22.04.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা বাবার স্মরণে অ্যাক্যুরেট যদি থাকো, তবে তোমাদের চেহারা সদা ঝলমলে হাসিখুশী
থাকবে"
প্রশ্নঃ -
স্মরণে বসার
বিধি কী তথা তার থেকে কী কী লাভ হয়?
উত্তরঃ
যখন স্মরণে বসো
তখন বুদ্ধি থেকে সব কেজো কথাবার্তার জটিলতাকে ভুলে নিজেকে দেহী (আত্মা) মনে করো।
দেহ আর দেহের সম্বন্ধ হলো একটা বড় জাল, সেই জালকে গিলে ফেলে দেহ-অভিমানের ঊর্ধ্বে
চলে যাও অর্থাৎ আমি মরলে আমার কাছে দুনিয়াও মৃত। এ জীবনে থেকেও এই দুনিয়ার সব কিছু
ভুলে কেবল এক বাবাকেই স্মরণ করো। এটাই হলো অশরীরী অবস্থা, এর দ্বারা আত্মার
মধ্যেকার জং কাটতে থাকবে।
গীতঃ-
রাতের পথিক
ক্লান্ত হয়ো না....
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা
স্মরণের যাত্রাতে বসে আছে, যাকে বলা হয় ধ্যানে (নেষ্ঠা) বা শান্তিতে বসে আছে। কেবল
শান্তিতে বসে না, তার সাথে সাথে কিছু করতে থাকে। স্বধর্মে স্থিত হয়ে থাকে । কিন্তু
তোমরা যাত্রাতেও রয়েছো। এই যাত্রা শেখান বাবা, তিনি সাথে করেও নিয়ে যান। ওরা হল
শারীরিক ভাবে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মানো ব্রাহ্মণ, যারা তোমাদেরকে (তীর্থে) নিয়ে যায়।
তোমরা হলে রুহানী ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ বর্ণ বা ব্রাহ্মণ কুল। এখন বাচ্চারা তোমরা
স্মরণের যাত্রাতে বসে আছো। অন্যান্য সৎসঙ্গে বসে থাকলে গুরুর স্মরণ আসবে যে গুরু এসে
প্রবচন শোনাবেন । ও সব কিছুই হল সব ভক্তি মার্গ। আর এ হল স্মরণের যাত্রা, যার দ্বারা
বিকর্ম বিনাশ হয়। তোমরা স্মরণে বসো যাতে জং বা মরিচা দূর হয়ে যায় । বাবার
ডাইরেকশন হল স্মরণের দ্বারাই জং দূর হবে, কারণ পতিত পাবন হলাম আমি। কেউ স্মরণ করলে
আমি আসি না। আমার আসাও ড্রামাতে লেখা রয়েছে। যখন পতিত দুনিয়া বদলে গিয়ে পবিত্র
দুনিয়া হয়, যে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম যা প্রায় লুপ্ত হয়ে যায়, তার স্থাপনা
তিনি ব্রহ্মার দ্বারা পুনরায় করেন। যে ব্রহ্মার বিষয়ে তোমাদেরকে বোঝানো হয়েছে -
যিনি ব্রহ্মা তিনিই বিষ্ণু, সেকেন্ডে হন। তারপর বিষ্ণু থেকে ব্রহ্মা হতে ৫ হাজার
বছর লেগে যায়। এও বুদ্ধি দিয়ে বোঝার মতো বিষয়। তোমরা যে শূদ্র ছিলে, এখন ব্রাহ্মণ
বর্ণে এসে গেছো। তোমরা যখন ব্রাহ্মণ হও তখন শিব বাবা ব্রহ্মার দ্বারা তোমাদেরকে
স্মরণের যাত্রা শেখান, খাদ বের করে দেওয়ার জন্য। এই (সৃষ্টি) রচনার চক্র কীভাবে
আবর্তিত হয় সেটা তো তোমরা বুঝে গেছো। তাতে বিশেষ দেরী হয় না। এখন হল একেবারেই
কলিযুগ। তারা তো কেবল বলে কলিযুগের এখন তো কেবল আদিকাল আর তোমাদেরকে বলেন এখন হল
কলিযুগের অন্তিম সময়। ঘোর তমসাচ্ছন্ন এখন। বাবা বলেন, আমি তোমাদেরকে এই সমস্ত বেদ
শাস্ত্রের সার বোঝাচ্ছি।
তোমরা বাচ্চারা সকাল
বেলায় যখন এখানে বসো, তখন তোমাদের বাবার স্মরণে বসতে হয়। নাহলে মায়ার ঝড় চলে
আসবে। ব্যবসাপত্রের দিকে বুদ্ধিযোগ যেতে চাইবে। এ সব তো বাইরের জটিলতা, তাই না?
