26-04-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 31-12-2009 মধুবন


‘‘নতুন বছরে সব আত্মাকে বার্তা দিয়ে গোল্ডেন ওয়ার্ল্ডের গিফ্ট দাও, বাবা সমান হওয়ার জন্য দেহী-আভিমানী থাকার নেচার ন্যাচারাল বানাও"


আজ বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে বাপদাদার স্নেহে আর লভে লভলীন স্বরূপে দেখছেন। প্রত্যেক বাচ্চা পরমাত্ম ভালোবাসায় ঝলমল করছে। সব বাচ্চা ভালোবাসার বিমানে পৌঁছে গেছে। বাস্তবে, নিউ ইয়ার উদযাপন করার জন্ম তোমরা এসেছো, কিন্তু সবার নয়নে কী দেখা যাচ্ছে? নিউ ইয়ার, নতুন সাল তো নিমিত্ত মাত্র। কিন্তু তোমাদের সবার নয়নে কী উদ্দীপনা রয়েছে? তিন ভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছ। এক নিজের নতুন জীবনের অভিনন্দন আর দুই নতুন যুগের অভিনন্দন আর তিন, পরিবার আর বাবার সাথে মিলনের অভিনন্দন। তোমাদের নয়নে কী ঘুরছে? নিজেদের নব যুগ সামনে আসছে তো না! হৃদয়ে উদ্দীপনার উদ্রেক হচ্ছে যে নতুন যুগ সমাগত প্রায়। নতুন যুগের দীপ্তিময় ড্রেস সামনে এতটাই স্পষ্ট যে আজ আরও তাড়াতাড়ি সঙ্গম যুগে এই ঝলমলে ড্রেস পরতে চলেছো। এটা নিজেদের সামনে দেখে তোমরা খুশি হচ্ছো। বিদায়ও দিচ্ছ আর অভিনন্দনও নিচ্ছো। যেমন, পুরানো সালকে তোমরা বিদায় দাও আর তারপরে সেই সাল ভুলে যাও, আর নতুন সাল সামনে আসে। ঠিক তেমনই তোমাদের সামনে পুরানো দুনিয়াকে অভিনন্দন নয়, বরং নতুন দুনিয়াকে অভিনন্দন জানাচ্ছ। পুরানো দুনিয়াকে বিদায় দিচ্ছ।তো আজ সবার মধ্যে নতুন যুগের উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। লোকেও নতুন বছরের অভিনন্দন জানায় আর সেইসঙ্গে গিফ্টও দেয়। তো বাপদাদাও তোমরা সব বাচ্চাকে পুরানো স্বভাব সংস্কার বিদায় দিয়ে নতুন দুনিয়াতে যাওয়ার গিফ্ট দিচ্ছেন, যে নতুন দুনিয়াতে প্রাপ্তিই প্রাপ্তি। শর্টে যদি বলা হয় তো নতুন দুনিয়াতে কোনও বস্তু অপ্রাপ্ত নয়। এরকম গোল্ডেন ওয়ার্ল্ডের গিফ্ট বাপদাদা তোমরা সব বাচ্চাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিয়েছেন। তোমাদেরও নেশা আছে তো না যে আমরা গোল্ডেন ওয়ার্ল্ডের অধিকারী হতে চলেছি। এমন গিফ্ট আর কেউ দিতে পারে না। বাবা প্রত্যেক বাচ্চাকে এই ডিরেকশন দিয়েছেন যে সব আত্মাকে গোল্ডেন ওয়ার্ল্ড বাবার উত্তিরাধিকার এই বার্তা দিয়ে তাদেরও গিফ্ট দাও। তোমাদের কাছে কোন গিফ্ট আছে? এক তো নতুন দুনিয়ার গিফ্ট দাও, আর দুই, তোমাদের কাছে অনেক ভাণ্ডার আছে - গুণের ভাণ্ডার, শক্তির ভাণ্ডার, স্বমানের ভাণ্ডার। কত ভাণ্ডার! তো সবাইকে কোনো না কোনো গুন, কোনো না কোনো শক্তি গিফ্ট হিসেবে দাও, যে গিফ্ট দ্বারা তাদের জীবন বদলে