28-06-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
30-11-2010 মধুবন
‘‘প্রতিটা ঘণ্টা মনের এক্সারসাইজ ক'রে তাকে শক্তিশালী
বানাও, যখন বাবাই সংসার তখন সংস্কারও বাবার মতন বানাও"
আজ বাপদাদা" সব এক-দেশি বাচ্চার সাথে মিলিত হ'তে এসেছেন। এক-দেশি যা সবার দেশ, তোমরা
জানো তো না এক-দেশ কত অনুপম! বাপদাদাও সেই দেশ থেকে সব বাচ্চার সাথে মিলিত হ'তে
এসেছেন। বাচ্চাদের বাবার সাথে মিলনের খুশি রয়েছে আর বাবার খুশি রয়েছে বাচ্চাদের সাথে
মিলনের। আজ বাপদাদা সব বাচ্চার স্বরূপকে বিশেষভাবে পাঁচ রূপকে দেখছেন, সেইজন্য
পাঁচমুখী ব্রহ্মারও গায়ন আছে। তো নিজের পাঁচ রূপ জানো তো না! প্রথম সকলের
জ্যোতিবিন্দু রূপ, এসেছে তোমাদের সামনে! কত আভাময় অনুপম রূপ! দ্বিতীয়, দেবতা রূপ,
সেই রূপও কত সুন্দর আর অনন্য! তৃতীয় রূপ মধ্যতে পূজনীয় রূপ আর চতুর্থ রূপ ব্রাহ্মণ
রূপ সঙ্গমবাসী, সেটাও কত মহান আর পঞ্চম রূপ ফরিস্তা রূপ। এই পাঁচ রূপই কত মনোরম!
বাপদাদা আজ বাচ্চাদের মনের এক্সারসাইজ শেখাচ্ছেন কেননা, কখনো কখনো মন বাচ্চাদের
নিজের দিকে টেনে নেয়। তো আজ বাপদাদা মনকে একরস বানানোর এক্সারসাইজ শেখাচ্ছেন।
সারাদিনে এই পাঁচ রূপের এক্সারসাইজ করো আর অনুভব করো, যে রূপ ভাববে মনে সেই রূপ
অনুভব করো। যেমন, জ্যোতিবিন্দু বললেই সেই আভাময় রূপ যেন সামনে এসে যায়! এভাবে পাঁচ
রূপই সামনে আনো আর সেই রূপের অনুভব করো। প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ সেকেন্ড এই ড্রিলের
জন্য ব্যয় করো। প্রতিটা রূপ সামনে আনো, অনুভব করো। এই অধ্যাত্ম এক্সারসাইজে মনকে
বিজি করো তো মন এক্সার্সাইজ দ্বারা সদা ঠিক থাকবে। যেমন শরীরের এক্সারসাইজ শরীরকে
সুস্থ রাখে তেমনই এই এক্সারসাইজ মনকে শক্তিশালী রাখবে। এক সেকেন্ডে মনের মধ্যে সেই
রূপকে আনো। এটা সহজ মনে করো তো না, নাকি কঠিন লাগে? কঠিন লাগবে না। কেননা এই
এক্সারসাইজ তোমরা অনেকবার করেছ। প্রতি কল্প করেছ। নিজেরই রূপ সামনে নিয়ে আসা সেটা
কঠিন হয় না। এক একটা রূপ সামনে আসতেই প্রতিটা রূপের বিশেষত্বের অনুভব হবে। কখনো কখনো
কিছু বাচ্চারা বলে যে আমি এই রূপের অনুভব করতে চাই কিন্তু মন অন্যদিকে চলে যায়। যে
সময় যেখানে মন লাগাতে চাও সেই সময়ের মধ্যে ব্যর্থ অযথার্থ সঙ্কল্পও এসে যায়। কখনও
মনে যদি অসাবধানতা চলে আসে, তো বাপদাদা প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ সেকেন্ড কিংবা পাঁচ
মিনিট এই এক্সারসাইজে অনুভব করাতে চান। পাঁচ মিনিট ক'রে মনকে এই দিকে চালাও। চালনা
করলে ভালো তো হয়, তাই না! তারপর নিজের কাজে লেগে যাও। কেননা, কার্য তো করতেই হবে।
কার্য বিনা তো চলবে না তোমরা! যজ্ঞ সেবা বিশ্ব সেবা তো সবাই করছ আর করতেই হবে। এই
পাঁচ মিনিটের ড্রিল করার পরে নিজের যে কার্য তা'তে নিয়োজিত হও। পাঁচ সেকেন্ড লাগাও
বা পাঁচ মিনিট লাগাও, কিন্তু এমনও কেউ আছে যাদের এটুকু টাইমও থাকে না! আছে কেউ হাত
উঠাও যাদের পাঁচ মিনিটও নেই। কেউ নেই। আছে কেউ? তাহলে এই সময়টুকু সবাই বের করতে
পারো। তো বারবার এই এক্সারসাইজ করলে তবে কার্য করার সময়ও এই নেশা থাকবে। কেননা,
বাবার মন্ত্রও আছে মন্মনাভব। এই মন্ত্রই মনের অনুভব দ্বারা মন যন্ত্র হয়ে যাবে
মায়াজিৎ হওয়ার ক্ষেত্রে। কেননা, বাপদাদা বলে দিয়েছেন যে সময় যত সামনে এগোবে সেই
অনুসারে এক সেকেন্ডে স্টপ লাগাতে হবে। তো এই এক্সারসাইজ করার ফলে মন্মনাভব ভব হওয়ার
