27.08.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
এখন এই অসীম জাগতিক পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হতে চলেছে, নতুন দুনিয়া স্থাপন হচ্ছে, তাই
নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্য পবিত্র হও"
প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা তোমরা
পরমাত্মার বিষয়ে কোন্ ওয়ান্ডারফুল কথা জানো যা মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়?
উত্তরঃ
তোমরা বলো,
আত্মা যেমন জ্যোতির্বিন্দু, তেমনি পরমাত্মাও হলেন অতি সূক্ষ্ম জ্যোতির্বিন্দু। এই
ওয়ান্ডারফুল বিষয়গুলো মানুষের বোঝার বাইরে। কোনো কোনো বাচ্চাও এতে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে
যায়। বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ো না। যদি ক্ষুদ্র রূপে স্মরণ না
থাকে তাহলে বৃহৎ রূপে স্মরণ করো। স্মরণ অবশ্যই করতে হবে।
গীতঃ-
রাতের পথিক হয়ো
না শ্রান্ত / ভোরের গন্তব্য নয় তো দূরে....
(রাত কে রাহী থক মত যা না…)
ওম্ শান্তি ।
আত্মিক
বাচ্চাদেরকে আত্মিক বাবা বসে থেকে বোঝাচ্ছেন। তাই বাচ্চাদেরকেও আত্ম-অভিমানী হয়ে
বসতে হবে। এভাবে আর অন্য কোথাও বোঝানো হয় না। সাধু-সন্তরাও কেউ এভাবে বোঝায় না যে
আত্ম-অভিমানী হয়ে বসো। এই কথা একমাত্র বাবা-ই বোঝান, অন্য কেউ এই কথা বলতে পারবে
না। এই যুক্তি কেউ বলতে পারবে না। তোমরা বাচ্চারাও বোঝো যে, তোমরা আত্মা। আত্মাই
একটা শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে। কখনও ব্যারিস্টার, কখনও ডাক্তার হয়।
আত্মাই এখন পতিত হয়ে গেছে, আবার পবিত্র হবে। আত্মাই জ্ঞানকে ধারণ করে। নিরাকার বাবা
হলেন জ্ঞানের সাগর, তাই তিনি এসে অবশ্যই জ্ঞানের কথা শোনাবেন। তিনিই পতিত-পাবন, তাই
এসে অবশ্যই পবিত্র বানাবেন। উনি হলেন সুপ্রিম, পরমপিতা পরমাত্মা। বাবা বলেন - আমি
তোমাদের বাবা, সুপ্রিম এবং নলেজফুল। আমার নিজের কোনো শরীর নেই। এই সমস্ত নলেজ তোমরা
আত্মারা ধারণ করো, তাই তোমাদের আত্ম-অভিমানী হতে হবে। দেহ-অভিমান রাখা উচিত নয়। আর
কোনো এরকম জায়গা নেই যেখানে যারা শোনে এবং যিনি শোনান উভয়েই আত্ম-অভিমানী। বাবা তো
নিরাকার। উনি এসে তোমাদের রাজযোগ শেখান। বাকি সকল মানুষ দেহ-অভিমানী হয়ে আছে। যদিও
বলো যে লক্ষ্মী নারায়ণ আত্ম-অভিমানী ছিল কিন্তু দেহভান তো ছিল, তাই না! এই জ্ঞান
একমাত্র পরমপিতা পরমাত্মাই এসে দেন। আত্মাদের তা ধারণ করতে হয়। আত্মাদেরকেই পতিত
