23.04.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- ভোলানাথ, মোস্ট বিলভেট বাবা তোমাদের সম্মুখে বসে রয়েছেন, তোমরা প্রেম-পূর্বক স্মরণ করো তবেই একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে, বিঘ্ন সমাপ্ত হয়ে যাবে"

প্রশ্নঃ -
ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের কোন্ কথাটি স্মরণে থাকলে কখনও বিকর্ম হবে না?

উত্তরঃ  
যে কর্ম আমরা করবো আমাদের দেখে অন্যরাও করবে - এ'কথা স্মরণে থাকলে বিকর্ম হবে না। যদি কেউ গোপনেও পাপকর্ম করে তবে তা ধর্মরাজের কাছে গুপ্ত থাকতে পারে না, তৎক্ষণাৎ তার সাজাভোগ করতে হবে। ভবিষ্যতে আরো কঠিন মার্শাল ল' (সামরিক আইন) প্রযুক্ত হবে। এই ইন্দ্রসভায় কোনও পতিত লুকিয়ে বসে থাকতে পারে না।

গীতঃ-
ভোলানাথের থেকে অনুপম আর কেউ নেই....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা-রূপী বাচ্চারা জানে যে এখন আধ্যাত্মিক পিতা আমাদের এই সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান শোনাচ্ছেন। ওনার নামই হলো ভোলানাথ। বাবা অত্যন্ত ভোলা, কত কষ্ট সহন করেও বাচ্চাদের পড়ান। প্রতিপালন করেন। যখন আবার বড় হয় তখন সবকিছু তাদের দিয়ে স্বয়ং বাণপ্রস্থ অবস্থায় চলে যান। মনে করেন, আমি দায়িত্ব পালন করেছি, এখন বাচ্চারা জানে। তাহলে বাবা তো অবশ্যই হলেন ভোলা, তাই না! সেটাও এখন বাবা-ই বোঝান কারণ তিনি স্বয়ং ভোলানাথ। তাই পার্থিব জগতের বাবার উদ্দেশ্যেও বোঝান যে উনিও(ব্রহ্মা) কত ভোলা। উনি হলেন পার্থিব জগতের ভোলানাথ। ইনি আবার হলেন অসীম জগতের ভোলানাথ বাবা। পরমধাম থেকে আসেন পুরানো দুনিয়া, পুরানো শরীরে সে'জন্য মানুষ মনে করে যে পুরানো অপবিত্র শরীরে কিভাবে আসবে? না বোঝার কারণে পবিত্র শরীরধারী কৃষ্ণের নাম রেখে দিয়েছে। এই গীতা, বেদ, শাস্ত্রাদি আবারও তৈরী হবে। দেখো, শিববাবা কত ভোলা। যখন আসেন তখনও এমন অনুভব করান - যেন বাবা এখানেই বসে রয়েছেন। এই সাকার বাবাও তো ভোলা, তাই না! কোনো উত্তরীয় নয়, কোনো তিলকাদি নয়। বরং সাধারণ বাবা তো বাবা-ই। বাচ্চারা জানে যে - সমগ্র এই নলেজ শিববাবাই দেন, আর কারোর সাহস নেই যে দিতে পারে। দিনে-দিনে বাচ্চাদের ধ্যান বৃদ্ধি পেতে থাকে। যত বাবাকে স্মরণ করবে ততোই ভালোবাসা বাড়তে থাকবে। তিনি হলেন মোস্ট বিলভেট বাবা, তাই না! কেবল এখন নয়, ভক্তিমার্গেও তোমরা বিলভেট মোস্ট মনে করতে। তোমরা বলতে - বাবা, যখন তুমি আসবে তখন আর সকলের প্রতি লভ ছেড়ে একমাত্র বাবার প্রতিই লভ থাকবে। তোমরা এখন জানোও, কিন্তু মায়া এতটা ভালবাসতে দেয় না। মায়া চায় না যে এ আমাকে ছেড়ে বাবাকে স্মরণ করুক। সে চায় যে দেহ-অভিমানী হয়ে আমাকে ভালোবাসুক। মায়া এটাই চায় সেইজন্য কত বিঘ্ন ঘটায়। তোমাদের বিঘ্নকে পার করতে হবে। বাচ্চাদের কিছু তো পরিশ্রম করা উচিত, তাই না! পুরুষার্থের মাধ্যমেই তোমরা নিজেদের প্রালব্ধ পাও। বাচ্চারা জানে, উচ্চপদ পাওয়ার জন্য কত পুরুষার্থ করতে হবে। এক হলো বিকারকে দান করে দিতে হবে, দ্বিতীয় বাবার থেকে যে অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের ধন-সম্পদ পাওয়া যায় তা দান করতে হবে। যে অবিনাশী ধনের দ্বারাই তোমরা এত ধনবান হয়ে যাও। নলেজ হলো সোর্স অফ ইনকাম। ওটা হলো শাস্ত্রের ফিলোসফি, এটা হলো স্পিরীচুয়্যাল নলেজ। শাস্ত্রাদি পড়েও অনেক ইনকাম করে। একটি কুঠুরিতে গ্রন্থাদি রেখে দেয়, অল্প কিছু শোনায়, ব্যস্ ইনকাম