24.04.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে, তাই দেহ-বোধ'কে ভুলে নিজেকে অশরীরী আত্মা ভাবো, সব কিছুর
থেকে আসক্তি দূর করো”
প্রশ্নঃ -
সঙ্গম যুগে
তোমরা বাচ্চারা বাবার কাছ থেকে কোন্ আত্মজ্ঞান (বোধ বুদ্ধি) প্রাপ্ত করো?
উত্তরঃ
তমোপ্রধান থেকে
সতোপ্রধান কীভাবে হবে, নিজের ভাগ্য কীভাবে উঁচু করবে, এই আত্মজ্ঞান তোমরা এখনই শিখছো
। যে যতখানি যোগযুক্ত এবং জ্ঞান যুক্ত হয়েছে, তার ততই উন্নতি হতে থাকে। উন্নতি
প্রাপ্ত করা বাচ্চারা কখনও লুকিয়ে থাকতে পারে না। বাবা প্রত্যেকটি বাচ্চার অ্যাক্ট
দেখে বোঝেন কোন্ বাচ্চাটি নিজের ভাগ্য উঁচু করার পরিশ্রম করছে।
গীতঃ-
মরণ তোমার পথে....
ওম্ শান্তি ।
সব বাচ্চারা
এই গান শুনলো। বাচ্চারা বললে সব সেন্টারের বাচ্চারা জানে যে বাবা আমাদের অর্থাৎ
ব্রাহ্মণদের জন্য বলছেন যে বাচ্চারা এই গান শুনেছে - জীবিত থেকে গলার হার হওয়ার
জন্য অর্থাৎ মূলবতনে গিয়ে বাবার ঘরে থাকার জন্য। ওটা হলো শিববাবার নিবাস তাইনা,
যেখানে সব শালগ্রামরা থাকে। বাচ্চারা, ব্রাহ্মণ কুল ভূষণ, স্বদর্শন চক্রধারীরা জানে
যে যথার্থই সেই বাবা এসেছেন। তিনি বলেন - এখন তোমাদেরকে অশরীরী হতে হবে অর্থাৎ
দেহের অনুভূতি ভুলে যেতে হবে। এই পুরানো দুনিয়া তো অবসান হয়ে যাবে। এই শরীরকে তো
ত্যাগ করতে হবে অর্থাৎ সবাইকে ত্যাগ করতে হবে, কারণ এই দুনিয়াকেই শেষ হতে হবে ।
সুতরাং এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। সব বাচ্চাদেরই এখন খুশীর অনুভব হয় কারণ অর্ধকল্প ঘরে
ফেরার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু পথ মেলেনি ! উপরন্তু ভক্তিমার্গে র
দেখনদারি আড়ম্বর দেখে মানুষ আরও জড়িয়ে পড়েছে। এ হলো ভক্তিমার্গের চোরাবালি যাতে
মানুষ গলা পর্যন্ত ডুবে আছে। এখন বাচ্চারা বলে - বাবা আমরা পুরানো দুনিয়া, পুরানো
শরীরকে ভুলে যাই। এখন তোমার সঙ্গে অশরীরী হয়ে ঘরে ফিরবো। সবার বুদ্ধিতে আছে পরমপিতা
পরমাত্মা পরমধাম থেকে এসেছেন, আমাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শুধু বলেন তোমরা
পবিত্র হয়ে আমাকে স্মরণ করো। জীবিত থেকে মরে যেতে হবে। তোমরা জানো সেখানে ঘরে
আত্মারা বাস করে। তাও আত্মা তো হলো বিন্দু। নিরাকারী দুনিয়ায় সব আত্মারা চলে যাবে,
মানুষের সংখ্যা যত আত্মার সংখ্যাও ততো সেখানে থাকবে। আত্মারা সেই মহাতত্ত্বের কতটুকু
স্থান দখল করে। শরীর তো এত বিশাল, কতখানি জায়গা ঘিরে রাখে? বাকি আত্মাদের কতটুকু
জায়গা চাই ! আমরা আত্মারা কতটুকু জায়গা নেবো? খুবই কম। বাচ্চাদের এইসব কথা বাবার
কাছ থেকে শোনার সৌভাগ্য বর্তমানেই প্রাপ্ত হয়। বাবা বলেন তোমরা অশরীরী (শরীর বিহীন)
এসেছিলে তারপরে শরীর ধারণ করে পার্ট প্লে করেছো, এখন আবার জীবিত থেকে মরতে হবে,