থেকে পবিত্র হওয়ার যুক্তি বলেন। এখন সমগ্র দুনিয়ার ডাউনফল (পতন) হচ্ছে। তিনি পুনরায়
রাইজের জন্য (ওপরে ওঠানোর) আসেন। তোমরা বাচ্চারা জানো যে, ডাউনফল অর্থাৎ
ডিস্ট্রাকশন, রাইজ অর্থাৎ কনস্ট্রাকশন। স্থাপন এবং বিনাশ। কীসের স্থাপনা? নতুন
দুনিয়া বা স্বর্গের স্থাপন এবং তারপর পুরানো দুনিয়া বা নরকের বিনাশ। ড্রেস্ট্রাকশন
এবং কনস্ট্রাকশন। কলিযুগ হলো পুরানো দুনিয়া, এর অবশ্যই বিনাশ হওয়া উচিত। বিনাশের
নিদর্শন হলো এই বিশাল মহাভারতের যুদ্ধ। যে যুদ্ধের বর্ণনা মহাভারত শাস্ত্রে দেখানো
হয়েছে। বাবা ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপন করেন। তিনি অবশ্যই নতুন দুনিয়া স্থাপন করেন। এটা
হলো অসীমের বিনাশ এবং অসীমের স্থাপন। কেবল বাবা-ই বাচ্চাদের জন্য নতুন প্রাসাদ
নির্মাণ করেন। তারপর পুরানো দুনিয়া অবশ্যই ধ্বংস করবেন। তোমরা বোঝ যে, বাবা এখন
নতুন দুনিয়া স্থাপন করছেন। তমোপ্রধান থেকে আবার সতোপ্রধান বানানোর জন্য আমাদের
প্রস্তুত করছেন। বিনাশের জন্য মহাভারতের যুদ্ধ বিখ্যাত। বোঝানো হয়, এটাই সেই
যুদ্ধের সময়, সেই অ্যাক্টররা এখন পুনরায় একত্রিত হয়েছে যারা মহাভারতের সময়ে ছিল।
সিঁড়ির চিত্রেও ভারতের উত্থান এবং পতনের অদ্ভুত কাহিনী লেখা হয়েছে। এই লাইনের সঙ্গে
"প্রতি কল্পে" শব্দটাও যোগ করা উচিত। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষ ৮৪ বার জন্ম নেয়।
এটাও তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। মানুষের বুদ্ধি গোদরেজের তালা দিয়ে একেবারে বন্ধ আছে।
এই বিষয়গুলো মানুষকে জানতে হবে। আত্মারা এখানে শরীর ধারণ করে নিজের ভূমিকা পালন
করার জন্য। সুতরাং, ড্রামার আদি, মধ্য এবং অন্তের ক্রিয়েটর, ডাইরেক্টর, মুখ্য
অ্যাক্টরস্ ইত্যাদিকে জানা দরকার। এখন তোমরা ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তকে জেনে গেছে।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো নাটকে কার কি পার্ট সব জেনে গেছে। বাবার কাছ থেকেই এই
সমস্ত নলেজ পাচ্ছ। সৃষ্টিচক্র কিভাবে আবর্তিত হয় ! একেই বলা হয় আধ্যাত্মিক জ্ঞান।
জাগতিক জ্ঞানকে ফিলোজফি (দর্শন) বলা হয়। আধ্যাত্মিক বা আত্মিক নলেজকে জ্ঞান বলা হয়।
এখন এই সমস্ত বিষয় তোমাদের বুদ্ধিতে দেওয়া হয়েছে।
বাচ্চারা জানো যে এখন
৮৪ জন্মের নাটক সম্পূর্ণ হচ্ছে। এখন আমরা ঘরে ফিরে যাব। কিন্তু অপবিত্র অবস্থায় কেউ
ফিরে যেতে পারবে না। নাহলে এত জপ তপস্যা, তীর্থযাত্রা ইত্যাদি কেন করবে? পবিত্র
হওয়ার জন্য গঙ্গাস্নান করতে যায়, কিন্তু এর মাধ্যমে তো কেউ পবিত্র হয় না, তাই ফিরেও