হয়ে যাবে। এ কোনও যথার্থ নলেজ নয়। যথার্থ নলেজ একমাত্র বাবা-ই দেন। যতক্ষণ পর্যন্ত এই আধ্যাত্মিক নলেজ পাওয়া না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত ওই শাস্ত্রের ফিলোসফি বুদ্ধিতে থাকে। তোমাদের কথা শোনে না। তোমরা হলে অতি অল্পসংখ্যক। এ তো ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে এই আধ্যাত্মিক নলেজ বাচ্চারা আধ্যাত্মিক পিতার কাছ থেকে নিয়েছে। নলেজ হলো সোর্স অফ ইনকাম। অনেক ধন-সম্পদ প্রাপ্ত হয়। যোগ হলো সোর্স অফ হেল্থ অর্থাৎ নিরোগী কায়া পাওয়া যায়। জ্ঞানের দ্বারা ওয়েল্থ। এই দুটিই হলো মুখ্য সাবজেক্ট। কেউ আবার ভালোভাবে ধারণ করে, কেউ কম ধারণ করে। তাহলে সম্পদও নম্বরের অনুক্রমে অল্পই প্রাপ্ত হবে। সাজা ইত্যাদি ভোগ করে পদ পায়। সম্পূর্ণরূপে স্মরণ করে না তাই বিকর্ম বিনাশ হয় না। পুনরায় সাজা ভোগ করতে হয়। পদও ভ্রষ্ট হয়ে যায়। যেমন স্কুলে হয়। এ হলো অসীম জগতের জ্ঞান, এর দ্বারাই তরী পার হয়ে যায়। ওই জ্ঞানে ব্যারিস্টারি, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হয়। এখানের পড়া তো এক(বিষয়েই)। যোগ এবং জ্ঞানের দ্বারা এভার-হেল্দী, ওয়েল্দী হয়ে যায়। প্রিন্স হয়ে যায়। ওখানে অর্থাৎ স্বর্গে কোনো ব্যারিস্টার, জজ ইত্যাদি হয় না। ওখানে ধর্মরাজেরও কোনো প্রয়োজন পড়ে না। না গর্ভজেলে সাজা, না ধর্মরাজপুরীর সাজা ভোগ করতে হয়। গর্ভ-মহলে অত্যন্ত সুখে থাকে। এখানে গর্ভ-জেলে সাজাভোগ করতে হয়। এ'সমস্ত কথা তোমরা বাচ্চারাই এখন বোঝো। এছাড়া শাস্ত্রে, সংস্কৃতে শ্লোক ইত্যাদি তো মানুষই তৈরী করেছে। (মানুষ) জিজ্ঞাসা করে যে সত্যযুগে কোন ভাষা থাকবে? বাবা বোঝান - দেবতাদের ভাষা যা হবে, সেটাই চলবে। যা ওখানকার ভাষা হবে, তা আর কোথাও থাকতে পারে না। এরকম হতে পারে না যে ওখানকার ভাষা সংস্কৃত। দেবতাদের আর অপবিত্র মানুষের ভাষা এক হতে পারে না। ওখানে যে ভাষার প্রচলন থাকবে সেটিই চলবে। এতে জিজ্ঞাসা করার মতন কিছু নেই। প্রথমে বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে নাও। যা কল্প-পূর্বে হয়েছে সেটাই হবে। প্রথমে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করো, অন্য কোনও কথা জিজ্ঞাসাই কোরো না। আচ্ছা, ৮৪ জন্মই নয়, ৮০ অথবা ৮২ হোক, এইসমস্ত কথা তোমরা ছেড়েই দাও। বাবা বলেন - অল্ফকে স্মরণ করো। অবশ্যই স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত করো, তাই না! অনেকবার তোমরা স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত করেছো। উত্তরণ থেকে অবরোহণও তো করতে হবে। এখন তোমরা মাস্টার জ্ঞানসাগর, মাস্টার সুখসাগর হয়ে যাও। তোমরা হলে পুরুষার্থী। বাবা হলেন সম্পূর্ণ। বাবার মধ্যে যে নলেজ রয়েছে তা বাচ্চাদের মধ্যেও রয়েছে। তোমাদের কিন্তু জ্ঞানের সাগর বলা যাবে না। সাগর তো একটিই কেবল অনেক নাম রেখে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তোমরা হলে জ্ঞানসাগর থেকে নির্গত হওয়া নদী। তোমরা হলে মানসরোবর, নদীসমূহ। নদীসমূহের নামও রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র অনেক বড় নদী। কলকাতায় নদী আর সাগরের সঙ্গম(স্থল) রয়েছে। তার নামও আছে, ডায়মন্ড হারবার। তোমরা ব্রহ্মা মুখবংশাবলীরাও হীরে-তুল্য হয়ে যাও। অতি বড় মেলা হয়। বাবা এই ব্রহ্মার শরীরে এসে(প্রবেশ করে) বাচ্চাদের সঙ্গে মিলিত হন। এ'সব বোঝার মতন বিষয়। পুনরায় বাবা বলেন - "মন্মনাভব" । বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। তিনি মোস্ট বিভভেট, সর্ব-সম্বন্ধেই স্যাকারিন । ওইসব সম্বন্ধীয়রা হলো বিকারী। তাদের থেমে থেকে দুঃখই প্রাপ্ত হয়। বাবা তোমাদের সবকিছুর ফল দিয়ে দেন। সর্ব-সম্বন্ধেই ভালবাসা দেন, কত সুখ প্রদান করেন। আর কেউ এত সুখ দিতে পারে না। কেউ দিলে তবে তা অল্প সময়ের জন্য। যাকে সন্ন্যাসীরা কাক-বিষ্ঠার সমান সুখ বলে। দুঃখধামে তো অবশ্যই দুঃখ থাকবে। