25.08.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করলে তোমাদের যেমন উপার্জনও আছে, তেমনই
সুস্বাস্থ্যও আছে, তোমরা অমর হয়ে যাও"
প্রশ্নঃ -
হৃদয়কে শুদ্ধ
বানানোর সহজ যুক্তি কি?
উত্তরঃ
যেখানেই থাকো
ট্রাস্টি হয়ে থাকো । সর্বদা মনে করো, আমরা শিব বাবার ভাণ্ডার থেকে খাই । শিব বাবার
ভাণ্ডারের ভোজন যারা খায়, তাদের হৃদয় শুদ্ধ হতে থাকে । প্রবৃত্তিতে থেকে যদি শ্রীমৎ
অনুযায়ী, বাবার নির্দেশ মতো ট্রাস্টি হয়ে থাকো তাহলে সেও শিব বাবার ভাণ্ডারা, এও
মন থেকে সমর্পণ ।
ওম্ শান্তি ।
জন্ম -
জন্মান্তর অর্ধেক কল্প ধরে বাচ্চারা সৎসঙ্গ করেছে, সাধু - সন্ত, পণ্ডিত ইতালি সব
মনুষ্যের সৎসঙ্গ হয়, এ কোনো মানুষের সৎসঙ্গ নয় । একে বলা হয় আধ্যাত্মিক সৎসঙ্গ
সুপ্রীম আত্মা, আত্মাদের সঙ্গে কথোপোথন অর্থাৎ সৎসঙ্গ করেন । তোমরা এখানে কোনো
মানুষের কাছে শোনো না, না তোমরা এখানে দেবতাদের কাছ থেকে শোনো । তোমরা এখানে
ভগবানের কাছ থেকে শোনো । ভগবানকে সর্বদা নিরাকার বলা হয়, আর ভগবান তখনই আসেন, যখন
বাচ্চাদের ভগবান - ভগবতী বানানোর জন্য পড়াতে হবে । ভগবান আর ভগবতীর পদ ভগবান ছাড়া
আর কেউই দিতে পারে না । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, কল্প - কল্প সঙ্গম যুগ হয়, তাই
নিরাকার ভগবান এসে আমাদের জ্ঞান প্রদান করেন । এও তোমরাই বুঝতে পারো, দ্বিতীয় কেউ
খুব কমই বুঝতে পারবে । শিব বাবা তো অবশ্যই আসেন, কিন্তু তাঁর পরিবর্তে কৃষ্ণকে
গীতার ভগবান বলে দিয়েছে । তাই সকলের বুদ্ধিতে অবশ্যই মনুষ্য তনের কথাই মনে আসতে
থাকবে । তোমরাই দৈবী গুণ সম্পন্ন ছিলে আর এখন আসুরী গুণ সম্পন্ন হয়ে গেছো । আবার
এখন দৈবী গুণ সম্পন্ন হও । দৈবী গুণ সম্পন্নদের দৈবী সম্প্রদায় আর আসুরী গুণ
সম্পন্নদের আসুরী সম্প্রদায় বলা হয় নিরাকার বাবা এখন নিরাকার সম্প্রদায় অর্থাৎ
আত্মাদের পড়াচ্ছেন, তাই বলা হয় ঈশ্বরীয় সম্প্রদায় অথবা আধ্যাত্মিক সম্প্রদায়,
যাদের আধ্যাত্মিক বাবা এসে পড়ান । তোমরা এখন আত্ম - অভিমানী হও । আমরা হলাম আত্মা,
বাবা আমাদের পড়ান । তিনি বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ
হবে । তিনি আত্মাদেরই পড়ান, তিনিই হলেন নলেজফুল, আর ঋষি - মুনি আদি তো 'এটাও না -
ওটাও না' বলে গেছে, অর্থাৎ আমরা আত্মাকে জানি না । যতক্ষণ না ওই জ্ঞানের সাগর সামনে
আসছেন, ততক্ষণ জ্ঞান কিভাবে বোঝাবেন? এ খুব ভালোভাবে বোঝার মতো কথা । আমাদের কোনো
মনুষ্য পড়ান না, আমাদের বাবা পড়ান । তিনি হলেন অসীম জগতের নিরাকার বাবা । বাচ্চাদের
এও বোঝানো হয়েছে যে, প্রত্যেকেরই সাকার আর নিরাকার দুইজন বাবা হয় । এক হলো আত্মিক