সবকিছু ভুলে যেতে হবে। বাবা এসে মরতে শেখান। বলেন নিজের পিতাকে, নিজের ঘর পরমধামকে
স্মরণ করো। খুব পুরুষার্থ করো। যোগযুক্ত থাকলে পাপ বিনষ্ট হবে। তখন আত্মা তমোপ্রধান
থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। তাই বাবা রায় দেন - কল্প পূর্বেও বলেছিলেন যে দেহের সব
সম্বন্ধকে ত্যাগ করে মামেকম্ স্মরণ করো। তিনি হলেন সকলের বাবা, তাইনা। তোমরা হলে
ব্রহ্মামুখবংশী সন্তান, যারা জ্ঞান প্রাপ্ত করে থাকো। শিবের সন্তান তো অবশ্যই। এই
কথাটিতে সবার নিশ্চয় আছে যে - আমরা ভগবানের সন্তান। কিন্তু তাঁর নাম, রূপ, দেশ, কাল
ভুলে যাওয়ার দরুন, ভগবানের সঙ্গে কারো এতখানি লভ থাকে না। এতে কারো দোষ নেই। এও
ড্রামাতে নির্ধারিত রয়েছে ।
বাবা বোঝান তোমরা
আত্মারা কতো ছোট্ট বিন্দু, তাতে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে। কী ওয়ান্ডার তাই না! আত্মা
কীভাবে শরীর ধারণ করে পার্ট প্লে করে। এখন তোমরা অসীম জগতের পার্ট প্লে করার কথা
জেনেছো। এই জ্ঞান আর কারো বুদ্ধিতে নেই। তোমরাও দেহ-অভিমানী ছিলে। এখন কতখানি পাল্টে
গেছে । সেও প্রত্যেকের নিজস্ব ভাগ্যের উপরে নির্ভর করছে। কল্প পূর্বের ভাগ্যের
সাক্ষাৎকার এখন হচ্ছে। দুনিয়ায় কতো অসংখ্য মানুষ আছে, প্রত্যেকের নিজস্ব ভাগ্য । যে
যেরকম কর্ম করেছে সেই অনুযায়ী দুঃখী, সুখী, ধনী, গরিব হয়েছে। হয় তো আত্মাই। আত্মা
কীভাবে সুখে আসে, তারপরে দুঃখে আসে, সেই কথা বাবা বসে বোঝাচ্ছেন। তমোপ্রধান থেকে
সতোপ্রধান হওয়ার বুদ্ধি বাবা'ই শেখান কল্প পূর্বের মতন। যে যতখানি বুদ্ধি পেয়েছে
ততখানি এখন প্রাপ্ত করছে। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের ভাগ্যের কথা বুঝতে পারবে। তখন বলবে
কল্প-কল্প প্রত্যেকের এমনই ভাগ্য থাকবে। যে খুব ভালোরকম যোগযুক্ত, জ্ঞান যুক্ত হয়ে
থাকবে - সে সার্ভিসও করতে থাকবে। পড়াশোনাতে সর্বদা উন্নতি হতে থাকবে। কোনো বাচ্চারা
খুব শীঘ্র উন্নতি প্রাপ্ত করে, কেউ খুব বেশী বুদ্ধি খাটায়। এখানেও সেইরকম আছে। কল্প
পূর্বের মতন যারা উন্নতি করে, তারা লুকিয়ে থাকতে পারে না। বাবা তো জানেন তাইনা -
সবার কানেকশন শিববাবার সঙ্গে তাইনা। ইনিও বাচ্চাদের অ্যাক্ট বুঝতে পারেন, তো উনিও
সব দেখেন। ব্রহ্মা বাবার কাছে যদিও লুকানো যায় কিন্তু শিববাবার কাছে লুকানো সম্ভব
নয়। ভক্তি মার্গেই পরমাত্মার কাছে কিছু লুকানো যায় না তাহলে জ্ঞান মার্গে কীভাবে
লুকাবে। বাবা বোঝাতে থাকেন, পড়াশোনা তো খুব সহজ। কর্মও করতে হবে। থাকতেও হবে মিত্র
আত্মীয় স্বজনদের কাছে পুরানো দুনিয়ায়। সেখানে থেকেই পরিশ্রম করতে হবে। এখানে থেকে
যারা পুরুষার্থ করছে তাদের চেয়ে ঘরে থেকে যারা পুরুষার্থ করছে তারা তীক্ষ্ণ এগিয়ে