যাবে আর গোল্ডেন দুনিয়ার অধিকারী হয়ে যাবে। কেননা, আজকাল তোমরা দেখতে পাচ্ছ চতুর্দিকে দুঃখ অশান্তি বাড়ছে। চতুর্দিকে ভয় আর চিন্তা প্রত্যেকের মধ্যে রয়েছে। এরকম দুঃখী অশান্ত আত্মাদেরর কমপক্ষে এই বার্তা অবশ্যই দাও যে, এখন বাবা এসেছেন, এখন থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়ে যাও। এই বার্তা সব আত্মাকে দিচ্ছ কিন্তু এখনও বাবার কিছু বাচ্চা বার্তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত থেকে গেছে। এক বাবার বাচ্চা তো না! তো নিজেদের ভাই বোনেদের এই বার্তার গিফ্ট অবশ্যই দাও। কেউ যেন বাকি থেকে না যায়। তোমরা সেবা করছ, বাপদাদা বাচ্চাদের সেবা দেখে খুশি কিন্তু বাবার এই আশা যে তাঁর কোনও বাচ্চা যেন না থেকে যায়। তোমাদের যেন অভিযুক্ত না করে যে - গোল্ডেন ওয়ার্ল্ডের উপহার পেয়েছো তোমরা আর আমরা জানতেই পারিনি। আমাদের বাবা এসেছেন কিন্তু আমরা বার্তা পাইনি। সেইজন্য এই নতুন সালে এই চেষ্টাই করো, নিজেদের মধ্যে প্ল্যান বানাও যে কোনও কোনা যেন রয়ে না যায়। অভিযোগ উঠতে দিও না, বরং তারা যেন খুশি হয়ে যায়, তাদের জানতে দাও যে আমাদের বাবা এসে গেছেন। যেন বঞ্চিত না থেকে যায়। তো এই নতুন সালে কী করবে তোমরা? মিলেমিশে নিজেদের মধ্যে প্ল্যান বানাও, বাপদাদার প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি করুণার উদ্রেক হয়। তো তোমাদেরও ভাইবোনেদের প্রতি এখন বিশেষ সহৃদয়, কল্যাণকারী স্বরূপ ধারণ ক'রে সবাইকে বার্তা দিতে হবে। অন্ততঃ এরকম অভিযোগ তো করবে না!

তো আজ তোমরা বাচ্চারা সবাই নতুন বছর উদযাপনের উৎসাহ-উদ্দীপনায় পৌঁছে গেছো। বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে দেখে কোন গীত গান? তোমরা জানো তো না! বাঃ বাচ্চারা বাঃ! যারা প্রথমবার এসেছে তাদেরও বাপদাদা বলছেন যে, তোমরা লাকি, যারা সময় সমাপ্ত হওয়ার আগেই বাবার হয়ে গেছো। নতুন বাচ্চাদেরকে বাপদাদা পদম পদম গুন লাকি হওয়ার অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আজকাল বাপদাদা একটা বিষয় সবার মধ্যে দেখতে চান। জানো, সেটা কি? যেমন, তোমাদের সবার হৃদয়ে প্রবল আগ্রহ আছে, লক্ষ্য রয়েছে যে আমরা বাবা সমান হতে চলেছি, হবো এটা নয়, হতে চলেছি। তো যেমন লক্ষ্য ঠিক তেমনই লক্ষ্যের সাথে বাপদাদা লক্ষণও দেখতে চান এখন। যেমন সমান হওয়ার লক্ষ্য আছে তেমন লক্ষণও হতে হবে। এখনের লক্ষ্য অনেক উঁচু কিন্তু লক্ষণেও অ্যাটেনশন দিতে হবে। সমান হওয়ার লক্ষ্য যত বড় লক্ষণও ততো বড় হতে হবে। এখন কোনো কোনো বাচ্চা লক্ষণ ধারণ করতে চায় কিন্তু মাঝে মাঝে আবার বলেও দেয় - চাই তো খুবই কিন্তু... তো এই কিন্তু সরিয়ে