23-08-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 31-03-2011 মধুবন


"দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে টেনশন মুক্ত হয়ে সবার জন্য এক আদর্শ উদাহরণ ও আধারমূর্ত হও এবং মন্সা শক্তির দ্বারা দুঃখী আত্মাদের খুশির বরদান দাও"


আজ গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার তাঁর কোটি কোটির মধ্যে কতিপয় বিশেষ, তার মধ্যেও বিশেষ কয়েক বাচ্চার ভাগ্যের রেখা দেখছেন। তিনি প্রত্যেকের ললাটভাগ থেকে জ্বলজ্বল করতে থাকা দিব্য তারকার দীপ্তি দেখছেন। নয়নে দেখছেন স্নেহের রেখা, মুখে দেখছেন জ্ঞানের রেখা, হৃদয়ে দেখছেন দিলারামের প্রেমে লভলীন রেখা। হাতে দেখছেন জ্ঞানের গুপ্তধনের রেখা এবং পায়ে প্রতিটি পদক্ষেপে পদ্মের (অসীম ভাগ্যের) রেখা দেখছেন। প্রত্যেক বাচ্চা এই সমূহ রেখাতে নম্বরক্রমে সম্পন্ন। এমন শ্রেষ্ঠ ভাগ্য তোমরা ছাড়া আর কারও নেই। তোমাদের এত শ্রেষ্ঠ ভাগ্য প্রতিটি বাচ্চার মধ্য থেকে উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান। আর এই ভাগ্য অবিনাশী হয়ে যায়, কেন? কারণ দাতা হলেন অবিনাশী পিতা। এই সঙ্গমযুগেই এমন শ্রেষ্ঠ ভাগ্য প্রাপ্ত হয় যা ভবিষ্যতেও বজায় থাকে। এই সঙ্গমযুগ হলো সমস্ত প্রাপ্তির যুগ; এখানে যে যত নিজের ভাগ্য জমা করে, তার ফল অনেক জন্ম ধরে পাওয়া যায়। এই সঙ্গমযুগের মহিমা তোমরা বাচ্চারাই জানো। সঙ্গমযুগের প্রাপ্তিগুলি সমগ্র কল্পের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। বাপদাদা দেখছেন প্রত্যেক বাচ্চা এই সঙ্গমযুগের প্রাপ্তিতে কতটা সম্পন্ন! তোমরা সবাই সর্বদা সব প্রাপ্তির অনুভবে সদা থাকো, নাকি কখনো কখনো? বাবা অবিনাশী তো প্রাপ্তিও অবিনাশী। বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে কী রূপে দেখতে চান তা' তোমরা জানো তো না! বাপদাদা এটাই চান যে প্রত্যেক বাচ্চা যেন 'স্বরাজ্য অধিকারী রাজা' হয়। নিজের ওপরে অর্থাৎ কর্মেন্দ্রিয়, মন-বুদ্ধি ও সংস্কারের ওপর রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করে। ভবিষ্যতে তো রাজ্য অধিকারী হবেই, কিন্তু এখন স্বরাজ্য অধিকারী রাজা হতে হবে। কোনো কর্মেন্দ্রিয় যেন নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, কারণ বাবার থেকে সমস্ত শক্তির ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়েছে। তাই বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে স্বরাজ্য অধিকারী রাজারূপে দেখতে চান। তাহলে তোমরা সবাই স্বরাজ্য অধিকারী হয়েছ? মন ও বুদ্ধির ওপর রুলিং পাওয়ার এবং কন্ট্রোলিং পাওয়ার