যেতে পারে। যদি দৃঢ় পরিশ্রম করে তাহলে। শাস্ত্রে অর্জুন এবং একলব্যের দৃষ্টান্ত
দেওয়া হয়েছে তাইনা। যদিও একলব্য বাইরে থাকতো কিন্তু অভ্যাসের দ্বারা তীর চালাতে সে
অর্জুনের চেয়েও দক্ষ হয়ে গেছিল। অতএব গৃহস্থে থেকে পদ্ম ফুলের মতন থাকতে হবে। এর
দৃষ্টান্তও তোমরা দেখতে পাবে। গৃহস্থে থেকে ভালো সার্ভিস করতে পারবে। তারা বেশী
বৃদ্ধি পাবে। এখানে যারা থাকে তাদের মায়া ছাড়ে না। এমন নয় যে বাবার কাছে গেলে মুক্ত
হবে। না, প্রত্যেকের নিজস্ব পুরুষার্থ আছে। গৃহস্থে থেকে তারা এখানে থাকা বাচ্চাদের
চেয়ে ভালো পুরুষার্থ করতে পারবে। খুব ভালো সাহসের পরিচয় দিতে পারবে, তাদেরকেই
মহাবীর বলা হয়, যারা গৃহস্থে থেকে পদ্ম ফুলের মতন হয়ে দেখাবে। বাবাকে বলে, বাবা আপনি
ত্যাগ করেছেন। বাবা বলেন - আমি তো ত্যাগ করিনি, আমাকেই ত্যাগ করে গেছে। বাবা তো
কাউকে ত্যাগ করে আসেননি। ঘরে অনেক বাচ্চারা এসে গেছে। বাকি কন্যাদের উদ্দেশ্যে বাবা
বলেন, তোমরা এই ঈশ্বরীয় সার্ভিস করো। ইনিও বাবা, উনিও বাবা। কুমাররাও অনেকে এসেছে
কিন্তু চলতে পারেনি। কন্যারা তবু ভালো। কন্যা হল ১০০ ব্রাহ্মণের চেয়ে উত্তম। অতএব
সেই কন্যা শ্রেষ্ঠ, যে ২১ কুলের উদ্ধার করে, জ্ঞানের বাণ মারতে পারে। বাকি যারা
গৃহস্থে থাকে তারাও হল বি.কে.। ভবিষ্যতে গিয়ে তাদেরও বন্ধন শেষ হয়ে যাবে। সার্ভিস
তো করতে হবে তাইনা। অনেক সার্ভিসেবল বাচ্চারা বাপদাদার হৃদয়ে স্থান অর্জন করে আছে,
যারা হাজার হাজার মানুষের কল্যাণ করছে। অতএব এমন সার্ভিসেবল বাচ্চারা আশীর্বাদ
প্রাপ্ত করতে থাকবে। তারা হৃদয়ে বিরাজ করবে। যারা হৃদয়ে বিরাজিত তারাই সিংহাসনে বসবে।
বাবা বলেন নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে যুক্তি রচনা করো, সবাইকে মার্গ বলে দেওয়ার।
চিত্রও তৈরি হতে থাকে। এই সব হল প্রাক্টিক্যাল কথা।
এখন তোমরা বোঝাও যে
পরমপিতা হলেন নিরাকার, তিনি হলেন বিন্দু স্বরূপ। কিন্তু তিনি হলেন নলেজফুল,
পতিত-পাবন। আত্মাও হলো বিন্দু। সন্তান তো হয় ছোট। পিতা ও সন্তানের মধ্যে তফাৎ হয় তো
তাইনা। আজকাল ১৫-১৬ বছরেও কেউ পিতা হয়ে যায়। তবুও তার সন্তান তার থেকে বয়সে ছোটই হবে
তাইনা। এখানে দেখো কেমন ওয়ান্ডার - পিতাও আত্মা, সন্তানও আত্মা। তিনি হলেন সুপ্রীম
আত্মা, নলেজফুল। বাকিরা সবাই নিজের পড়াশোনা অনুযায়ী নীচু বা উচ্চ পদমর্যাদা প্রাপ্ত
করে। সম্পূর্ণ টা নির্ভর করছে পড়াশোনার উপরে। সুকর্ম করে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করে। এখন
বাচ্চারা তোমাদের সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান আছে। স্বর্গে একমাত্র ভারতই ছিল
অন্য কোনও খন্ড ছিল না। অতএব ছোট নিউ ইন্ডিয়া (মডেল বানিয়ে) তোমাদের স্বর্গকে
দেখাও। যেমন দ্বারকা নাম নয়, লক্ষ্মী-নারায়ণের ডিনায়েস্টি লেখা উচিত। বুদ্ধিও বলে