দেওয়া উচিত । দূর থেকে তোমাদের আচার-আচরণ আর মুখ দ্বারা যত বড় লক্ষ্য দৃশ্যমান হয় ততটা লক্ষণ তোমাদের আচরণ দ্বারা প্রতীয়মান হোক, মুখমণ্ডল দ্বারা দৃশ্যমান হোক। যেমন, আগে তোমরা দেহ-অভিমানে ছিলে। তো যখন দেহ-অভিমানে ছিলে তখন দেহ- অভিমানের নেচার ন্যাচারাল ছিল, কখনো এই বিষয়ে পুরুষার্থ করেছ কি যে দেহ-অভিমান আসুক! তোমাদের দেহ-অভিমান ছিল ন্যাচারাল নেচার। অর্ধেক কল্প পুরুষার্থ করনি, সেরকমই এখনও দেহী অভিমানী হওয়ার নেচার ন্যাচারাল হওয়া উচিৎ। যখন দেহ-অভিমানের নেচার ন্যাচারাল ছিল কখনো স্মরণে এসেছে দেহ-অভিমানে থাকতে হবে! এই পুরুষার্থ করেছ? এখনও দেহ-অভিমান আর দেহী-অভিমান আছে, তাহলে দেহী অভিমানী হওয়ার জন্য পরিশ্রম কেন? কেননা, বাপদাদার কাছে সমাচার আসে যে কখনো কখনো দেহ-অভিমান সরানোর জন্য পরিশ্রম করতে হয়। যখন দেহ-অভিমান ন্যাচারাল থেকেছে তখন দেহী-অভিমানী হওয়াতে পরিশ্রম কেন? তো বাচ্চাদের পরিশ্রম বাপদাদার ভালো লাগে না। পরিশ্রম থেকে মুক্ত হওয়া আর ন্যাচারাল নেচার হওয়া - একে বলা হয়ে থাকে লক্ষ্য আর লক্ষণ সমান। তারপর দেখ, বাবা সমান হওয়া খুব সহজ আর ন্যাচারাল লাগবে। যেমন, ব্রহ্মা বাবাকে দেখেছিলে, এত বড় পরিবারের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও দেহী অভিমানীর ন্যাচারাল নেচার ছিল। বাচ্চাদের উপরেও দায়িত্ব ছিল কিন্তু ব্রহ্মা বাবার সামনে সেই দায়িত্ব কী! যেকোনো দায়িত্ব, মনে করো জোনের দায়িত্ব, কিংবা কোনো অফিসিয়ালি যজ্ঞ কারবারের দায়িত্ব, কিন্তু সেই দায়িত্ব ব্রহ্মা বাবার সামনে কী! ব্রহ্মা বাবা শিববাবার সহায়তায় প্র্যাকটিক্যালি ক'রে দেখিয়েছেন যে করাবনহার করাচ্ছেন, আমি করণহার হয়ে বাবা সমান স্বতন্ত্র ও প্রিয়। সুতরাং বাবা সমান যদি হতে চাও তবে এটা চেক করো, মন্সা হোক কিংবা বাচা অথবা কর্মণা সব তোমাদের ডিউটি। কিন্তু আমি করণহার, ট্রাস্টি, করাবনহার মালিক শিববাবা। করাবনহারের এই পাঠ চলতে চলতে তোমরা ভুলে যাও। তো লক্ষ্য আর লক্ষণ দুইই সমান বানাতে হবে। এখন পুরানো সালকে বিদায় দেওয়ার সাথে এই লক্ষ্যের লক্ষণকে বাস্তব রূপ দিতে হবে। নতুন সালের জন্য নতুন বিষয়। কী করবো, মায়া এসে যায়, চাই না তবুও আসে - এই শব্দসমূহ বা সঙ্কল্প পুরানো বছরের সাথে বিদায় দাও। শুধু সালকে বিদায় দিও না। বাপদাদা তোমাদের শুনিয়েছেন তো না যে মায়াও বাপদাদার কাছে আসে আর সে কী বলে? আমি বুঝি এখন আমার যাওয়ার সময়, কিন্তু কিছু কিছু বাচ্চা আমায় আহ্বান করে, আমি কী করতে পারি! তো আজ বিদায়ের সাথে মায়ার ভিন্ন ভিন্ন রূপকেও বিদায় দিতে হবে। আছে সাহস? সাহস আছে? হাত উঠাও। বিদায় দেওয়ার সাহস আছে? যারা