নিজে থেকে এই সংকল্প করো আর প্র্যাক্টিক্যালে করে দেখাও। করতেই হবে। করবো, বো-বো নয়... এখন বো-বো শুনতে ভালো লাগে না। সময় এগিয়ে চলেছে, অতি মাত্রায় পোঁছাচ্ছে, সময়ের পরিবর্তনকারী পূর্বজদের অর্থাৎ তোমাদের কি নিজেদের দুঃখী পরিবারের উপর করুণা হয় না? করুণাময় হও। দুঃখীদেরকে সুখের রাস্তা বলে দাও, সেটা মন্সা দ্বারা হোক, বাণীর দ্বারা হোক বা সম্বন্ধ-সম্পর্কের দ্বারা। নিজের পরিবার তাই না! তো পরিবারের দুঃখ সমাপ্ত করতে হবে। দয়াবান হও। আচ্ছা।

এখন যারা যেখানে বসে আছো, তোমাদের সবাইকে, যারা টি.ভি. তে দেখছো, বা এখানে ভিন্ন-ভিন্ন স্থানে বসে আছে তারাও টি.ভি.তে দেখছে, প্রত্যেক বাচ্চাকে বাপদাদা আজ তীব্র পুরুষার্থীর টাইটেল দিচ্ছেন। এখন এই টাইটেলকে সদা স্মরণে রাখো। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে তোমরা কে? তো এটাই বলবে - তীব্র পুরুষার্থী। ঠিক আছে, সবাই রাজী তো। রাজী আছো? এখন ঢীলা পুরুষার্থ চলবে না, সময় সামনের দিকে ছুটচ্ছে সেইজন্য এখন তীব্র পুরুষার্থী হতেই হবে।সময়ের আহ্বান হল - তীব্র পুরুষার্থী ভব। তো সকল বাচ্চাদেরকে বাপদাদার অনেক অনেক স্মরণের স্নেহ-সুমন আর তীব্র পুরুষার্থের সওগাত (উপহার) দিচ্ছেন।

বরদান:-
মায়ার নলেজে ইনোসেন্ট আর জ্ঞানে সেন্ট থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ভব

যেরকম সত্যযুগী আত্মারা বিকারের কথার নলেজ থেকে ইনোসেন্ট হয়, সেই সংস্কার স্পষ্ট স্মৃতিতে থাকলে মায়ার নলেজ থেকে ইনোসেন্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ভবিষ্যতের সংস্কারের স্মৃতি স্পষ্ট তখনই থাকবে যখন আত্মিক স্বরূপের স্মৃতি সদাকাল আর স্পষ্ট হবে। যেরকম দেহ স্পষ্ট দেখা যায়, সেইরকম নিজের আত্মার স্বরূপ স্পষ্ট দেখা যাবে অর্থাৎ অনুভবে আসবে, তখন বলা হবে মায়ার থেকে ইনোসেন্ট আর জ্ঞানে সেন্ট অর্থাৎ সম্পূর্ণ পবিত্র।

স্লোগান:-
অন্তরের অশুদ্ধিই সম্পূর্ণ শুদ্ধ হওয়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে ।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো তোমরা ঈশ্বরীয় সেবাধারী সেবা করো নাকি সেবা নাও! যদি সেবা নিতে থাকো তাহলে কর্তব্য অনুসারে নাম হলো না। খুদাই খিদমতগার সেবা নেয় না, সেবা করে, কারণ তোমরা হলে দাতার বাচ্চা। যেরকম বাবা কিছু নেন না, তিনি তো সদা দিতে থাকেন, এইরকম তোমরাও দাতা হও। যদি কখনও প্রবলেম রূপ হও তবুও সেবা নিতে থাকো। কোনও প্রকারের এক্সট্রা সেবা নেওয়া আত্মাদের মধ্যে কখনও এই নেশা থাকবে না যে আমরা হলাম দাতা, বরদাতার সন্তা। বিশেষ সূচনা :- মাসের তৃতীয় রবিবারের যোগ অভ্যাস আজ হল মাসের তৃতীয় রবিবার, সকল ভাই-বোন সংগঠিতরূপে একত্রিত হয়ে সন্ধ্যা ৬.৩০ থেকে ৭.৩০ পর্যন্ত নিজের জ্ঞান স্বরূপ স্থিতিতে স্থিত হয়ে, জ্ঞানের লাইট আর যোগের মাইট সকল আত্মাদেরকে দিয়ে সঠিক পথ দেখিয়ে তার উপর চলার শক্তি প্রত্যেক আত্মা পর্যন্ত পৌঁছাবে এইরকম শুভ সংকল্পের দ্বারা বিশ্ব কল্যাণের সেবা করো।