সত্যযুগে প্রথমে দেবতাবংশীদের রাজ্য হবে। তাদের গ্রাম হবে, ছোট ছোট জায়গা হবে। এই
কথাও বিচার সাগর মন্থন করতে হবে। তার সাথে শিববাবার সঙ্গে বুদ্ধির যোগ লাগাতে হবে।
আমরা স্মরণের দ্বারাই বাদশাহী প্রাপ্ত করি। স্মরণের দ্বারা জং দূর হবে, সব পরিশ্রম
এতেই রয়েছে । অনেকের বুদ্ধি বাইরে বিচরণ করে, এখানে বসে থেকেও সারাটা সময় স্মরণে
স্থির থাকতে পারেনা, বুদ্ধি অন্যত্র চলে যায়। ভক্তি মার্গেও এমন হয়। শ্রীকৃষ্ণের
ভক্তি করতে-করতে বুদ্ধি অন্য দিকে চলে যায়। নবধা ভক্তরা (নয় প্রকারের ভক্তির
পরাকাষ্ঠা) সাক্ষাৎকারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে যাতে
কৃষ্ণ ব্যতীত অন্য কেউ যেন স্মরণে না আসে, খুব পরিশ্রম তাতে। এতে ৮-এর তারপর ১৬
হাজার ১০৮-এর মালা হয়ে যায় । তারা তো লাখের মালাও দেখায়। কিন্তু জ্ঞান মার্গের মালা
হয় খুব মূল্যবান। ভক্তিমার্গের মালা হয় কম দামী, কারণ জ্ঞান মার্গে আত্মিক বা রূহানী
পরিশ্রম লাগে। কৃষ্ণকে দেখে খুশীতে ডান্স করে। ভক্তি ও জ্ঞানে রাত দিনের তফাৎ আছে,
তোমাদেরকে এই কথা বোঝানো হয় না যে কৃষ্ণকে স্মরণ করলে জং দূর হবে । এখানে তো বোঝানো
হয় যে বাবাকে যত স্মরণ করবে ততই পাপ বিনষ্ট হবে।
তোমরা বাচ্চারা এখন
যোগ বলের দ্বারা বিশ্বের মালিক হও। এই কথাটি কারো স্বপ্নেও নেই হয়তো।
লক্ষ্মী-নারায়ণ কোনও যুদ্ধ করেননি। তাহলে বিশ্বের মালিক হলেন কীভাবে? সেই কথা তো
তোমরা জানো। বাবা বলেন যোগবলের দ্বারা তোমরা রাজত্ব প্রাপ্ত করবে। কিন্তু ভাগ্যে না
থাকলে চেষ্টাও করেনা। সার্ভিসেবল হয় না। বাবা তো নির্দেশ দেন এমন এমন করে প্রদর্শনী
করো। মিনিমাম ১৫০ - ২০০ টি প্রদর্শনী যেন এক দিনে হয়ে যায়। গ্রামে-গ্রামে ঘুরে দেখো।
যত গুলি সেন্টার, তত গুলি প্রদর্শনী। এক-একটি সেন্টারে প্রদর্শনী আয়োজিত হলে বোঝানো
সহজ হবে। সেন্টারগুলিও দিন প্রতিদিন বড় হতে থাকবে যাতে চিত্র ইত্যাদি রাখা সম্ভব হবে।
নতুন চিত্র আবিষ্কার হতে থাকে। বৈকুণ্ঠের চিত্র সুন্দর প্রাসাদ ইত্যাদির ছবি ভারতের
বানানো উচিত। ভবিষ্যতে বোঝানোর জন্য ভালো-ভালো চিত্র তৈরি হবে। বাণপ্রস্থে যারা আছে
তারা ঘুরতে ফিরতে সার্ভিস করতে পারে, যাদের ভাগ্য উদয় হবে তারা বেরোবে। অনেক
বাচ্চারা কুকর্ম করে নিজের সম্মান হারায়, অর্থাৎ যজ্ঞের সম্মান হারায়। যেমন আচরণ
তেমন পদ মর্যাদা। যারা অনেক কে সুখ দেয়, তাদের তো মহিমা গায়ন হয়। এখনও সর্বগুণে
সম্পন্ন তো হয় নি তাইনা। কেউ কেউ খুব ভালো সার্ভিস করছে। এমন এমন নাম শুনে বাবা খুশী
হন। সার্ভিসেবল বাচ্চাদের দেখে বাবা তো খুশী হবেন তাইনা। ভালো সার্ভিস করার জন্য
পরিশ্রম করে। সেন্টারও খোলে, যার দ্বারা হাজার মানুষের কল্যাণ হবে। তাদের দ্বারা