পিতা, আর দ্বিতীয় হলো দেহের পিতা । এই আত্মিক পিতা এসেই আত্মাকে পবিত্র করেন ।
তোমরা জানো যে, আমরা পবিত্র ছিলাম, তারপর পতিত হয়েছি তারপর পতিত থেকে পাবন কিভাবে
হই । চিত্রও সামনে আছে । বাবা রায় দেন যে, প্রতি মুহূর্তে চক্রের সামনে গিয়ে বসো,
তাহলে বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ জ্ঞান এসে যাবে যে, আমরা এখন সঙ্গম যুগে বসে আছি, আর সবাই
নিজেদের কলিযুগের মনে করে । কলিযুগকে ঘোর অন্ধকার বলা হয় । তোমরা এখন সঙ্গমযুগে আছো
। তোমরা এখন জ্ঞানের আলোক পেয়েছো, সত্যযুগে তোমরা এই জ্ঞান পাও না । বাবা যখন আসেন
তখনই জ্ঞানের আলোক প্রকাশিত হয় এই সঙ্গম যুগ হলোই কল্যাণকারী যুগ । এমন যুগ কখনোই
হয় না, যেহেতু বাবা আসেন । সত্যযুগকে কল্যাণকারী যুগ বলা হবে না, কেননা ওখানে
কারোর কল্যাণ হয় না । কল্যাণ এই সঙ্গম যুগেই হয় । সত্যযুগে তো কল্যাণই থাকে । বাবা
এই সঙ্গমেই কলিযুগকে সত্যযুগ, কল্যাণকারী বানান । তাই দেখো, এখন তোমাদের কতো কল্যাণ
হয়, কেবল বাবা আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করাতেই তোমাদের কতো উপার্জন হয় । উপার্জন
আর উপার্জনই হয় আর সুস্বাস্থ্যও থাকে । তোমাদের জীবন অমর হয়ে যায় । তোমাদের
কখনোই অকালমৃত্যু হয় না । তাই বাচ্চাদের কতো খুশীতে থাকা উচিত, কেননা তোমাদের
বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে । তোমরা বাচ্চারা যখন এখানে আসো, তখন তোমাদের
পুরুষার্থ করে এই মিউজিয়ামের চিত্রের উপর বোঝানোর মতো উপযুক্ত হওয়া উচিত । নিজেদের
উপযুক্ত বানানোর জন্য সাত - আট দিন এখানে বসে শেখো । অভ্যাস হয়ে গেলে চট করে সেবায়
যেতে পারবে । সেবা করে আবার ফিরে আসবে । এই বিষয় শেখা তো খুবই সহজ । চিত্র সামনে
দেখলেই বুদ্ধিতে এসে যায় যে, আমরা সঙ্গম যুগে বসে আছি । আজকের দুনিয়াতে অনেক মানুষ,
কাল অনেক কম হবে । এত সব মানুষ এখন ফিরে যেতে হবে । বাবা এখন স্বয়ং এসেছেন,
বাচ্চাদের কতো সম্মান করেন তিনি । দূরদেশে যিনি থাকেন, তিনি পরের দেশে এসেছেন....।
রাবণের দেশ তো পরের দেশই হলো, তাই না । রামের দেশে তো কখনোই রাবণ আসতে পারে না । এর
উপর এক কাহিনী বা কথা শোনানো হয়, যে কথাই শোনানো হোক না কেন, সে তো কাহিনী বা গল্প
। না তো কাহিনীতে কোনো সার আছে, না নভেলে কোনো সার আছে । নভেলও কতো বিক্রি হয়।
কেবলমাত্র নভেল যারা বিক্রি করে তারাও লাখপতি হয়ে যায় । বাচ্চারা, এখন তোমাদের
দেখভাল তো বাবার হাতেই রয়েছে । ব্যস, তোমার থেকেই খাবো অর্থাৎ তোমার ভাণ্ডার থেকেই