বিষয়ে সহায়তা লাভ হবে। কারণ বাপদাদা দেখেছেন যে তোমরা যে ভাষণই করো অথবা কাউকে
বার্তা দাও তখন কী বলে থাকো তোমরা? আমরা বিশ্ব পরিবর্তনকারী। তো যখন বিশ্বকে
পরিবর্তন করতে হবে তখন আগে মনকে এমন শক্তিশালী বানাও যাতে যে সময়ে যে সঙ্কল্প করতে
চাইবে সেই সঙ্কল্প মন করতে পারবে। সেকেন্ডে অর্ডার করো, যেমন এই শরীর আর
কর্মেন্দ্রিয়কে অর্ডার ক'রে থাকো - ওপরে হও নিচু হও, তো তারা করে তো না! এভাবে মন
ব্যর্থ অযথার্থ থেকে বেঁচে যায়। মনের মালিক তুমি, বলো তো না আমার মন! তো আমার মন
যেন এমন অর্ডারে থাকে তার জন্য এই মনের এক্সারসাইজ বলেছেন।
বাপদাদা দেখেছেন প্রত্যেক বাচ্চা এটাই চায় যে আমাকে মনজিত জগৎজিত হতে হবে, সেইজন্য
ভবিষ্যৎ সময়ের আগের এই অভ্যাসে যেন মন যেখানে চায় সেখানে সহজে টিকে যায়। তো আজ
বাপদাদা এটাই চান যে, সব বাচ্চা এমন শক্তিশালী হোক যাতে যে সঙ্কল্প করবে সেখানে মন
বুদ্ধি সংস্কার অর্ডারে থাকবে। যার এই অভ্যাস হবে সে অবশ্যই জগৎজিত হবে। বাপদাদার
প্রতি পরিবারের প্রতি ভালোবাসা তো সবার আছে। বাবার প্রতি বাচ্চাদের যতটা ভালোবাসা
আছে তার থেকে বেশি আছে বাবার বাচ্চাদের প্রতি। তো বাচ্চারা খুব চাতুরী করেছে - আমার
বাবা আমার বাবা ব'লে আমার বানিয়ে নিয়েছে। প্রত্যেক বাচ্চা নিশ্চয়ের সাথে এটাই বলে "আমার
বাবা।" আর বাবাও বলেন আমার বাচ্চা। এই আমার শব্দ চমৎকার করেছে। প্রত্যেকের হৃদয়ে কত
উৎসাহ-উদ্দীপনা আসে আমার বাবা প্রিয় বাবা বলায় আর বাবাও বারবার বলেন আমার বাচ্চা।যে
কোনো প্রকারে মায়ার হামলা হবে। কেননা, অর্ধেক কল্প তোমরা মায়াকে আপন বানিয়েছ তো না!
সেইজন্য মায়ারও তোমাদের প্রতি ভালোবাসা তো থাকবে, তাই না! তাইতো সে বারবার আসার
চেষ্টা করে কিন্তু যে হৃদয় থেকে আমার বাবা বলে তার বাবার সহযোগ প্রাপ্ত হয়। একবার
হৃদয় থেকে বলেছ আমার বাবা তো বাবা হাজার বার বাঁধা হয়ে আছেন সহযোগ দেওয়ার জন্য।
অনুভব আছে তো না! শুধু সময়মতো এই অনুভব প্র্যাকটিক্যালে নিয়ে এসো।
বাপদাদা বাচ্চাদের একটা বিষয় দেখে মনে মনে হাসেন। তোমরা জানো সেটা কোন বিষয়? সবাই
বলে যে বাবাই আমার সংসার, বলো তো না বাবাই আমার সংসার! বলো? যে বলো বাবাই আমার
সংসার সে হাত তোলো। আচ্ছা, বাবাই সংসার। অন্য কোনো সংসার তো নেই না! অন্য সংসার নেই,
তাহলে অন্য কী আছে? সংস্কার। যখন বাবাই আমার সংসার তখন অন্য কোনো সংসারই নেই! সংসার
নেই অথচ সংস্কার কীভাবে জন্ম নিয়ে নেয়? আজকাল বাপদাদা সময় অনুসারে সংস্কার শব্দ মুছে
ফেলতে চান। মুছে দেওয়া সম্ভব? মুছে যেতে পারে? যে মনে করে যে সংস্কার বিঘ্ন রূপ হতে
পারে না, এই দৃঢ় সঙ্কল্প করতে পারে, দৃঢ় সঙ্কল্প দ্বারা আজও দৃঢ় পুরুষার্থ করতে পারে
যে শেষ করতেই হবে, সে করবো, ভাববো, দেখবো... এটা করে না। করতেই হবে। সংস্কারের কাজ
হ'লো আসা আর বাচ্চাদের কাজ হ'লো - সমাপ্ত করতেই হবে। আছে সাহস? সাহস আছে? আগেও তোমরা
হাত তুলেছিলে, কিন্তু চেক করো যে সঙ্কল্প করেছ তা' হচ্ছে কিনা! যে মনে করো বাবা
বলেছেন বাবার কার্য হ'লো লক্ষ্য দেওয়ার, বাচ্চাদের কার্য হলো যা বাবা বলেছেন তা'
করতেই হবে, তারা এরও একটা ডেট ফিক্স করো, যেমন ভক্তরা ডেট ফিক্স করেছে শিবরাত্রি
পালন করার। তো এর ডেটও ফিক্স করো। আচ্ছা যদি সবার এক ডেট না হয় তবে আগে প্রত্যেকে
নিজের জন্য তো ডেট ফিক্স করতে পারো তো না! করতে পারো! করতে পারলে হাত উঠাও। তো করেছ!