আবার অনেকে জ্ঞান লাভ করবে। সম্পূর্ণ তো কেউ হয়নি। কিছু কিছু ভুল কাজ হয়েই যায়। মায়া
ছাড়ে না। যত সার্ভিস করে নিজের উন্নতি করবে ততই হৃদয়ে স্থান অর্জন করবে। ততই উঁচু
পদের অধিকারী হবে। তারপরে কল্প কল্প এমনই পদ মর্যাদা প্রাপ্ত হবে। শিববাবার কাছে
কেউ কিছু লুকাতে পারে না। অন্তিম কালে প্রত্যেকের নিজের নিজের কর্মের সাক্ষাৎকার তো
হয়েই থাকে। তখন আর কি করতে পারবে! তারস্বরে কাঁদতে হবে। তাই বাবা বোঝান যে, এমন
কোনও কর্ম কোরো না যাতে শেষ সময়ে দণ্ডের ভাগী হও, অনুতাপ করতে হয়। কিন্তু যতই বোঝাও
যদি ভাগ্যে না থাকে তাহলে চেষ্টাও করে না। আজকালকার মানুষের তো বাবার পরিচয় জানা
না। ভগবানকে স্মরণ করে কিন্তু জানে না। তাঁর কথা মতন চলে না। এখন সেই অসীম জগতের
পিতার কাছে তোমরা সত্যযুগী স্বরাজ্যের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করো সেকেন্ডে। শিববাবার
নাম তো সবাই পছন্দ করে তাইনা। বাচ্চারা জানে যে ওই অসীম জগতের পিতার কাছে স্বর্গের
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হচ্ছে। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
নিজের আচার আচরণের দ্বারা বাবার বা যজ্ঞের নাম উজ্জ্বল করতে হবে। এমন কোনও কর্ম করবে
না যাতে বাবার সম্মানহানি হয়। সার্ভিস দ্বারা নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করতে হবে।
২ ) বাবার মতন
কল্যাণকারী হয়ে সর্বজনের আশীর্বাদ প্রাপ্ত করে প্রথম নম্বর নিতে হবে। গৃহস্থে থেকে
পদ্ম ফুলের মতন থাকার সাহসের পরিচয় দিতে হবে।
বরদান:-
সতোপ্রধান স্থিতিতে স্থিত থেকে সদা সুখ শান্তির অনুভবকারী ডবল অহিংসক ভব
সদা নিজের সতোপ্রধান
সংস্কারগুলিতে স্থিত থেকে সুখ-শান্তির অনুভূতি করা - এটা হল সত্যিকারের অহিংসা।
হিংসা অর্থাৎ যার দ্বারা দুঃখ অশান্তির প্রাপ্তি হয়। তো চেক করো যে সারাদিনে কোনও
প্রকারের হিংসা তো করোনি। যদি কোনও শব্দের দ্বারা কারোর স্থিতিকে চঞ্চল করে দাও, তো
সেটাও হলো হিংসা। ২) যদি নিজের সতোপ্রধান সংস্কারগুলিকে চাপা রেখে অন্য
সংস্কারগুলিকে প্র্যাক্টিক্যালে নিয়ে আসো তো এটাও হলো হিংসা এইজন্য সূক্ষ্মতাতে গিয়ে
মহান আত্মার স্মৃতির দ্বারা ডবল অহিংসক হও।
স্লোগান:-
সত্যের
সাথে অসত্য মিক্স হতেই খুশী গায়েব হয়ে যায়।
অব্যক্ত ঈশারা :-
মহান হওয়ার জন্য মধুরতা আর নম্রতার গুণ ধারণ করো
তোমাদের প্রত্যেক বাণী
অলৌকিক হবে, ফরিস্তার সমান হবে। প্রত্যেক বাণী মধুর হবে। এই কথার উপর এখন
আন্ডারলাইন করো তবে প্রত্যক্ষতা হবে কেননা এখনও পর্যন্ত বাণীর শক্তি ব্যর্থ যাচ্ছে,
এইজন্য বাণীতে বাবাকে প্রত্যক্ষ করার যে শক্তি থাকা দরকার, সেটা কম আছে, বাণীকে
ব্যর্থ যাওয়া থেকে বাঁচাও তাহলে বাবাকে প্রত্যক্ষ করার আওয়াজ তীব্র হবে।