যেমন মাকড়সা কতো জাল বিস্তার করে। সব কিছুকেই গ্রাস করে ফেলে। দেহের প্রপঞ্চনাও কম
নয়। কাকা, চাচা, মামা, গুরু, গোঁসাই...কত না জাল দেখতে পাওয়া যায়। সেই সব
কিছুকেই গিলে ফেলতে হবে দেহ সহ। কেবল একমাত্র দেহী হতে হবে। মানুষ যখন শরীর ত্যাগ
করে তখন সব কিছু ভুলে যায়। আমি মরলে আমার কাছে দুনিয়া মৃত। এটা এখন তোমাদের
বুদ্ধিতে জ্ঞান আছে যে, এই দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। বাবা বোঝান - যার মুখ চলে না অর্থাৎ
জ্ঞান শোনাতে পারে না তারা কেবল বাবাকে স্মরণ করো। যেমন ইনি (ব্রহ্মা) বাবাকে স্মরণ
করেন। কন্যা তার পতিকে স্মরণ করে, কেননা পতি পরমেশ্বর হয়ে যায়, সেইজন্য বাবার থেকে
বুদ্ধিযোগ সরে গিয়ে পতির দিকে চলে যায়। আর ইনি তো হলেন পতিদেরও পতি, ব্রাইডগ্রুম
তিনি। তোমরা সবাই হলে ব্রাইডস (কনে), ভগবানের সবাই ভক্তি করে। সব ভক্তরা রাবণের
পাহারায় বন্দী, তো বাবার অবশ্যই বাচ্চাদের জন্য দয়া হবে, তাই না ! বাবা হলেন
করুণাময, তাঁকেই করুণাময় বলা হয়। এই সময় গুরু তো অনেক প্রকারেরই আছে। যিনি কিছু
শিক্ষা প্রদান করেন তাকেই গুরু বলে দেয়। এখানে তো বাবা প্র্যাকটিক্যালে রাজযোগ
শেখান। এই রাজযোগ কেউই শেখাতে পারবে না, একমাত্র পরমাত্মা ছাড়া। পরমাত্মাই এসে
রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। তারপর এর দ্বারা কী হয়েছিল? এটা কারোরই জানা নেই। গীতার
প্রমাণ তো অনেক দেয়। ছোট্ট ছোট্ট কন্যারাও গীতা কন্ঠস্থ করে ফেলতে পারে। কিছু না
কিছু তার মহিমা হয় ঠিকই। গীতা গুম হয়ে যায়নি। গীতার অনেক মহিমা রয়েছে। গীতা
জ্ঞানের দ্বারাই বাবা সমগ্র দুনিয়াকে রিজুভিনেট (পুনর্নব) করেন। তোমাদের কায়া (শরীর)
কল্পতরু, কল্প বৃক্ষের মতো বা অমর বানিয়ে দেন।
তোমরা বাচ্চারা বাবার
স্মরণে থাকো, বাবাকে তোমরা আহ্বান করো না । তোমরা বাবার স্মরণে থেকে নিজের উন্নতি
করছো। বাবার ডাইরেকশনে চলারও ইচ্ছা থাকা চাই। তোমরা শিববাবাকে স্মরণ করেই আহার
গ্রহণ করবে। অর্থাৎ শিববাবার সাথেই খাওয়া। অফিসেও একটু আধটু টাইম তোমরা পেয়ে থাকো।
বাচ্চারা বাবাকে লেখে (অফিসে) চেয়ারে বসলেই আমি তোমার স্মরণে বসে যাই। অফিসার এসে
দেখে, এ তো বসে বসেই হারিয়ে গেছে অর্থাৎ অশরীরী হয়ে যায়। কারো চোখ বন্ধ হয়ে যায়,
কারো খোলাও থাকে। কেউ আবার এমন ভাবেও বসে থাকে - কিছুই সে যেন দেখছে না। যেন হারিয়ে
গেছে। এমন এমন সব হয়। বাবা রশি ধরে টানেন আর তারা আনন্দে ডুবে থাকে। কী হয়েছে