খাবো... তোমাদের সম্পূর্ণ পালন বা দেখভাল এখানেই হয় যারা সমর্পিত হয়, তাদের
দেখাশোনা তো হয়ই, কিন্তু যারা মন থেকে অনুভব করে যে, এই সবকিছুই ঈশ্বরের (বাবার ),
আমি ট্রাস্টি, আমি শ্রীমৎ অনুযায়ীই খরচ ইত্যাদি করি, যারা এমন মনে করে, তারাও শিব
বাবার ভাণ্ডার থেকেই অন্ন গ্রহণ করে । শিব বাবার ভাণ্ডার থেকে অন্ন গ্রহণ করলে হৃদয়
শুদ্ধ হয় । এমন নয় যে তারা শিব বাবার ভাণ্ডার থেকে খায় না, যারা বাবার নির্দেশে
চলে, তারাও শিব বাবার ভাণ্ডার থেকেই অন্ন গ্রহণ করে । যখনই ভাণ্ডার থেকে গ্রহণ করলো,
তখনই ভাণ্ডার ভরপুর হলো, কাল কণ্টক দূর হলো... এরপর তোমাদের কখনোই অকাল মৃত্যু হবে
না । এই সময়ই শিব বাবা আসেন, তাঁর মহিমারও গায়ন আছে । শিব জয়ন্তীও পালন করা হয়,
কিন্তু তার ভাণ্ডার কেমন হবে, এ কেউই জানে না । বাবাও তো বরাবর আসেন, তাই না । যে
বাচ্চারাই আসে, তারাই শিব বাবার ভাণ্ডার থেকে খাবার পায় । আচ্ছা, পুরুষ যদি সমর্পণ
করে তাহলে তো ঠিকই আছে, কিন্তু কিন্তু সে যদি সমর্পণ না করে তাহলে মায়েরা কি করবে?
কেননা উপার্জন তো পতি করে । সে তো আর সমর্পিত হয় না । সে যখন উপার্জন করবে তখন তো
স্ত্রী খাবে । হ্যাঁ, উভয়ে সমর্পিত হলে তখন শিব বাবার ভাণ্ডার থেকে দেখভাল হতে পারে
। এই বাবা বাচ্চাদের খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । বুদ্ধিতে এই কথা রাখতে হবে যে,
যতক্ষণ না কর্মাতীত অবস্থা হয়, ততক্ষণ আমরা বাবার কাছে বসে আছি । দিনে দিনে আমরা
স্বরাজ্যের নিকটে এসে যাই । সময়ও কাটতে থাকে, আর তোমরাও নিকটে আসতে থাকো ।
সত্যযুগের প্রথম বছরে যেতে তোমাদের আর কতো বছর বাকি আছে? এখন তোমরা কতো কাছাকাছি চলে
এসেছো? বাবা বলেন যে, বাচ্চারা, তোমাদের এখন ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে ।
তোমরা এখন ৮৪ জন্মের চক্রকে জেনে গেছো । চক্রকে দেখলেই তোমরা বলবে, আমরা এখন সঙ্গম
যুগে আছি । এইদিকে হলো কলিযুগ আর ওইদিকে হলো সত্যযুগ । আগামী দিনে আমরা নিজেদের
সুখধামে থাকবো । দুনিয়া তো কিছুই জানে না, তারা সম্পূর্ণ ঘোর অন্ধকারে আছে ।
বাচ্চারা, তোমাদের খুবই খুশী হওয়া উচিত । অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে আমরা ২১ জন্মের
জন্য উপার্জন করি । আমরা সদা সুখের উত্তরাধিকার পাচ্ছি, এই খুশী থাকে । স্বর্গবাসী
হওয়া -- এ তোমাদেরই ভাগ্যে আছে । স্বর্গ এক অতি আশ্চর্যের জিনিস । যেমন সাত আশ্চর্য
দেখায়, তাই না । এ তো সবথেকে বড় আশ্চর্যের । স্বর্গের সুন্দর চিত্রও আছে এই লক্ষ্মী
- নারায়ণ স্বর্গের মালিক ছিলেন - তাই বাবা লিখেছিলেন - উপরে সূর্যবংশী লেখো আর নীচে