পিছনে বসে আছ তোমাদের সাহস আছে? যাদের সাহস আছে তারা হাত উঠাও। তো বাবা এই সাহসের অনেক পদম পদম গুন কল্যাণকারী ভাবনা জ্ঞাপন করেন। কেন? বাপদাদা কেন এর উপরে জোর দিচ্ছেন? কেননা, তোমরা সবাই দেখতে পাচ্ছ দুনিয়ার অবস্থা দ্রুততার সঙ্গে খারাপ হচ্ছে এবং বাপদাদার এই মহাবাক্য কিছু সময় ধরে চলছে - হঠাৎ ক'রে হওয়ার আছে। যেহেতু, আকস্মিক হবে আর যদি বহুকালের অভ্যাস না থাকে, বলো তো আকস্মিকতার সময়ে অভ্যাসের আবশ্যকতা আছে তো না! এই মুহূর্তে দেখ বাপদাদা হোমওয়ার্ক দিয়েছেন, ১০ মিনিট, টোটাল ২৪ বার। ১০-১০ মিনিটের হোমওয়ার্ক দিয়েছেন, তো কিছু বাচ্চার মুস্কিল হচ্ছে। তাহলে ভাবো, যদি ১০ মিনিটের অভ্যাসের সময় না থাকে তবে আকস্মিকতার সেই সময়ে কী করবে? বাপদাদা জানেন যে, ২৪ বারের ক্ষেত্রে কেউ কেউ সময় কম পায়, কিন্তু বাপদাদা ট্রায়াল করেছেন, ১০ মিনিট একই স্মৃতিতে যখন চাইবে, যেভাবে চাইবে সেভাবে করতে পারো, বাপদাদা এটা বলেন না এখনই ১০ মিনিট অভ্যাস করো, ঠিক আছে সম্ভবপর হচ্ছে না, যে পারবে সে করো, যদি না সম্ভব হয় তবে ৫ মিনিট করো, ৫ মিনিট থেকে ৭ মিনিট, ৬ মিনিট, যতটা বাড়াতে পারো ততটা ট্রায়াল করো। বাপদাদা নিজেই বলছেন এতে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাপার নেই। ১০ মিনিট যদি বেশি সময় মনে হচ্ছে তো ৮ মিনিট করো, ৯ মিনিট করো, যত বেশি করতে পারো ততটা অভ্যাস বানিয়ে নাও। কেননা, বহুকালের পুরুষার্থের যে প্রাপ্তি রয়েছে, অর্ধেক কল্পের সেই বহুকালে প্রাপ্তিতে নয়তো পার্থক্য হয়ে যাবে, যদি এখন কম সময় দাও। যতটা সম্ভব, বাপদাদা ততটাই অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন। যদি পারো ৫ মিনিট থেকে বেশি করো, ১০ মিনিট যদি সম্ভব না হয় তবে ৭ মিনিট করো, ৮ মিনিট করো। এমনকি ৫ মিনিটেরও অনুমতি আছে। কিন্তু কোনো সময়ে যদি ১০ মিনিট হয় তো সেটা ভালো। এমন সময় আসবে যখন তোমাদের নিজেদের জন্য আর বিশ্বের জন্যও কিরণ দিতে হবে। সেইজন্য বাপদাদা অনুমতি দেন, যত বেশি সময় করতে পারো, তত প্র্যাকটিস করো। কেননা, এখনের বহু সময় ভবিষ্যতের আধার। ঠিক আছে? কঠিন লাগে! কোনো ব্যাপার নয়, এখন তো কোনো ক্ষতি নেই, আর বাবাকে বলেছ এটা খুব ভালো করেছ, কারণ, মনে করো ১০ মিনিট বসতে পারছ না, সেটা ভেবেই সময় চলে গেল, তবে ৫ মিনিটও গেল, সেইজন্য বাপদাদা বলেন, কমপক্ষে ৫ মিনিটের থেকে কম ক'রো না। যতটা বাড়াতে পারবে ততটা বাড়াও। ঠিক আছে, স্পষ্ট হয়েছে? কেননা, বাপদাদা প্রত্যেককে অনেক শ্রেষ্ঠ স্বরূপে দেখেন। বাপদাদা এর গুরুত্বের জন্য প্রত্যেক বাচ্চাকে কত স্বমান দিয়েছেন। স্বমানের লিস্ট যদি বের করো তো সেটা কত বড় হবে?