প্রশ্ন করলে বলে - আমি তো বাবার স্মরণে বসেছিলাম। বুদ্ধিতে থাকে আমাকে যেতে হবে
বাবার কাছে। বাবা বলেন, সোল কনশাস হলে তোমরা আমার কাছে এসে যাবে। সেখানে পবিত্র না
হলে যেতে পারবে নাকি ! এখন পবিত্র কীভাবে হবে? সেটা বাবাই বলতে পারবেন। মানুষ সেটা
বলতে পারবে না। তোমরা যদি কিছুটা হলেও বুঝে থাকো তবে অন্যদেরও কল্যাণ করবে। তোমাদের
কারো না কারো কল্যাণ করে, বাবার পরিচয় দেওয়ার পুরুষার্থ অবশ্যই করতে হবে। ভক্তি
মার্গে মানুষ 'ও গড ফাদার !' বলে স্মরণ করতে থাকে। গড ফাদার করুণা করো। ভগবানকে
ডাকার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে যেন। বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে নিজের মতো কল্যাণকারী
বানিয়ে থাকেন। মায়া সবাইকে কতখানি অবোধ বানিয়ে দিয়েছে । লৌকিক বাবাও বাচ্চার আচরণ
ঠিক না দেখলে বলে তুমি তো একেবারেই নির্বোধ। এক বছরের মধ্যেই বাবার সমস্ত সম্পত্তি
উড়িয়ে দেবে। তো অসীম জগতের পিতাও বলেন, তোমাদেরকে কী বানিয়েছিলাম, এখন নিজের
আচরণকে দেখো। এখন তোমরা বাচ্চারা বুঝতে পারো যে, কেমন ওয়ান্ডারফুল খেলা এটা !
ভারতের কতখানি ডাউনফল হয়ে যায় ! ডাউনফল অফ ভারতবাসী। তারা তো নিজেদেরকে এমন মনে
করেনা যে আমাদের পতন হয়েছে, আমরা কলিযুগী তমোপ্রধান হয়েছি। ভারত স্বর্গ ছিল অর্থাৎ
মানুষ স্বর্গের অধিবাসী ছিল, সেই মানুষই এখন নরকবাসী হয়েছে। এই জ্ঞান কারোর মধ্যেই
নেই। এ তো ব্রহ্মা বাবা নিজেও জানতেন না। এখন বুদ্ধিতে চমৎকারিত্ব এসে গেছে। ৮৪
জন্ম নিতে নিতে সিঁড়ি দিয়ে অবশ্যই নামতেই হবে, উপরে চড়বার জায়গাও নেই। নীচে
নামতে নামতে পতিত হতে হয়। এ'কথাটা কারোরই বুদ্ধিতে নেই। বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে
বুঝিয়েছেন, তারপর তোমরা ভারতবাসীদেরকে বুঝিয়ে থাকো যে, তোমরা স্বর্গবাসী ছিলে এখন
নরকবাসী হয়েছো। ৮৪ জন্মও তোমার নিয়েছো। পুনর্জন্মকে তো তারা মানে, তাই না ! তাহলে
অবশ্যই নীচে নামতে হবে। কত বার পুনর্জন্ম নিয়েছে, সেও বাবা তোমাদেরকে বুঝিয়েছেন।
এখন তোমরা ফিল করতে পারো যে, আমরা দেবী - দেবতা ছিলাম, তারপর রাবণ আমাদেরকে পতিত
বানিয়েছে । বাবাকে এসে পড়াতে হয়, শূদ্র থেকে দেবতা হওয়ার জন্য। বাবাকে লিবারেটর,
গাইড বলা হয়। কিন্তু তার অর্থ মানুষ জানে না। এখন সেই সময় খুব তাড়াতাড়ি আসবে যখন
সকলেই জানতে পারবে - দেখো কী থেকে কী হয়ে গেছে ! ড্রামা কেমন ভাবে তৈরী হয়ে আছে,
কারো স্বপ্নেও ছিল না যে, আমরা লক্ষ্মী-নারায়ণের মতোও হতে পারি ! বাবা তোমাদেরকে