চন্দ্রবংশী লেখো তাহলে অর্ধেক কল্প সম্পূর্ণ হয়ে যাবে । সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী
রাজত্ব ১২৫০ বছর করে । তাহলে লাখ বছরের কথা তো উড়েই যাবে । ওদের বাহুবলের জন্য কতো
খরচ হয় । এখানে তো শুরু থেকে আরম্ভ করে অন্ত পর্যন্ত কোনো খরচই হয় না । এ তো বাবা
আর বাচ্চাদের হিসেব, খরচের কোনো কথাই নেই । এখানে বাচ্চারা এসে যাতে রিফ্রেশ হতে
পারে তাই বাড়ী ইত্যাদি তৈরী করা হয় । এ বাচ্চাদেরই অর্থ, তাও কতোদিন পার হয়ে গেছে
। বাকি অল্পকিছুদিন আছে, খরচ কিছুই নেই । তোমরা কোনো খরচ ছাড়াই জীবনমুক্তি পেয়ে
যাও । এতে কেবল পুরুষার্থের পরিশ্রমেরই কথা । ভগবানকে তো সব ভক্তই স্মরণ করে কিন্তু
জানেই না যে ভগবান কে? ভগবানকে না জানার কারণে অনেককেই ভগবান মেনে নেয় । বাচ্চারা,
এখন তোমাদের প্রকৃত বাবার পরিচয় দিতে হবে । বাবা কতবার বুঝিয়ে বলেছেন, তোমরা বড় -
বড় চিত্র মূখ্য স্থানে লাগাও, যেমন এয়ারপোর্টে, এরজন্য ওরা তোমাদের থেকে কতো খরচ
নেবে? তোমরা ওদের বোঝাও যে, এসব তো মানুষের কল্যাণের জন্য । এসব বুঝতে পারলেই মানুষ
বাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করে বিশ্বের মালিক হতে পারে । মূখ্য হলো দিল্লী ।
দিল্লী তো রাজধানী, তাই না । ওখানে সবাই একত্রিত হয় । ওখানে টিনের উপর যেন এমন বড়
বড় চিত্র থাকে । মূখ্য হলো ত্রিমূর্তি, গোলা আর ঝাড় । এই সিঁড়ি তো আশ্চর্যের, এতে
বিনাশ আদিও খুব ভালোভাবে লেখা আছে, আর পতিত পাবন পরমপিতা পরমাত্মা নাকি গঙ্গার জল?
বিচার করে দেখো । ব্রহ্মাকুমার - কুমারীরা জিজ্ঞেস করে - ঈশ্বর সর্বব্যাপী, নাকি এক
নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা? বাচ্চারা তো বাবার থেকে উত্তরাধিকার পায় । মূখ্য হলোই এই
চিত্র । ত্রিমূর্তির চিত্রও অনেক মূল্যবান । ব্রহ্মার দ্বারা বিষ্ণুপুরীর স্থাপনা
হয়, তারপর তিনি পালনাও করবেন ।
বাচ্চাদের অগাধ খুশী
হওয়া উচিত - অসীম জগতের বাবা আমাদের স্বর্গের মালিক বানানোর জন্য পড়াচ্ছেন । বাবা
এসেই স্বর্গের স্থাপনা আর নরকের বিনাশ করান, তাই মহাভারত লড়াইও সাথে সাথেই আছে ।
প্রতি পাঁচ হাজার বছর অন্তর এই চক্র আবর্তিত হয় । বাবাও প্রতি কল্পে এই সঙ্গম
যুগেই আসেন । গীতাতে ওরা আবার যুগে - যুগে লিখে দিয়েছে, তাও আবার পাঁচ যুগ যখন তখন
পাঁচ বার এসেছেন । আবার ২৪ অবতার, অমুক অবতার এমন কেন লিখে দিয়েছে । মানুষ কতো যজ্ঞ,
তপ, তীর্থ আদি করে, তারা মনে করে এইসব পথ ভগবানের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য কিন্তু
ভগবানের কাছে তো কেউ যেতে পারে না । অর্ধেক কল্প ধরে মানুষ কতো মাথা ঠুকেছে । জন্ম