এসেছে? অধীনতা নেই তো? তোমরা হলে অধিকারী। যখন বাপদাদাকে তুমি সাথে রাখো, একা হও না, বাবাকে সদা সাথী বানিয়ে রাখো, তখন এই মন-বুদ্ধি- সংস্কার কারও শক্তি নেই যে কন্ট্রোলে থাকবে না। সেইজন্য বাপদাদা শক্তিদের সদা বলেন যে নিজের কোন স্বরূপটি স্মরণে রাখবে যাতে কখনো বাবার সাথ ভুলে যাবে না? তা' হ'লো - আমরা শিবশক্তি। শিব এবং শক্তি একসাথে আছেন। এই স্মৃতি আপনা থেকেই মায়াজিৎ এবং প্রকৃতিজিৎ বানিয়ে দেয়। কেননা, বাপদাদা ব'লে দিয়েছেন যে বর্তমান সময়ে প্রকৃতি নিজের কার্য করতে থাকছে, কারণ মানুষ প্রকৃতিকে উত্যক্ত করে, তাই প্রকৃতিও মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে। আজকাল তোমরা দেখছো প্রকৃতি কোথাও না কোথাও নিজের কার্য করে যাচ্ছে, কিন্তু তোমরা প্রকৃতিজিৎ হয়ে প্রকৃতিকেও সতোপ্রধান বানাচ্ছ। লোকে তো প্রকৃতির এই চঞ্চলতা দেখে ভয় পায় যে আগামীকাল কী হবে! কিন্তু তোমরা জানো যে ভালোর থেকেও ভালো হবে, কারণ এখন এই সঙ্গমযুগ হলো সৃষ্টিচক্রের অমৃতবেলা। তো অমৃতবেলার পর কী হয়? সকাল। অন্ধকার দূর হয়ে আলো চলে আসে। তাইতো তোমাদের খুশি হয় যে এখন আমাদের রাজ্য, সেই সুখময় সংসার যেখানে প্রকৃতিও সুখদায়ক, সেই রাজ্য সমাগত প্রায়। খুশি আছে তো না! যে রাজ্যে দুঃখ-অশান্তির কোনো লেশমাত্র থাকবে না, কেননা এখন সঙ্গমযুগে তোমরা প্রকৃতিজিৎ হচ্ছো। তাহলে সবাই খুশি তো না? বলো, আমাদের রাজ্য আসতে চলেছে, এই খুশি আছে তোমাদের? যারা এই খুশিতে আছ তারা হাত তোলো। খুব ভালো। তোমরা যে খুশি থাকো তার জন্য অভিনন্দন। কিন্তু এই খুশি, যা তোমরা বাবার থেকে পেয়েছ, সেই খুশির কিরণ তোমাদের দুঃখী ও অশান্ত ভাই-বোনেদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছো? বাপদাদা বলেছিলেন যে, এমন মন্সা সেবা করার জন্য প্রত্যেককে নিজের দিনচর্যায় একটা টাইম ফিক্স করতে হবে। যেমন অন্য কাজের জন্য টাইম ফিক্স করা আছে, তেমনই নিজের খুশির খোরাক দ্বারা দুঃখী আত্মাদের মন্সা শক্তির মাধ্যমে অল্পবিস্তর বরদান দিয়ে তাদেরও খুশি করো। তো যারা মন্সা সেবার জন্য টাইম ফিক্স করেছো তারা হাত তোলো। আচ্ছা, যারা এখনও করনি - সংখ্যায় অল্প আছে কিন্তু এর জন্য টাইম ফিক্স করতে হবে, কেননা, ওরা নিজেদেরই ভাই-বোন তো না! তাই দয়া বা করুণার উদ্রেক হয় তো না! নাকি উদ্রেক হয় না? উদ্রেক হয় তো, তাই না! আর বাপদাদা দেখতে চান যে সঙ্গমের দু'টি বিশেষ বিষয় যা অমূল্য - একটি হলো সংকল্প শক্তি এবং অন্যটি হলো সঙ্গমযুগের সময়। কেননা, সঙ্গমের এই এক জন্মেই তোমাদের সবাইকে অনেক জন্মের প্রালব্ধ তৈরি করতে হবে।