যেতে পারে না। তারা অনেক মিথ্যা বলে। বলে যে অমুক ব্যক্তি মোক্ষলাভ করেছিল,
মহাজ্যোতিতে লীন হয়ে গেছে। বাবা বুঝিয়েছেন কেউ ফিরে যায় না। সব অভিনেতারা এখনো
এখানেই রয়েছে। এখন নাটক সম্পূর্ণ হচ্ছে তাই সবাই স্টেজে রয়েছে। সবাই এখন এখানে
উপস্থিত হয়েছে। মানুষ জানে না বৌদ্ধ, খ্রিস্ট ইত্যাদি কোথায়। তোমরা বোঝ যে, যেসব
আত্মারা উপর থেকে এসেছে তারা সবাই এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে। আগের কল্পেও তমোপ্রধান
থেকে সতোপ্রধান হয়েছিলে। কেবল বাবা এসে স্থাপন এবং বিনাশের অনুপ্রেরণা দেন। বলা হয়,
এই জ্ঞান রাজাদের রাজা বানিয়ে দেবে। অসীম জগতের বাবা বলেন - আমি তোমাদেরকে রাজাদের
রাজা তৈরি করি। কৃষ্ণ তো স্থাপন করে না। সৃষ্টিকর্তা হলেন বাবা। বাবা এসেই বোঝান
যে, যখন এই সৃষ্টি অপবিত্র হয়ে যায়, তখন তোমরা আমাকে আহ্বান করো। এমন নয় যে, আমি
নতুন সৃষ্টি রচনা করি ! যেমন দেখানো হয় যে সম্পূর্ণ সৃষ্টি বিনাশ হয়ে যায়, সেগুলো
ভুল। মানুষ আহ্বান করে, হে পতিত-পাবন এসো! অবশ্যই তিনি পতিত দুনিয়াতেই আসবেন, তাই
না! বাবা এসে কৃষ্ণপুরীর সাক্ষাৎকার করান। তারা দেখায় যে, কৃষ্ণ নাকি পিপল (অশ্বত্থ)
পাতার উপর চড়ে সাগর থেকে এসেছিল..। এটা ঠিক কথা যে নতুন দুনিয়াতে প্রথম কৃষ্ণই আসে।
কিন্তু সাগরে নয় গর্ভমহলে আসে। আঙ্গুল চুষে, অনেক আরামে গর্ভমহলে থাকে। সত্যযুগে যে
বাচ্চারা জন্ম নেয় তারা সবাই গর্ভমহলে থাকে। তারা গর্ভমহলের কথাকে সাগরে অশ্বত্থ
পাতায় দেখিয়েছে। এ সব হলো ভক্তিমার্গের কথা। বাবা এইসব শাস্ত্রের সার কথা সামনে বসে
বোঝান। এখানে গর্ভজেলে থাকো তাই বলো যে আমাকে বাইরে বার করো, আর আমরা পাপ করব না।
কিন্তু রাবণের দুনিয়াতে তো পাপ আছেই। তাই আবার তোমরা পাপ করতে শুরু করো। তোমরা
অর্ধেক কল্প জেল বার্ডস হয়ে যাও। চোরদের জেল বার্ডস বলা হয়। জেল থেকে বেরিয়ে আসে,
আবার চুরি করতে থাকে এবং তারপর আবার জেলে যায়, এইজন্য জেল বার্ডস বলা হয়। বাবা
বুঝিয়েছেন, এটা রাবণরাজ্য। ওখানে তো এইরকম কথাই নেই, ওটা রামরাজ্য। ওখানে গর্ভজেলও
থাকে না আর এইরকম জেলও থাকে না। এখানে কত মানুষ জেলে পড়ে থাকে। গর্ভ জেলও আছে, অন্য
জেলও আছে, ডবল জেল রয়েছে। কলিযুগের অন্তিম সময় এখন।
বাবা বোঝাচ্ছেন, তোমরা
বাচ্চারা এখন স্থাপন করার কাজ করছো। প্রত্যেক কল্পেই এইরকম উত্থান আর পতন হতে থাকে।
এতে মুখ্য পার্ট রয়েছে ভারতের। ওরা গান করে - আত্মা এবং পরামাত্মা অনেকদিন আলাদা