- জন্মান্তর প্রদক্ষিণ করেছে, এই - ওই করে এসেছে... তবুও বাবাকে পায়নি । বাচ্চারা,
বাবা এখন তোমাদের কতো কাছাকাছি আছেন । তিনি তোমাদের সঙ্গে কথা বলছেন, তোমাদের
বোঝাচ্ছেন । তোমরা বুঝতে পারো যে, কল্প - কল্প আমরা এভাবে মিলিত হই, যা কিছু অতীতে
হয়ে গেছে, তা কল্প - কল্প আবার হবে । ওই দাদাও জহুরি হবে । তারপর তাঁর মধ্যেই বাবা
প্রবেশ করবেন । তারপর ওই বাচ্চারা এসেই আবারও বাবার হবে, আবার তারা নতুন করে
স্বর্গের উত্তরাধিকার গ্রহণ করবে । বাচ্চারা, এ হলো বাবার তোমাদের সঙ্গে অনাদি,
অবিনাশী পার্ট যা কল্প - কল্প এভাবেই রিপিট হতে থাকে । আচ্ছা ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার জানাচ্ছেন ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এ
হলো কল্যাণকারী সঙ্গম যুগ, এতে প্রতিটি বিষয়ে কল্যাণ আছে, উপার্জনই উপার্জন । বাবা
আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করে তোমাদের ২১ জন্মের জন্য জীবনকে অমর বানাতে হবে ।
২ ) প্রবৃত্তিতে থেকে
মন এবং বুদ্ধির দ্বারা সমর্পিত হতে হবে । শ্রীমৎ অনুযায়ী খরচ করতে হবে, ট্রাস্টি হয়ে
থাকতে হবে । শিব বাবার ভাণ্ডারা ভরপুর, কাল কণ্টক দূর... ।
বরদান:-
সহযোগের শক্তির দ্বারা, অসহযোগীদেরকে সহযোগী বানানো বাবার সমান পরোপকারী ভব
সহযোগীদের সাথে সহযোগী
হওয়া - এটা কোনও মহাবীরতা নয় কিন্তু যেরকম বাবা অপকারীদেরও উপকার করতেন, এইরকম তোমরা
বাচ্চারাও বাবার সমান হও। যদি কেউ যতই অসহযোগী হয়, তোমরা তোমাদের সহযোগের শক্তি
দ্বারা অসহযোগীদেরও সহযোগী বানিয়ে দাও, এমন চিন্তা করোনা যে এই কারণের দ্বারা এ
উন্নতি করতে পারছে না। দুর্বলকে দুর্বল মনে করে ছেড়ে দিও না, তাকে শক্তি দিয়ে বলবান
বানাও। এই কথার উপর অ্যাটেনশান দাও তাহলে সার্ভিসের প্ল্যানস্ রূপী গহনার উপর হীরে
ঝলমল করতে থাকবে অর্থাৎ সহজ প্রত্যক্ষতা হয়ে যাবে।
স্লোগান:-
ক্রোধের কারণ হলো স্বার্থ বা ঈর্ষা - এটাই হলো খিটখিটে থাকার মূল, প্রথমে একেই
সমাপ্ত করো।
অব্যক্ত ঈশারা :-
অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও
পবিত্রতা হল
ফাউন্ডেশন আর ফাউন্ডেশনের পবিত্রতার ব্রত ধারণ করা এটা হল সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু
এখন বড় হয়েছো, তাই এখন আর শৈশবের স্টেজ নেই, এখন তো বাণপ্রস্থ স্থিতিতে যেতে হবে।
আমি ব্রহ্মচারী তো থাকি, পবিত্রতা তো আছেই, কেবল এতেই খুশী হয়ে যেও না। মূল
ফাউন্ডেশন আর নিজের সংকল্পকে শুদ্ধ বানাও, জ্ঞান স্বরূপ বানাও, শক্তি স্বরূপ বানাও।
সম্পূর্ণতাকে প্রাপ্ত