আজ বাপদাদা অমৃতবেলায় চক্রভ্রমণে গেছেন। কী দেখতে গেছেন? এটাই দেখতে গেছেন যে, বাপদাদা স্বমানের অনেক বড় মালা দিয়েছেন। যদি প্রতিটা স্বমানে স্থিত হয়ে সেই স্থিতিতে বসো, ঠিক আছে স্বমান বলতে থাকো আর মালা ঘোরাতে থাকো তবে খুব মজা লাগবে। স্বমানের লিস্ট রাখা আছে কিন্তু একেকটা স্বমান কত বড়! আর দিয়েছেন কে! ওয়ার্ল্ড অলমাইটি অথরিটি প্রত্যেক বাচ্চাকে অনেক স্বমানের লিস্ট দিয়েছেন। সেগুলো ইউজ করো। কেননা, আর কোনো অথরিটি নেই যে তোমাদের স্বমানের এই লিস্ট কম করতে পারে। আর কারও এত স্বমানের মালা প্রাপ্ত হয়নি। তো বাপদাদা দেখেছেন, সত্যযুগে তো রাজ্যভাগ্য প্রাপ্ত হবেই কিন্তু এই স্বমানের মালা সঙ্গমযুগের দান। বাপদাদা যখনই বাচ্চাদের দেখেন তখন প্রত্যেক বাচ্চার স্বমানের স্থিতিতে দেখে থাকেন - বাঃ বাচ্চা বাঃ! তো স্বমানের অথরিটিতে থাকো, আমি কে! কখনো কোনো স্বমান সামনে রাখো, কখনো আর কোনো স্বমান সামনে রাখো এবং চেক করো। তো আজ অমৃতবেলায় বিশেষ যে স্বমান বুদ্ধিতে রেখেছ সেই স্বমান ভাণ্ডার তো না! এটা ইউজ করেছ! কেননা, ভাণ্ডার তোমরা কার্যে যত প্রয়োগ করবে ভাণ্ডার ততো বাড়বে। তো বাপদাদা আজ দেখছিলেন কোন কোন বাচ্চারা আছে। কা'র কাছে স্বমানের স্মৃতির মালা বড় ছিল কা'র কাছে ছোট। যেখানে স্বমান থাকবে সেখানে দেহবোধ শেষ হয়ে যায়। তো আজ বাপদাদা পরিক্রমণ করেছেন এবং দেখেছেন, স্বমানের ভাণ্ডার যেমন রয়েছে, তেমনই একেক শক্তি, একেক গুণ ব্যবহার করো, কার্যে লাগাও। তাহলে এই যে প্রবলেম হয় মায়া এসে গেছে, মায়া তো আসে না, মায়ার ব্যাপারে বাবা বলে দিয়েছেন যে, মায়া বলে আমাকে আহ্বান করে তবেই তো যাই, অকারণে যাই না। কোনও হালকা সঙ্কল্প করা মানেও মায়াকে আহ্বান করেছ। শক্তি ছেড়ে দিয়েছ তো মায়াকে আহ্বান করেছ। আমি চাই না কিন্তু এসে যায়। বলবান কে? চাও না কিন্তু এসে যায়, তাহলে মায়া বলবান হলো নাকি তুমি? তো আজ পুরানো বছর সমাপ্ত হচ্ছে, নতুন বছরে নতুন উদ্যম, নতুন উৎসাহ, কেননা, সঙ্গম যুগের গায়ন আছে উৎসাহ ভরা একেক দিন অর্থাৎ উৎসব। সুতরাং উৎসাহ- উদ্দীপনা আছে তো প্রতিদিন উৎসব, সেইজন্য এটা পাক্কা করো। চলতে ফিরতে রোজ নিজের চার্ট দেখো। চেক করো। যদি চেক করো তবে তো চেঞ্জ করবে, তাই না! চেকই যদি না করবে তবে চেঞ্জ কীভাবে করবে!