থেকেছে...। তাহলে তো এর হিসাব থাকা দরকার। কোন্ আত্মারা অনেকদিন আলাদা থেকেছে? সবার
প্রথমে দেবী-দেবতা ধর্মের আত্মারা আসে পার্ট প্লে করতে। এখন সেই দেবতারা আর নেই।
যারা রাজত্ব করে গিয়েছে, তাঁদের নিদর্শন এবং চিত্র রয়েছে। রাজত্ব শেষ হয়ে গেছে।
স্বর্গ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নরকে পরিণত হয় আবার নরক ধ্বংস হয়ে স্বর্গ তৈরি হয়। অর্থাৎ
নতুন দুনিয়া স্থাপন হয় এবং নরকের বিনাশ হয়। স্থাপন করার জন্য বাচ্চাদের প্রয়োজন।
ওখানে তো তোমরাই থাকবে। প্রথমে তোমাদের দিব্যগুণ ধারণ করে দেবতা হতে হবে। বিনাযুদ্ধে
মানুষ থেকে দেবতা তৈরি করার গায়নও আছে। এখন মানুষ অপবিত্র হয়ে গেছে। ভগবানুবাচ -
ঘর-গৃহস্থে থেকেও কমল পুষ্পের মতো হতে হবে। এই মৃত্যুলোকে এটাই অন্তিম জন্ম, তাই
পবিত্র হতে হবে; এটা ভালোভাবে বোঝানো দরকার। আমরা এই মৃত্যুলোকে অন্তিম জন্মে
পবিত্র থাকি। বাবা বলেন - এই বিকারগুলোকে পরাজিত করলেই তোমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে।
বাচ্চারা শোনার পর অন্যদেরকেও বোঝায় যে শীঘ্রই এই পুরাতন দুনিয়ার বিনাশ হবে। সেই
একই মহাভারতের যুদ্ধ। কাম বিকার হলো সবচেয়ে বড়ো শত্রু। তাই প্রতিজ্ঞা করো। এখন তোমরা
বুঝতে পারছো যে আমরা পবিত্র হচ্ছি। এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ অবশ্যই হবে। তার আগে
পবিত্র হতেই হবে। বিনাশের কথা আর জিজ্ঞাসা ক'রো না - সবাই হাহাকার করবে, খুব ভয়ানক
ভাবে মৃত্যু হবে। তোমরা দেখতেও পারবে না! যখন কারো অপারেশন হয়, তখন দুর্বলরা সেখানে
থাকতে পারে না; মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, তাই ডাক্তাররা পরিবারের লোকেদের সেখানে
যাওয়ার অনুমতি দেন না। এখানে তো অনেক বড় অপারেশন হবে! একে অপরকে হত্যা করবে। এটা
নোংরা দুনিয়া, কাঁটার জঙ্গল। সত্যযুগকে বলা হয় গার্ডেন অফ ফ্লাওয়ার, ফুলের বাগান।
দেবতারা চৈতন্য ফুল। মানুষ ভাবে, স্বর্গে কোনো ফুলের বাগান আছে; তারা যা শুনেছে তাই
বলে। তারা গার্ডেন অফ আল্লাহ বলে, এমনকি ধ্যানেও বাগান দেখে এবং মনে করে আল্লাহ
তাদের হাতে ফুল দিয়েছেন। তাদের বুদ্ধিতে ঈশ্বরীয় বাগান রয়েছে। ভক্তিমার্গে লোকেরা
সাক্ষাৎকার করার জন্য ভক্তি করে। সাক্ষাৎকার হলে বলে, তিনি তো সর্বব্যাপী। অতীতে যা
ঘটেছিল তা আবার হবে। বাচ্চারা যে পোশাকে, যেমনভাবে এসেছে; একই পোশাকে পরের কল্পেও
আসবে। কেউ কেউ ড্রামাকে ভালোভাবে বুঝতে পারে। যখন কেউ বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসে