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে আমরা অনেকবার এই পার্ট প্লে করেছি। কিন্তু আমরা উচ্চপদ কীভাবে লাভ করবো, তার চিন্তা থাকা উচিত। অনেক পুরুষার্থ করতে হবে যাতে আমরা ওখানে অনুত্তীর্ণ হয়ে না যাই। ভালো নম্বর নিয়ে পাশ করলে উচ্চপদ লাভ করবে এবং তারা খুশিও হবে। সকলেই তো এক সমান হবে না, যতখানি যোগ লাগবে। অসংখ্য গোপিকারা রয়েছে যারা কখনো সাক্ষাৎও করেনি। বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে যায়। সাধু-সন্ন্যাসীদের জন্য ব্যাকুল হওয়ার কোনো কথাই নেই। এখানে শিববাবার সঙ্গে মিলিত হতে আসে। বিস্ময়কর কথা, তাই না! ঘরে বসে স্মরণ করে, শিববাবা আমরা তোমার সন্তান। আত্মার স্মৃতি আসে। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে আমরা শিববাবার কাছ থেকে প্রতি কল্পে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। সেই বাবা-ই কল্পের শেষে এসেছেন। না দেখে থাকতে পারা যায় না। আত্মা জানে বাবা এসেছেন। শিব-জয়ন্তীও পালন করে কিন্তু জানে না কিছুই। শিববাবা এসে পড়ান, এ'সব কিছুই জানে না। নামেই শিব-জয়ন্তী পালন করে। ছুটিও দেয় না। যিনি উত্তরাধিকার দিয়েছেন, তাঁর কোনও মহত্ব নেই। আর যাকে(কৃষ্ণকে) উত্তরাধিকার দিয়েছেন তার নামের মহিমা-কীর্তন করছে। বিশেষভাবে ভারতে এসে হেভেন স্থাপন করেছেন। বাকি সকলকে মুক্তি দিয়ে দেন। সকলে চায়ও (মুক্তি) তাই। তোমরা জানো, মুক্তির পর জীবনমুক্তি পাবে। বাবা এসে মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত করেন। বাবাকে বলা হয় সকলের সদ্গতিদাতা। জীবনমুক্তি তো সকলেই প্রাপ্ত করে। পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসারে। বাবা বলেন - এ হলো পতিত দুনিয়া, দুঃখধাম। সত্যযুগে তোমরা কত সুখ পাও। তাকে বলে স্বর্গ (বহিস্ত)। আল্লাহ্ বহিস্তের রচনা কেন করেছেন? শুধুই কি মুসলমানদের জন্য রচনা করেছেন? নিজের-নিজের ভাষায় কেউ স্বর্গ বলে, কেউ বহিস্ত বলে। তোমরা জানো যে হেভেনে (স্বর্গে) কেবল ভারতই থাকে। বাচ্চারা, এইসমস্ত কথা তোমাদের বুদ্ধিতে পুরুষার্থের নম্বরের অনুক্রমে বসে রয়েছে। একজন মুসলমান বলতো যে, আমি আল্লাহর বাগিচায় গিয়েছি। এইসব সাক্ষাৎকার হয়। ড্রামা প্রথম থেকেই নির্ধারিত হয়ে রয়েছে। ড্রামায় যা ঘটে, সেকেন্ড অতিবাহিত হলেই বলা হবে কল্প-পূর্বেও হয়েছিল। কাল কি হবে তা জানা নেই। ড্রামার উপর নিশ্চয় থাকা উচিত, যাতে কোনো দুশ্চিন্তা না থাকে। বাবা তো তোমাদের আদেশ করেছেন - মামেকম্ স্মরণ করো আর নিজেদের উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। শেষ তো সকলকেই হতে হবে। কেউ পরস্পরের জন্য কাঁদতেও পারবে না। মৃত্যু আসবে আর আত্মা চলে যাবে, কাঁদবার অবসরও থাকবে না। শব্দও বেরোবে না। আজকাল তো মানুষ ভস্ম নিয়েও কত পরিক্রমা করে। (মনে) বিশ্বাস বসে রয়েছে। সবই সময় নষ্ট... এতে কিইবা রাখা আছে ! মাটি, মাটিতেই মিশে