আজকাল বাপদাদা দেখেছেন যে অনেকের অশুদ্ধ সংকল্প কম চলে, কিন্তু ব্যর্থ সংকল্প আসে যায়। তো এই এক জন্মের মূল্য অনুসারে ব্যর্থ সংকল্প এখন ফিনিশ হওয়া উচিত। কারণ সঙ্গমযুগের গুরুত্ব অনুযায়ী এক সেকেন্ডের সময়ও অনেক মূল্যবান অধিকার প্রাপ্ত করায়। সুতরাং প্রত্যেককে এই দুটি বিষয় - সময় এবং সংকল্প দুইয়ের মূল্য বুঝে সময় ও সংকল্পকে সফল করো। যেমন স্থূল ভাণ্ডার সফল ক'রে থাকো এবং তোমরা জানো যে এক জন্মে সফল করলে অনেক জন্ম তার প্রাপ্তি জমা হয়। তেমনই এই দুটি বিষয়ে অ্যাটেনশন দিয়ে সফল করে সফলতা মূর্ত হও।

বাপদাদা আজ সব বাচ্চাকে একটি বিশেষ বরদান দিচ্ছেন - আজ থেকে প্রত্যেক বাচ্চা নিজেকে টেনশন ফ্রি বানাতে পারো? দৃঢ় সংকল্প করো আজ থেকে অ্যাটেনশন, নো টেনশন। বাপদাদা যখন বাচ্চাদের টেনশনে দেখেন, তখন ভাবেন এখনই এই বাচ্চাদের একটা ছবি তুলে পাঠিয়ে দিই, তাহলে সে নিজেই বুঝতে পারবে সে কী হয়ে গেছে! বাপদাদা মনজিৎ এবং জগতজিৎ বানাতে চান। টেনশন কোথায় আসে মনেই তো আসে, তাই না? তোমরা তো রাজা, স্বরাজ্য অধিকারী! মন তোমাদের, নাকি মন তোমাদের মালিক? তোমরা কী বলো? সারাদিন বলো তো না আমার মন? মালিক তো নয় না! তোমরা কে এই হিম্মত রাখো, পিতার বরদান সহজেই মিলবে, শুধু একটু অ্যাটেনশন রাখতে হবে? বাবার বরদানের সহায়তার অভিজ্ঞতা করে দেখো। যখনই দেখবে তখন সকলের মুখমণ্ডল কেমন দেখাবে? টেনশন ফ্রি, পদ্মফুলের মতো অথবা প্রস্ফুটিত গোলাপের মতো।

বাপদাদা দেখেছেন যে আগে যে পার্সেন্টেজ লেখার কাজ দেওয়া হয়েছিল, সব স্থান থেকে কিছু কিছু সমাচার এসেছে। এখানেও রেজাল্ট বের করা হয়েছে। তোমরা অ্যাটেনশন দিয়েছ, তার জন্য বাপদাদা তোমাদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। কিন্তু এখন বাপদাদা এটাই চান যে সময় অনুসারে এখন বাণী দ্বারা শোনার সময়ও কম পাওয়া যাবে, তাই মন্সা দ্বারা এবং নিজের মুখমণ্ডল ও আচরণ দ্বারা সার্ভিস করো। এখনকার এই অভ্যাস আগামী সময়ে কাজে আসবে। তো আজ থেকে কি টেনশন ফ্রির সংকল্প করতে পারো তোমরা? করতে পারো? করতে পারো তোমরা? হাত তোলো। টেনশন ফ্রি। আচ্ছা, সবার একটা ফটো তোলো। খুব ভালো। তো যে আত্মারা সরকমস্ট্যান্স অনুযায়ী খুব টেনশনে থাকো... আজকাল দুনিয়ায় টেনশন খুব বাড়ছে - এই টেনশনে ফ্রি থাকার অভিজ্ঞতা এবং তোমাদের টেনশন ফ্রি আচরণ ও মুখমণ্ডল তাদের সামনে এক আধারমূর্ত হিসেবে স্বীকৃত হবে। আজ যদি দুনিয়ায় ঘুরে দেখ বা খবর শোনো, তবে কী দেখা যাবে? তারা নিজেদের খুশি করার জন্য টেম্পোরারি সাধন বানাতে থাকে। তো যারা টেনশন করছে তাদেরকে টেনশন ফ্রি হওয়ার এক্সাম্পল দেখাও যাতে তাদেরও আশা ভরসা প্রতীয়মান হয়। তো মনে সংকল্প করেছ যে টেনশন ফ্রি থাকবে? করেছো? দৃঢ়ভাবে করেছো নাকি সাধারণভাবে? যেখানে দৃঢ়তা থাকে, সেখানে সফলতা নিশ্চিত। করব নয়, করতেই হবে। পছন্দ হয়েছে? এতে হাত তোলো।