কতখানি স্মৃতিতে নিয়ে আসেন ! এখন বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিতে হলে শ্রীমৎ অনুসারে
চলতে হবে। স্মরণের যাত্রার প্র্যাক্টিস করতে হবে। তোমরা জানো পাদরীরা যখন হেটে যায়,
তখন কতো সাইলেন্সে যায়? তারা তখন ক্রাইস্টের স্মরণে থাকে । তাদের ভালোবাসা হ
খ্রাইস্টের প্রতি। তোমরা হলে রুহানী পান্ডা, তোমাদের প্রীতবুদ্ধি হলো পরমপ্রিয়
পরমপিতা পরমাত্মার সাথে । বাচ্চারা জানে নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে কল্প
পূর্বের মতো রাজধানী অবশ্যই স্থাপন হবে, যত (তোমরা) পুরুষার্থ করে শ্রীমৎ অনুসারে
চলবে। বাবা তো খুব ভালো ভালো মত দেন। তারপরেও গ্রহের দশা এমন ভাবে বসে যায় যে আর
শ্রীমতেই চলে না তখন। তোমরা জানো যে, শ্রীমৎ অনুসারে চললেই বিজয়। নিশ্চয়েই রয়েছে
বিজয়। বাবা বলেন, তোমরা আমার মতে চলো। কেন ভাবো যে এই মত ব্রহ্মা প্রদান করছেন? সব
সময় জানবে এই রায় শিববাবা দিচ্ছেন। তিনি তো সার্ভিসেরই মত প্রদান করবেন। কেউ
জিজ্ঞাসা করে - এই ব্যাবসাটা করবো? বাবা তো এই সব বিষয়ের উপরে মত প্রদান করবেন না।
বাবা বলেন, আমি এসেছি পতিত থেকে পবিত্র হওয়ার যুক্তি বলে দিতে, এই সব বিষয়ে বলার
জন্য আসেননি। আমাকে আহ্বানও করে - হে পতিত পাবন এসে আমাদেরকে পবিত্র বানাও। তাই আমি
সেই যুক্তি বলে দিই, যেটা খুবই সহজ। তোমাদের নামই হল গুপ্ত সেনা। মানুষ তাতে
অস্ত্রশস্ত্র, তীর ধনুক (বাণ) এ'সব দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এতে তীর ধনুক ইত্যাদির
কোনো ব্যপারই নেই। এ সবই হল ভক্তি মার্গ।
বাবা এসে সত্যিকারের
মার্গ প্রদর্শন করেন - যার দ্বারা অর্ধ কল্প তোমরা সত্য খন্ডে চলে যাও। সেখানে
দ্বিতীয় আর কোনো খন্ড হয়ই না। কাউকে বোঝালেও বুঝতে পারে না, বলে এটা কী করে হতে
পারে যে, কেবল ভারতই ছিল ? ক্রাইস্টের ৩ হাজার বছর পূর্বে ভারত স্বর্গ ছিল না? তখন
তো আর কোনো ধর্ম ছিল না। তারপর বৃক্ষ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তোমরা কেবল তোমাদের বাবাকে,
নিজের ধর্মকে, তোমাদের কর্মকে ভুলে গেছো। নিজেদেরকে দেবী-দেবতা যদি মনে করতে, তাহলে
ওই সব কুখাদ্য গুলি (মাছ, মাংস, মদিরা ইত্যাদি) তোমরা খেতে না। কিন্তু খায় - কেননা
তাদের মধ্যে সেই সব (দেবী-দেবতাদের) গুণ নেই। সেইজন্য নিজেদেরকে হিন্দু বলে দেয়।
নাহলে তো লজ্জা আসার কথা যে, আমাদের বড়রা এমন পবিত্র আর আমরা এই রকম পতিত হয়ে গেছি