যাবে। এতে কি ভারত পবিত্র হয়ে যাবে? পতিত দুনিয়ায় যেসমস্ত কাজকর্ম করা হয় তা পতিতরাই করবে। দান-পুণ্যাদিও করে এসেছে। ভারত কি পবিত্র হয়েছে? সিড়ি নীচে নামতেই হবে। সত্যযুগে সূর্যবংশীয় হয়। তারপর সিঁড়িতে নীচে নামে, ধীরে-ধীরে অধঃপতনে যায়। যদিও কত যজ্ঞ-তপাদি করে কিন্তু পরজন্মে অল্পকালের জন্য ফল প্রাপ্ত হয়। কেউ খারাপ কর্ম করলে তারও ফল সে ভোগ করে। অসীম জগতের পিতা জানেন যে, তিনি বাচ্চাদের পড়াতে এসেছেন। শরীরও ধারণ করেছেন সাধারণ। কোনো তিলক ইত্যাদি লাগানোর প্রয়োজন নেই। ভক্তরা তো বড়-বড় করে তিলক কাটে। কিন্তু কত ঠকায়। বাবা বলেছেন, আমি সাধারণ শরীরে আসি, এসে বাচ্চাদের পড়াই। বাণপ্রস্থ অবস্থা তো। কৃষ্ণের নাম কেন দিয়েছে? এখানে তো বিচার করার মতনও বুদ্ধি নেই। এখন বাবা সঠিক-বেঠিক বিচার করার বুদ্ধি দিয়েছেন। বাবা বলেন - তোমরা যজ্ঞ-তপ, দান-পুণ্য করে, শাস্ত্র পাঠ করে এসেছো। সেই শাস্ত্রতে কি কিছু আছে? আমি তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে বিশ্বের বাদশাহী দিয়েছি নাকি কৃষ্ণ দিয়েছে? বিচার করো। বলে, বাবা তুমিই শুনিয়েছিলে। কৃষ্ণ তো ছোট্ট প্রিন্স, সে কিকরে শোনাবে ! বাবা, তোমার রাজযোগের মাধ্যমেই আমরা এমনটি হয়ে যাই। বাবা বলেন - শরীরের কোনো ভরসা নেই। অনেক পুরুষার্থ করতে হবে। বাবাকে সমাচার শোনায় যে অমুকে অত্যন্ত ভালো, নিশ্চয়বুদ্ধিসম্পন্ন। আমি বলি, একদমই নিশ্চয় নেই, যাদের অত্যন্ত ভালবেসেছি তারা আজ নেই। বাবা তো সকলের সঙ্গে প্রেমময় হয়ে চলেন। যেরকম কর্ম আমি করবো, আমায় দেখে অন্যরাও করবে। কেউ আবার বিকারে যায়, পুনরায় গোপনে এসে বসে। বাবা তো তৎক্ষণাৎ সন্দেশীকে বলে দেন। এমন কর্ম যারা করবে তারা অত্যন্ত দুর্বল হতে থাকবে। ভবিষ্যতে আর চলতে পারবে না। অস্থির সময়কালে কেউ কিছু করলে তখন একদম মার্শাল ল' লাগু করা হয়। ভবিষ্যতে তোমরা এমন অনেক দেখবে। বাবা কি-কি করে থাকেন। বাবা কি শাস্তি দেন নাকি ধর্মরাজকে দিয়ে দেওয়ান। জ্ঞানে প্রেরণার কোনো কথা নেই। ভগবানকে তো সকল মানুষই বলেন - হে পতিত-পাবন এসো, এসে আমাদের পবিত্র করো। সমস্ত আত্মারাই কর্মেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আহ্বান করে। বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর। ওনার কাছে নানা ধরণের অনেক সামগ্রী রয়েছে। এইরকম বিভিন্ন প্রকারের সামগ্রী আর কারোর কাছে নেই। কৃষ্ণের মহিমা সম্পূর্ণ আলাদা। বাবার শিক্ষার দ্বারাই এনারা (লক্ষ্ণী-নারায়ণ) কিরকম হয়েছেন ! নির্মাণকারী তো সেই বাবা-ই। বাবা এসে কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতি বোঝান। এখন তোমাদের তৃতীয় নয়ন উন্মীলিত হয়েছে। তোমরা জানো যে, এ হলো ৫ হাজার বছরের কথা। এখন ঘরে যেতে হবে, নিজের ভূমিকা পালন করতে হবে। এ হলো স্বদর্শন-চক্র, তাই না! তোমাদের নাম হলো স্বদর্শন-চক্রধারী, ব্রাহ্মণ কুলভূষণ, প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার-কুমারী। লক্ষাধিকের মতন স্বদর্শন-চক্রধারী হবে। এখন তোমরা কতো নলেজ পড়তে থাকো। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এখনকার সময় হলো অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল (নাজুক), সেইজন্য কোনও উল্টোপাল্টা কাজ-কর্ম করা উচিত নয়। কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতিকে চিন্তনে রেখে সর্বদা শ্রেষ্ঠ কর্মই করা উচিত।