তখন বাবা জিজ্ঞাসা করেন, আগে কখনো এসেছিলে? তখন কোনো কোনো বাচ্চা উত্তর দেয় - হ্যাঁ
বাবা! আগের কল্পেও তোমার সাথে দেখা হয়েছিল, তোমার থেকে উত্তরাধিকার নিতে এসেছিলাম।
বাবা জিজ্ঞাসা করেন কি পদ পেয়েছিলে? যেহেতু বাবা এবং মাম্মা বলো তাই অবশ্যই তাদের
রাজবংশে আসবে। বাবা বলেন এমন পুরুষার্থ করো যাতে উঁচু পদ পাও। এই সব বিষয় তোমাদের
বুদ্ধিতে আছে। যুদ্ধও হয়েছিল, নরকের বিনাশ তো হবেই। তোমাদের কাছে একদম ফার্স্টক্লাস
চিত্ৰ আছে। কৃষ্ণের হাতে গোলকের (পৃথিবীর) চিত্রও ছাপানো দরকার, এতে খুব স্পষ্টভাবে
রয়েছে যে স্বর্গের দরজা খোলা হচ্ছে আর নরকের দিকে লাথি মারছে। তোমাদের মুখও
স্বর্গের দিকে আছে। এই কথাগুলো একদম সঠিক। তোমরা জানো যে এখন আমাদের ঘরে ফিরে যেতে
হবে তাই ঘরকেই স্মরণ করতে হবে। পুরানো দুনিয়াকে ভুলতে হবে, একে বলা হয় অসীম জগতের
বৈরাগ্য। পুরানো দুনিয়া ছেড়ে আমরা বাবার কাছে যাই। স্মরণের যাত্রার দ্বারাই যাবো।
মুখ্য বিষয়ই হলো স্মরণ। সবাই তো স্মরণ করে, তাই না! এখন বাবা এসে যথার্থ বিষয়
বোঝাচ্ছেন যে, 'আমাকে স্মরণ করো'। এটা হলো অব্যভিচারী স্মরণ, এর অর্থও আছে। তোমরা
জানো যে, শিববাবাও হলেন বিন্দু। নিজেকেও আত্মা বিন্দু মনে করো এবং বাবাকেও বিন্দু
মনে করো, নতুন কিছু দেখলে আবার ভুলে যাও। নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে এবং নিজেদের
ঘরকে স্মরণ করতে হবে। যদি বিন্দু ছোট মনে হয়, ঘর তো বড়! ঘরকে স্মরণ করো। বাবাও
সেখানে থাকেন। আমি-তুমি সেখানে যাবো, যেখানে বাবা থাকেন। যদি বিন্দু স্মরণে না আসে,
তাহলে ঘর তো স্মরণে আসে; শান্তিধাম এবং অন্যটি সুখধাম। এটা হলো দুঃখধাম। এখন তোমরা
পুরুষার্থের নম্বরের অনুক্রমে পড়াশোনা করছো, তারপর সুখধামে আসবে। তোমরা বাবার
সন্তান, তাই অবশ্যই স্বর্গের বাদশাহী চাও। আগের কল্পেও শিববাবা এসেছিলেন, স্বর্গের
বাদশাহী দিয়েছিলেন। তোমরা ভুলে গেছ। বাবা বলেন - এখন আবার এসেছি তোমাদের স্বর্গের
বাদশাহী দেওয়ার জন্য। অনেকবার তোমরা রাজত্ব প্রাপ্ত করেছো এবং হারিয়েছ। অসংখ্য বার
তোমরা উত্তরাধিকার নিয়েছো! তারপরও এমন বাবাকে ভুলে যাও কেন? মায়ার ঝড়ের সঙ্গে অনেক
যুদ্ধ হয়, এইজন্য নাটকে দেখানো হয়েছে - মায়া একদিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে
ঈশ্বর টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। জ্ঞানে বিঘ্ন আসে না, স্মরণে বিঘ্ন আসে, এতেই পরিশ্রম