বাপদাদা একটা বিষয় দেখেছেন যে, বাচ্চারা হাত তুলে খুব খুশি করে দেয়। হাত উঠিয়ে খুশি তো করেছো, কিন্তু এখন কী করবে? দৃঢ় সংকল্প আর সাধারণ সংকল্পের মধ্যে দিন-রাতের তফাত আছে। করব এবং করতেই হবে। তো এই সিজনের, এই বছরের সিজনের আজ লাস্ট ডে। কিন্তু আগামী সিজনে বাপদাদা প্রতিটি ছোট-বড় সেন্টারের, মাঝখানে অনেক সময় আছে - আগামী বছরের সিজনে 'কারণ' রূপে নয়, তোমাদের নিবারণ স্বরূপ দেখতে চান। তো তোমাদের কতটা মনোবল ও উদ্যম আছে যাতে ব্রাহ্মণ পরিবারে টেনশনের কোনো লেশমাত্র থাকবে না! এটা হতে পারে? প্রত্যেকে নিজেকে জিজ্ঞাসা করো এটা হতে পারে? বাপদাদা এই আনন্দ সংবাদ শুনতে চান।

বাপদাদা দেখেছেন যে সবাই। ইচ্ছা রাখে করবে ব'লে কিন্তু যখন সমস্যা আসে তখন সমস্যা তাদের নিজের বানিয়ে নেয়। তারপর তারা খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে - এটা হয়ে যায় তো না! এটা তো হবেই! এমন তো চলতেই থাকে তাইনা! বাপদাদাকে খুব মিষ্টি মিষ্টি বিষয় শোনায়। সবকিছুর সমাধান হলো - রাজা হয়ে যাও, ব্যস্! স্বরাজ্য অধিকারী হয়ে যাও। তো আজ বাপদাদা সব বাচ্চাকে - হয় সামনে বসে আছ বা দূরে বসে আছো, কিন্তু তোমরা তাঁর হৃদয়ে বসে আছ। তোমরা তো চোখের সামনে আছ, কিন্তু বাপদাদা যারা দূরে বসে আছ তাদেরকে হৃদয়ে দেখছেন।

বাপদাদা জানেন যে আজকের দিনে মধুবনে ছোট ছোট গীতা পাঠশালা শুরু হয়ে গেছে, বাচ্চারা এসেছে। বাপদাদা নিচে বসা বা কোথায় কোথায় বসা সব বাচ্চাকে সবার আগে হৃদয়ের অনেক অনেক অনেক স্নেহাদর এবং স্মরণে প্রীতি-ভালোবাসা দিচ্ছেন। (আজ শান্তিবনে ২৮ হাজারেরও বেশি ভাই-বোন পৌঁছেছে)। বাপদাদা দেখেছেন বাচ্চাদের একটু কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, কিন্তু এই কষ্ট খুশির কারণে তারা অনুভব করছে না। তবুও আরামে ঘুমানোর জন্য তিন পা পৃথিবী (একটু জায়গা) পেয়েছো তো না! যারা পাটরানী হয়েছে, সেই বাচ্চাদের বাপদাদা বিশেষ স্মরণের স্নেহ-সুমন দিচ্ছেন। আচ্ছা, যারা আজ প্রথমবার মধুবনে এসেছ বা বাপদাদার সাথে দেখা করতে এসেছো, তারা ওঠো। আজ প্রথমবার আসা বাচ্চাদের ব্রাহ্মণ পরিবারে নতুন আসার জন্য বাপদাদা নিজের তরফ থেকে এবং ব্রাহ্মণ পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছেন; কেননা, তোমরা টু-লেট এসেছ, কিন্তু এসে তো গেছো! বাপদাদা এবং পরিবারকে দেখে তো নিয়েছ। বাপদাদা মনে করেন যে তোমরা যদি চাও, তবে আজ যারা এসেছ তাদের জন্য বিশেষ বরদান রয়েছে - যদি হৃদয় থেকে চাও তবে লাস্ট সো ফাস্ট, ফাস্ট সো সামনে যেতে পারো। তোমরা সব আত্মার প্রতি বাপদাদা এবং পরিবারের ভালোবাসা রয়েছে। সবাই সহযোগী হবে, স্নেহ দেবে এবং তোমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে, তোমাদের চান্স দেবে। তাই আজ যারা এসেছ, ড্রামায় তাদের এগিয়ে যাওয়ার খুব ভালো চান্স মিলতে পারে। সমস্ত পরিবার তা' তোমরা যেখান থেকেই এসে থাকো না কেন, সেই পরিবার তোমাদের সহযোগী হবে, তোমরা শুধু সহজ যোগী হও। আচ্ছা।