২ ) যোগের দ্বারা সদাকালের জন্য নিজের কায়াকে (শরীর) নিরোগী করতে হবে। একমাত্র প্রিয়তম পিতাকেই স্মরণ করতে হবে। বাবার থেকে অবিনাশী যে জ্ঞান-ধন পেয়েছো, তা দান করতে হবে।

বরদান:-
সহনশীলতার গুণের দ্বারা কঠোর সংস্কারকেও শীতল করে সন্তুষ্টমণি ভব

যার মধ্যে সহনশীলতার গুণ থাকে, তার চেহারায় সদা সন্তুষ্ট রূপ দেখা যায়, যে স্বয়ং সন্তুষ্ট মূর্ত থাকে, সে অন্যদেরও সন্তুষ্ট করে দেয় । সন্তুষ্ট হওয়া অর্থাৎ সফলতা সফলতা প্রাপ্ত করা । যে সহনশীল হয়, সে নিজের সহনশীলতার শক্তির দ্বারা কঠোর সংস্কার বা কঠিন কার্যকেও শীতল আর সহজ বানিয়ে দেয় । তার চেহারাতে গুণমূর্ত ভাব দেখা যায় । সেই ড্রামার ঢালে টিকতে পারে ।

স্লোগান:-
যে বাণীর দ্বারা পরিবর্তন হয় না, তাকে শুভ ভাইব্রেশনের দ্বারা পরিবর্তন করা সম্ভব ।

অব্যক্ত ইশারা :- মহান হওয়ার জন্য মধুরতা আর নম্রতার গুণ ধারণ করো

ব্রহ্মা বাবার বাণী যেমন ফরিস্তার বাণী, স্বল্প বাণী এবং মধুর বাণী ছিলো । কাজ কারবারের জন্য বলার প্রয়োজন হয়, কিন্তু তাও লম্বা করো না । প্রতিটি সঙ্কল্প, বাণী এবং কর্মে ফলো ফাদার করো । প্রতিটি বাণীতে মধুরতা, নম্রতার মহানতা যেন থাকে । এরজন্য নিজেকে নিমিত্ত মনে করে প্রতিটি কার্য করো, তখনই মহানতার সঙ্গে নম্রতা আসবে আর সফলতামূর্ত হতে পারবে ।