! কিন্তু নিজেদের ধর্মকে মানুষ ভুলে গেছে। এখন তোমরা ড্রামার আদি মধ্য অন্তকে খুব
ভালো ভাবে বুঝে গেছো। এমন কোনো প্রশ্ন সামনে এলে সে'গুলোর ব্যাপারে তোমরা বলতে পারো
যে, বাবা এখনও এ বিষয়ে কিছু বলেননি। নাহলে শুধু শুধু হতাশ হয়ে পড়বে। তাদেরকে বলো,
আমরা এখন পড়ছি, সব কিছু এখনই জেনে গেলে তবে তো বিনাশ হয়ে যাবে। এখনও কিছুটা
মার্জিন আছে, আমরা এখন পড়ছি। শেষে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যাব। নম্বর অনুযায়ী
পুরুষার্থ অনুসারে জং দূর হতে থাকবে, তখন সতোপ্রধান হয়ে যাব। তখন এই পতিত দুনিয়ার
বিনাশ হয়ে যাবে। আজকাল মানুষ বলছেও পরমাত্মা কোথাও অবশ্যই এসেছেন, কিন্তু গুপ্ত
রয়েছেন। সময় তো বিনাশের এখন তাই না ! বাবাই লিবারেটর, গাইড, যিনি আবার আমাদেরকে
ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। মশার মতো সবাই মারা পড়বে। এত বোঝা যায় যে, সবাই একরস স্মরণে
বসে না। কারো অ্যাক্যুরেট যোগ থাকে, কারো আধ ঘণ্টা, কারো ১৫ মিনিট। কেউ কেউ তো এক
মিনিটও স্মরণে থাকে না । কেউ কেউ বলে আমি সব সময় বাবার স্মরণে থাকি, তাহলে অবশ্যই
তার চেহারা হাসিখুশী ঝলমলে দেখাবে। অতীন্দ্রিয় সুখ এমন বাচ্চাদেরই থাকে। তাদের
বুদ্ধি কখনোই এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় না। তারা নিশ্চয়ই সুখ ফিল করতে থাকবে। তোমাদের
বুদ্ধিও এটাই বলবে, এক প্রিযতমের স্মরণে বসে যদি থাকি, তবে কতো জং দূর হতে থাকবে।
এরপর এটারই অভ্যাস হয়ে যাবে। স্মরণের যাত্রার দ্বারা তোমরা এভারহেল্দি,
এভারওয়েল্দি হয়ে যাও। সৃষ্টি চক্রের কথাও স্মরণে এসে যায়। পরিশ্রম কেবল স্মরণে
থাকার। বুদ্ধিতে চক্রও আবর্তিত হতে থাকবে।
এখন তোমরা মাস্টার
বীজ হচ্ছো। বাবাকে স্মরণ করার সাথে সাথে স্বদর্শন চক্রকেও মনে মনে ঘোরাতে হবে। তোমরা
ভারতবাসীরা হলে লাইট হাউস। স্পীরিচুয়্যাল লাইট হাউস, তোমরা সবাইকে তাদের প্রকৃত
গৃহের রাস্তা বলে দিচ্ছো। সেটাও তো বোঝাতে হয়, তাই না.! তোমরা মুক্তি জীবনমুক্তির
রাস্তা সবাইকে বলে দিচ্ছো। সেইজন্য তোমরা হলে স্পীরিচুয়্যাল লাইট হাউস।তোমাদের
স্বদর্শন চক্র আবর্তিত হতে থাকে। নাম লিখতে হলে বোঝাতে তো হবে। বাবা বোঝাতে থাকেন,
তোমরা সামনে বসে রয়েছো। যারা পিয়ার সাথে আছে, তাদেরই সামনেই হয় বরিষণ। সবচেয়ে
বেশী মজা হল সামনে থাকার। তারপর সেকেন্ড নাম্বার হলো টেপ রেকর্ডার, থার্ড নাম্বার
হলো মুরলী। শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারা সব কিছু বোঝান। এই ব্রহ্মাও তো জানেন, তাই না !