সেবার টার্ন রাজস্থান এবং ভোপাল জোনের:-

রাজস্থানের ভূমি ব্রহ্মা বাবার খুব পছন্দ হয়েছিল, তাই রাজস্থানেই মধুবন তৈরি করেছেন। বাপদাদা দেখেছেন, রাজস্থানের সেবা এখন প্রতিটি স্থানে ভালো বৃদ্ধি হচ্ছে। নতুন নতুন আত্মাদের বাবার বার্তা দেওয়ার প্রোগ্রামস ভালো হচ্ছে। কিন্তু বাপদাদা সবাইকে এটাই বলেন যে, প্রতিটি সেবাকেন্দ্র যেন যজ্ঞ স্নেহী ওয়ারিস-এর এমন গ্রুপ তৈরি করে, যারা নিজেরাও এগিয়ে যাবে এবং অন্যদেরও যজ্ঞ স্নেহী বানাবে। গতবারও বাপদাদা বলেছিলেন যে - যজ্ঞ স্নেহী, সেবা স্নেহী এবং সফল করার ক্ষেত্রে যারা সদা অগ্রগামী তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা ভালো। বার্তা দেওয়ার কাজেও প্রত্যেকে উৎসাহ-উদ্দীপনায় আছে। এখন বাপদাদা এটাই দেখতে চান যে স্ব এবং সেবা - এই দু'য়ের ব্যালেন্স রক্ষাকারী প্রতিটি সেন্টার থেকে বেশি সংখ্যকের সামনে আসা উচিত । শুধু সেবা নয়, স্ব এবং সেবা; কেননা, এখন স্ব-পরিবর্তনের জন্য এত বেশি সময় নেই, সেইজন্য প্রথমে স্ব, সাথে সেবা। প্রতিটি সেবাকেন্দ্র নির্বিঘ্ন হতে হবে, সব সাথী নির্বিঘ্ন হতে হবে, শুধু টিচার নয়, সমস্ত ক্লাস নির্বিঘ্ন হতে হবে এবং স্ব-পরিবর্তনের প্রতি অ্যাটেনশন বজায় রাখতে প্রখর মনোযোগী হতে হবে। তো এই বিষয়গুলো বৃদ্ধি করো। একে অপরের কথা শোনো এবং তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনার ডানা দাও, যাতে বাপদাদাকে নির্বিঘ্ন সেন্টারের সংবাদ দিতে পারে। আর তো বাপদাদা দেখেছেন রাজস্থানও এগিয়ে চলছে এবং এগোতে থাকবে। বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে এগিয়ে যাওয়ার অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আচ্ছা।

ভোপাল জোন : আচ্ছা, এই জোনও নিজের পরিবর্তন এবং সেবার বৃদ্ধিতে ভালো এগিয়ে চলেছে। বাপদাদা খুশি হন যে প্রত্যেক বাচ্চা নিজের জন্যও প্ল্যান বানাচ্ছে আবার তাকে প্র্যাক্টিক্যালেও আনছে। আর বাবার শুভ আশা যে তোমরা সদা এগিয়ে যেতেই থাকবে। প্রতিটি জোনে দেখা যায় যে এখন উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে, সেইজন্য সেবায় নিজের নিজের স্থানে বৃদ্ধি করছে। বাপদাদা ভবিষ্যতের জন্যও অভিনন্দন জানাচ্ছেন - এগিয়ে চলো, উড়তে থাকো এবং ওড়াতে থাকো। আচ্ছা।