তো আজ নতুন সালের জন্য বাপদাদার বিশেষ এই সঙ্কল্প আছে যে সব বাচ্চা যেমন পুরানো বছরকে বিদায় দাও তেমন মায়াকে বিদায় দাও। ব্যর্থ সঙ্কল্পকে বিদায় দাও। কেননা, মেজরিটিতে এটাই দেখা গেছে যে ব্যর্থ সঙ্কল্প বেশি আসে। বিকারী সঙ্কল্প কম, কম কিন্তু ব্যর্থ যা আছে তার লেশমাত্র যেন সমাপ্ত হয়ে যায়, সব সঙ্কল্প দৃঢ় আর উপযুক্ত হতে হবে, ব্যর্থ যেন না হয়। কেননা, ব্যর্থ সঙ্কল্পে শুধু সঙ্কল্প চলে না উপরন্তু ব্যর্থ টাইমও যায়, তাছাড়া বাবা সমান হওয়াতে দূরে হয়ে যাও। তোমাদের ইচ্ছা তো সমান হওয়া, তাইতো হাত তুলেছো। কিন্তু বাপদাদা সদা বলেন যে মনের হাত তোলো, এই হাত তোলা তো ইজি। তো বিদায় দেওয়ার সাহস আছে তোমাদের? আছে সাহস? হাত তোলো। আচ্ছা, সাহসী তোমরা। ব্যস্ সাহস বজায় রাখো। যদি সাহস বজায় থাকে তবে যে লক্ষ্য রেখেছ সেটা হয়েই যাবে। কারণ বাপদাদাও সাথে আছেন। বাপদাদা চান যে আমার কোনও বাচ্চা যেন পিছনে থেকে না যায়। হাতে হাত রেখে চলো। শিব বাবা নিরাকার, হাত নেই কিন্তু শ্রীমতই তাঁর হাত। প্রতি কদম শ্রীমতে চলা অর্থাৎ হাতে হাত রেখে চলা। তো সবাইকে নতুন বছরের নব জীবনের আর নব যুগের - এই তিনের পদম পদম গুন অভিনন্দন। আচ্ছা।

এখন দেশ-বিদেশের চতুর্দিকে বাবার প্রিয়, বাবার পরমাদরের, বাবার হারানিধি প্রত্যেক বাচ্চাকে বিদায় আর কল্যাণময় শুভেচ্ছা। আর বাপদাদা বলেছেন যে যারা পুরানো বছরের সাথে পুরানো সংস্কারের বিদায় দেয়, স্বভাবও বিদায় দেয় এমন মহাবীর বাচ্চাদের, যারা প্রতি কদমে পদমের উপার্জন করে, বাপদাদা যে স্বমান দেন, সেই স্বমানের স্থিতিতে স্থিত অনুভবকারী প্রত্যেক বাচ্চাকে বাপদাদা এমন রূপে দেখেন যে এই একেক বাচ্চা ২১ জন্মের উত্তরাধিকারের অধিকারী, সমগ্র কল্পে ২১জন্মের অধিকারী হওয়ার উত্তরাধিকার তোমরা সব বাচ্চারই প্রাপ্ত হয়, তো চতুর্দিকের এমন শ্রেষ্ঠ অধিকারী বাচ্চাদের বাপদাদা, বাবা শিক্ষক আর গুরুরূপে, তিন রূপেই স্মরণে স্নেহ-সুমন আর নমস্কার জ্ঞাপন করছেন।

বরদান:-
সার্ভিস বা পুরুষার্থে সফলতা প্রাপ্ত ক'রে ডবল মুকুটধারী ভব

সঙ্গম যুগে সদা স্বয়ংকে ডবল মুকুটধারী মনে ক'রে এগিয়ে চলো - একটা লাইট অর্থাৎ পিওরিটির মুকুট আরেক দায়িত্বের মুকুট। পিওরিটি আর পাওয়ার - লাইট আর মাইটের ক্রাউন যারা ধারণ করে তাদের মধ্যে ডবল ফোর্স সদা কায়েম থাকে। এমন ডবল ফোর্স আত্মারা সদা শক্তিশালী থাকে। সার্ভিস বা পুরুষার্থে সদা সফলতা প্রাপ্ত হয়ে থাকে।

স্লোগান:-
দিব্য গুণের আধারে মন-বচন ও কর্ম করাই দিব্যতা।

অব্যক্ত ইশারা :- মহান হওয়ার জন্য মধুরতা আর নম্রতার গুণ ধারণ করো যে কোনো জিনিস গরম ক'রে নরম করা হয়ে থাকে, তারপরে মোল্ডিং করা হয়। এখানে গরম হলো শক্তি রূপ আর নরম হলো নিরহংকার অর্থাৎ স্নেহ রূপ। যার মধ্যে সব আত্মার প্রতি স্নেহ থাকবে সেই নম্র চিত্ত হতে পারে। স্নেহ না থাকলে তবে না হতে পারবে হৃদয়বান, না নম্রচিত্ত। শক্তিরূপে আছে মালিকভাব আর নম্রতায় রয়েছে সেবার গুন। তো যখন এমন নরম (নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব) আর গরম (উচ্চ মনোবল) দুইই থাকবে তখন সব বিষয়ে মোল্ড হতে পারবে।