রয়েছে। এখন বাবা বলেন - মহারথী হও। এই পুরানো দুনিয়ায় আগুন লাগতে চলেছে। এই যজ্ঞের
আগুনে সমগ্র পুরানো দুনিয়া স্বাহা হয়ে যাবে, তাই মহাবীরও হতে হবে। তোমাদেরকে অখন্ড
অচল-অটল রাজত্ব প্রাপ্ত করতে হবে। তোমাদের বুদ্ধির যোগ বাবার সঙ্গে এমন হবে যে, যতই
ঝড় আসুক, মায়া কিছু করতে পারবে না। এটা তোমাদের অন্তিমের অবস্থা হবে, যখন
ট্রান্সফার হতে হবে। স্কুলে যেমন শেষে পরীক্ষা হয়, তোমাদের মালাও শেষে তৈরি হবে।
তোমাদের অনেক সাক্ষাৎকার হবে - অমুক এই হয়ে যাবে, অমুক সেই হয়ে যাবে, এই একজন দাসী
হয়ে যাবে... সবই তোমরা দেখতে পারবে । সেই সময় আর কিছু করতে পারবে না, অনুশোচনা করবে,
এটা আমি কি করলাম! আমি শ্রীমৎ অনুসরণ করিনি কেন! কিন্তু অন্তিম সময়ে আর কিছু হবে
না। এইরকম অনেকে অনুতপ্ত হয়। মানুষ কাউকে খুন করার পরে অনুতাপ করে। কিন্তু খুন হয়ে
যাওয়ার পর আর অনুতাপ করে কি হবে! এইজন্য বাবা বলেন - গাফিলতি করো না! নিজের
পুরুষার্থ করতে থাকো। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) ৮৪
জন্মের নাটক এখন সম্পূর্ণ হচ্ছে, ঘরে ফিরে যেতে হবে, এইজন্য আত্ম-অভিমানী থেকে
পবিত্র হতে হবে।
২ ) অর্থকে যথার্থ
ভাবে বুঝে নিজেকে আত্মা বিন্দু মনে করে, বিন্দু বাবার অব্যভিচারী স্মরণে থাকতে হবে।
মহাবীর হয়ে নিজের অবস্থা অবিচল-অটল বানাতে হবে।
বরদান:-
ব্যর্থের লিকেজকে সমাপ্ত করে সমর্থ হয়ে অল্পেই সর্ব প্রাপ্তি স্বরূপ ভব
সঙ্গম যুগে বাপদাদার
দ্বারা যে সম্পদই প্রাপ্ত করেছো সেই সব সম্পদকে ব্যর্থ হওয়ার থেকে রক্ষা করো,
তাহলেই অল্পেই সর্ব প্রাপ্তি স্বরূপ হয়ে যাবে । ব্যর্থ থেকে রক্ষা করা অর্থাৎ
সমর্থ হওয়া । যেখানে সমর্থী থাকে সেখানে ব্যর্থ হবে - এমন হতে পারে না । যদি
ব্যর্থের লিকেজ থাকে তাহলে যতই পুরুষার্থ করো, পরিশ্রম করো, শক্তিশালী হতে পারবে
না, তাই লিকেজকে চেক করে সমাপ্ত করো তাহলে ব্যর্থ থেকে সমর্থ হয়ে যাবে ।
স্লোগান:-
প্রবৃত্তিতে থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র থাকা - এটাই হলো যোগী এবং জ্ঞানী তু আত্মার
চ্যালেঞ্জ ।
অব্যক্ত ইশারা :-
অপবিত্রতার বীজকে সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ পবিত্র ( স্বচ্ছ ) ভব
পরমাত্ম জ্ঞানের
নতুনত্ব হলো পবিত্রতা । তোমরা তো ঈশ্বরীয় নেশার সঙ্গে বলো, আগুন আর তুলো একত্রে
থাকলেও আগুন লাগতে পারে না । তোমরা ভাষণেও বলো যে, পবিত্রতা বিনা যোগী তু আত্মা,
জ্ঞানী তু আত্মা হতে পারে না । তাই এই চ্যালেঞ্জ এখন প্র্যাক্টিকাল রূপে নিয়ে এসো
।