করার জন্য দাদী প্রকাশমণি জীর গুপ্ত পুরুষার্থ
(১৯ তম পুণ্য স্মৃতি
দিবস উপলক্ষে বিশেষ ধারণা )
১) দাদীজি সমস্ত
দায়িত্ব সামলানোর সাথে সাথে এই লক্ষ্য রেখেছিলেন যে আমাকে সর্বগুণ সম্পন্ন, সর্ব
কলায় সম্পন্ন, নির্বিকারিতাতেও সম্পন্ন... হয়ে সম্পূর্ণতার লক্ষ্যকে প্রাপ্ত করতেই
হবে।
২) দাদীজি মন বাণী
কর্মে ডবল অহিংসক হয়ে, সকলকে সুখ দিয়েছেন এবং সুখ নিয়েছেন। মন্সা দ্বারাও কোনো
আত্মাকে না দুঃখ দিয়েছেন আর না দুঃখ নিয়েছেন।
৩) দাদীজি সদা এক
বাবার আকর্ষণেই মগ্ন ছিলেন,তাঁকে কোনো পুরানো বস্তু, ব্যক্তি বা প্রকৃতি নিজের প্রতি
আকৃষ্ট করতে পারেনি। সদা এক বাবার স্মরণে থেকে নিজের সূক্ষ্ম বৃত্তিগুলিকেও একাগ্র
করেছিলেন।
৪) সদা সাক্ষীভাবের
স্টেজে থেকে, সদা সাথীর সঙ্গ অনুভব করেছেন। ওঁনার দৃষ্টি, বৃত্তিতে আধ্যাত্মিকতা এবং
অলৌকিকতা ছিল। তাঁর সংস্কারের মধ্যে এতোটাই রয়্যালটি ছিল যে তাঁর চোখ কারো প্রতি
আসক্ত হয়নি।
৫) উনি কারো অবগুণ মনে
স্থান দেননি। কারো অবগুণ নোট করেননি। সদা পরচিন্তন, পরদর্শন এবং পরমত থেকে মুক্ত
থেকে স্ব-চিন্তনে থেকেছেন।
৬) দাদীজি ব্রহ্মা
বাবার মতো সদা নির্মাণ থেকেছেন। নিরাকারী এবং নিরহঙ্কারী স্থিতিতে থাকার অভ্যাস
করেছেন। সদা নিজেকে সেবাধারী মনে করতেন। কখনো নিজের মহিমা স্বীকার করেননি। কেউ
নিন্দা করলে ঘাবড়ে যান নি এবং মহিমাতেও খুশি হননি। প্রতিটি বিষয়ে নিজের স্থিতি সমান
রেখেছিলেন।
৭) বাপদাদার কাছ থেকে
পাওয়া দিব্য বুদ্ধির সওগাতকে (উপহার) সামলে রেখেছিলেন। সর্বদা সমর্থ সংকল্প করতেন।
প্রতিটি কর্ম শ্রীমত অনুসারে হয়, ওতে এতটুকুও মনমত এবং পরমত মিক্স না হয়, দিব্য
বুদ্ধির আধারে প্রতিটি সংকল্প বাণী এবং কর্ম করার লক্ষ্য রেখেই উনি সম্পূর্ণতা
প্রাপ্ত করেছিলেন।
৮) সর্বদা এক বল এক
ভরসা, একের সাথেই সর্ব সম্বন্ধ, কোনো দিকেই ঝোঁক আসক্তি নেই। সর্বদা ভাই-ভাই
বৃত্তিতে সবাইকে দেখা এবং রহমদিল (দয়ালু) গুণ ধারণ করে কমজোর আত্মাদের মধ্যে বল (শক্তি)
ভরতেন। অপকারীদের প্রতিও উপকার করেছিলেন।
৯) প্রতিটি ছোট বড়
পরিস্থিতিকে নাথিং নিউ-র স্মৃতির দ্বারা পার করেছেন। যে কোনো দৃশ্য দেখে কেন, কি
প্রশ্নের ঝঞ্ঝাটে যাওয়ার পরিবর্তে সদা সাক্ষী ভাবকে ধারণ করে, সদা হর্ষিত (হাসিমুখে)
থেকেছেন।
১০) ওনার প্রতিটি
বাণীতে রয়্যালটি ছিল। কোনো সাধারণ বাণী বলতেন না। ওনার মুখ থেকে সেই বাণীই বের হতো
যেটা হতে চলেছে। এমনই সিদ্ধি স্বরূপ আত্মার সঙ্কল্পও সিদ্ধ হওয়ার কারণে সহজেই
সম্পূর্ণতাকে প্রাপ্ত করতে পেরেছিলেন।
১১) দাদীজী সর্বদা
আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হওয়ার কারণে এই স্মৃতিতে থাকতেন যে আমি তো কল্পে - কল্পের বিজয়ী
আত্মা। কোনো পুরানো সংস্কার-স্বভাব বা হিসেব-নিকেশের অধীনে থাকতেন না। এমনই অনুভব
করেছিলেন যেন আত্মা লাইটের শরীরে নিবাস করছে।
১২) দাদীজীর বুদ্ধি
স্বচ্ছ পরিস্কার আয়নার মতো ছিল। উনি নিরন্তর তপস্বীমূর্ত হয়ে থাকতেন। সদা এই
স্মৃতিতে থাকতেন কি এই তপস্যা দ্বারাই বিশ্বের কল্যাণ হবে, সুখময় সংসার আসবে।
১৩) দাদীজী অন্তিম
সময়কে সামনে দেখে সদা স্ব-চিন্তন করেছেন। স্ব-উন্নতির জন্য রোজ অমৃতবেলা বাবার সাথে
মিষ্টি মিষ্টি বার্তালাপ করেছেন, বাবার মহাবাক্য গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন। বাবার সাথে
এবং বাবার মুরলীর প্রতি তাঁর অটুট ভালোবাসা ছিল।
১৪) দাদীজী নিজের
সম্পূর্ণ স্থিতি বানানোর জন্য দেহ বোধ থেকে ঊর্ধ্বে থাকার অভ্যাস করেছেন। ওনার
বুদ্ধিতে সর্বদা এটাই ছিল যে আমি বিশ্ব কল্যাণের নিমিত্ত হয়েছি, আমাকে স্ব স্থিতি
উঁচু, একাগ্র, একরস অথবা সংকল্পের ঊর্ধ্বে নিঃসংকল্প বানাতে হবে, তবেই এই পুরানো
দুনিয়া থেকে উড়ে গিয়ে বাবার কাছে বতনে গিয়ে বসবো।
১৫) সর্বদা এই লগনেই
থেকেছেন যে আমাকে বাবার স্মরণে থেকে, সবাইকে সন্তুষ্ট করে সকলের আশীর্বাদ (দুয়া)
নিতে হবে। কোনো আত্মা যেন আমার দ্বারা বিরক্ত হয়ে অভিশাপ (বদদুয়া) না দেয়, সেদিকে
সম্পূর্ণ রূপে খেয়াল রেখে সকলের আশীর্বাদের পাত্র হয়েছিলেন।
১৬) সর্বদা একটাই
লক্ষ্য সামনে ছিল যে আমাকে সম্পন্ন ফরিস্তা এবং কর্মাতীত হতে হবে। এই পুরানো শরীর
ত্যাগ করে ফরিস্তা হয়ে অব্যক্ত বতন বাসী হতে হবে। এই সেবা তো দিনরাত চলতে থাকবে।
আমাকে সেবার সাথে - সাথে নিজের প্রতি সূক্ষ্ম অ্যাটেনশন রেখে পাস উইদ অনার হতে হবে।
১৭) দাদীজী সর্বদা সব
বিঘ্ন পার করে নির্বিঘ্ন অবস্থায় থাকতেন। একান্তে বসে নিজেই নিজেকে সূক্ষ্মভাবে চেক
করে, নিজের দুর্বলতা কমজোরিকে, আত্মা রূপী হীরের দাগকে সম্পূর্ণ সমাপ্ত করে অমূল্য
হীরে হয়ে গিয়েছিলেন।
১৮) নিজেকে সম্পূর্ণ
পবিত্র, লাইট মাইট দ্বারা সম্পন্ন বানানোর জন্য আন্তরিক বৈরাগ্য বৃত্তি দ্বারা সব
বিষয় থেকে উপরাম (মুক্ত) থেকে নিজের সূক্ষ্ম দৃষ্টি বৃত্তিকে সম্পূর্ণ পবিত্র
করেছিলেন। পুরানো সংস্কারের প্রকৃতিকে পরাজিত করে প্রকৃতজীত হয়ে বাবার কোলে সমাহিত
হয়ে গিয়েছিলেন।
১৯) আমি বাবার, আমাকে
বাবার সমান সম্পূর্ণ হতেই হবে, সেইজন্য সূক্ষ্ম দেহ অভিমান, নিজের সংস্কার, মান-শান
ও মহিমা, বুদ্ধি এবং অভ্যাস সবকিছুকে সমর্পণ করেছিলেন এবং বাবার সমান হয়ে
অব্যক্তবতন বাসী হয়ে গেছেন। আচ্ছা- ওম্ শান্তি