তা সত্ত্বেও তোমরা এটাই জানবে যে, "শিববাবাই বলছেন" । এটা না বুঝতে পারার কারণে
অনেক বেশী অবজ্ঞা করতে থাকে। শিববাবা যা বলেন, সবই হল কল্যাণকারী। যদি অকল্যাণও হয়,
সেটাও কল্যাণের রূপেই বদলে যায়। আচ্ছা ।
মিষ্টি মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মিক পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
বাবার প্রতিটি ডাইরেকশনে চলে নিজের উন্নতি করতে হবে। এক বাবার সাথে সত্যিকারের
প্রীতি রাখতে হবে। স্মরণে থেকেই খাবার প্রস্তুত করতে হবে, খেতে হবে।
২ ) স্পীরিচুয়্যাল
লাইট হাউস হয়ে সবাইকে মুক্তি জীবনমুক্তির রাস্তা বলে দিতে হবে। বাবার মতো
কল্যাণকারী অবশ্যই হতে হবে।
বরদান:-
ঈশ্বরীয় মর্যাদায় (শান) স্থিত থেকে প্রতিটি কর্মকে চমৎকার করে তোলা সকল দুশ্চিন্তা
থেকে মুক্ত ভব
সর্বদা এই ঈশ্বরীয়
মর্যাদায় অবস্থান করো যে - আমি হলাম বাপদাদার নয়নের মণি, আমার এই নয়নে বা নজরে কোনো
জাগতিক বস্তু স্থান পেতে পারে না। এই মর্যাদায় থাকলে ভিন্ন-ভিন্ন প্রকারের
দুশ্চিন্তা নিজে থেকেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। কোনো রকম কমপ্লেন থাকবে না। যে যত নিজের
উচ্চ মর্যাদায় স্থিত থাকে,সে সহজেই মান প্রাপ্ত করে থাকে আর তার প্রতিটি কর্মই
চমৎকার হয়।
স্লোগান:-
ট্রাস্টি সেই হয় যে সবকিছু বাবাকে সঁপে দেয়।
অব্যক্ত ইশারা :-
মহান হওয়ার জন্য মধুর এবং নম্রতার গুণ ধারণ করো
তোমাদের প্রতিটি কথায়
যেন মধুরতা,সন্তুষ্টতা,সারল্যের নবীনতা থাকে। ব্রাহ্মণ আত্মাদের কথা যেন সাধারণ কথা
না হয়। এটিই হলো মহানতা আর এটাই নবীনতা। মধুর কথা, মধুর সংস্কার, মধুর স্বভাব দ্বারা
অন্যদেরও মুখ মিষ্টি করাতে থাকো। সদা অক্লান্ত (অথক/ক্লান্তিহীন) ভব আর মধুর ভব'র
বরদানে এগিয়ে চলো আর উড়তে থাকো ।