ডাবল বিদেশী ভাই-বোনেদের সাথে :- ফরেনে যারা রয়েছো তাদের কাছে পেপার্স তো অবশ্যই আসে, কিন্তু তাদের একটা বিশেষত্ব হ'লো তারা সরল হৃদয়ে বলে দেয়। ভেতরে জমিয়ে রাখে না এবং তার সমাধান প্রকৃত হৃদয় থেকে করতে থাকে। বাপদাদার এতে খুশি হয় যে স্বচ্ছ হৃদয় তো হুজুর হাজির হয়ে যান। ভালো রেজাল্ট দেখে বাপদাদা অভিনন্দনও জ্ঞাপন করছেন এবং বরদানও দিচ্ছেন যে সদা অগ্রচালিত হতে থাকবে। টিচার্সও ভালো পরিশ্রম করছে। বাপদাদার খুশি হয় যে মধুবনের সবচেয়ে বেশি লাভ উঠাচ্ছে ফরেনের বাচ্চারা। তো বাপদাদা দেখেন বিদেশের ছোট ছোট স্থানেও আওয়াজ জোরালো করার সেবা শুরু করে দেওয়া হয়েছে। তো সেবার জন্য অভিনন্দন, স্ব-পরিবর্তনের জন্য অভিনন্দন। উড়তে থাকো এবং ওড়াতে থাকো। আচ্ছা।

চারিদিকের দেশ ও বিদেশের বাচ্চাদের বাপদাদা পুরুষার্থে সহজভাবে এগিয়ে যাওয়ার এবং এগিয়ে দেওয়ার বিশেষ অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। এখন যে সময় আসতে চলেছে, তার জন্য বাপদাদা ডিরেকশন দিয়ে দিয়েছেন যে, তীব্র পুরুষার্থী হয়ে সেকেন্ডের মধ্যে বিন্দু বা ফুলস্টপ লাগানোর অভ্যাস অতি আবশ্যক। এই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিও না। আচমকা কিছু না কিছু হওয়ারই আছে, সেইজন্য বাবার শুভ আশা রয়েছে যে প্রত্যেক বাচ্চা সাথে আছে, সাথেই চলবে, সাথেই রাজ্য করবে ব্রহ্মা বাবার সাথে, শিববাবা সাক্ষী হয়ে যাবেন। তোমরা সাথী হতে চাইলে বাপদাদার সমান হতেই হবে। আচ্ছা - প্রত্যেক বাচ্চাকে বাপদাদার পক্ষ থেকে এই বছরের অভিনন্দন এবং আগামী বছরেরও অভিনন্দন - সদা বাবার সমান হতেই হবে। আচ্ছা।

বরদান:-
মনন শক্তির দ্বারা শক্তিশালী হয়ে সমস্ত বিঘ্নের ফোর্সকে সমাপ্ত ক'রে সর্ব আকর্ষণ মুক্ত ভব

বর্তমান সময়ে মনন শক্তির দ্বারা আত্মার মধ্যে সর্বশক্তি ভরে দেওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে । সেইজন্য অন্তর্মুখী হয়ে প্রতিটি পয়েন্টে মনন করো তো মাখন বের হবে আর তোমরা শক্তিশালী হয়ে যাবে। এমন শক্তিশালী আত্মারা অতীন্দ্রিয় সুখের প্রাপ্তির অনুভব করে, তাদেরকে অল্পকালের কোনও বস্তু তার নিজের দিকে আকর্ষণ করতে পারে না। তাদের মগ্ন অবস্থার দ্বারা যে আধ্যাত্মিকতার শক্তিশালী স্থিতি তৈরি হয়, তা'তে বিঘ্নের ফোর্স সমাপ্ত হয়ে যায়।

স্লোগান:-
ব্রাহ্মণ সংসারে যারা সকলের সম্মান প্রাপ্ত করে তারাই সিংহাসনাসীন হয়।

অব্যক্ত ইশারা :- অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত ক'রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও ব্রহ্মাবাবার আর শিববাবার পছন্দই পবিত্রতা। কিন্তু পবিত্রতার পরিভাষা অনেক শ্রেষ্ঠ এবং গূঢ়। পবিত্রতা যেখানে থাকবে সেখানে নিশ্চয়, সততা স্বচ্ছতা এসব এসে যায়। সম্পূর্ণ পবিত্রতার অর্থই হলো - স্বপ্নেও যেন অপবিত্রতা মন-বুদ্ধিকে টাচ করতে না পারে, একেই বলা হয়ে থাকে প্রকৃত বৈষ্ণব।