যদি করতে পারো তাহলে কি করেছ? ডবল বিদেশি ডেট ফিক্স করেছো? আচ্ছা যারা সামনে সারিতে
আছ তারা করেছ ফিক্স? যে ডেট ফিক্স করেছনা সেটা বাপদাদাকে লিখে দিও। বাপদাদাও পেপার
পাশ করার সাবাশি দেবেন বাচ্চাদের, তাই না! তারপর গীত গাইবেন বাহ্ বাচ্চারা বাহ!
সেরিমনি উদযাপন করা হবে যারা সঙ্কল্প করেছে আর সেই অনুসারে প্র্যাকটিক্যালি করেছে।
এর সেরিমনি উদযাপন করা হবে, কেননা, অসমতা আসতে থাকবে তো না! ফিক্সড ডেট অনুযায়ী
অগ্রচালিত হওয়ার জন্য কাছাকাছি তো আসবে তাই না! প্রভেদ হওয়া তো শুরু হবে। যারা ডেট
অনুযায়ী সম্পন্ন হবে, বাপদাদা তাদের জন্য সেরিমনি উদযাপন করবেন, যখন তোমরা এটা
অন্তর্মনে করবে, যারা তোমাদের দেখবে তারা ভেরিফাই করবে। কেননা, তারা তোমাদের
সম্পর্কে আসবে তো না! সংস্কার কারও না কারও সাথে বেরিয়ে আসে তো না! কেননা, বাপদাদা
দেখেছেন যে প্রত্যেক বাচ্চার এই শুদ্ধ নেশা তো আছে যে আমি মাস্টার সর্বশক্তিমান।
তোমরা মাস্টার তো না? যখন তোমরা সর্বশক্তিমান তখন সঙ্কল্প সম্পূর্ণ করা - এটাও শক্তি,
তাই না! আচ্ছা। যারা আজ প্রথমবার এসেছ তারা উঠে দাঁড়াও। দেখো, কত এসেছে! বাপদাদা
অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। মধুবনে আসার অভিনন্দন, অভিনন্দন, অভিনন্দন।বাপদাদা তবুও মনে
করেন যে টু লেট-এর বোর্ড লাগার আগে এসে গেছে, সেইজন্য সমগ্র পরিবারের বাপদাদার এই
শুভ আশা আছে তোমাদের সকলের প্রতি যে সদা ডবল পুরুষার্থ ক'রে লাস্টে এসেও ফাস্ট যেতে
পারো। তোমাদের আছে এই সাহস! যারা আজ এসেছে তাদের এই সাহস আছে যে লাস্টে এসেও ফাস্ট
গিয়ে ফার্স্ট আসতে পারো! ফার্স্ট নম্বরে! একটা ফার্স্ট নয় ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট আসা
- এটা হতে পারে! যে মনে করো আমি ফাস্ট গিয়ে ফার্স্ট হতে পারি সে হাত উঠাও। নিজের
প্রতি নিশ্চয় আছে? আচ্ছা। তোমরা যারা পিছনে রয়েছ হাত উঁচু করো, হতে পারে তো! আচ্ছা।
অল্প সংখ্যকই আছে। তবুও সমগ্র পরিবার আর বাপদাদা তোমাদের সহযোগ দিয়ে অগ্রচালিত করতে
চান। সেইজন্য যে সেন্টার থেকেই এসে থাকো সেই সেন্টারে নিজের এই প্রতিজ্ঞা বারবার
স্মরণ করবে। হ'তে পারে। অসম্ভব নয়, সম্ভব কিন্তু ডবল অ্যাটেনশন। যদি লাস্ট আরও
ফাস্ট গিয়ে দেখাতে পারো তো সেন্টারে তোমাদের তীব্র পুরুষার্থের দিন উদযাপন করা হবে।
ফাংশন করবো। সবার হৃদয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা তো আছে যে শীঘ্রাতিশীঘ্র বাবা সমান হয়েই
দেখাবো। অমৃতবেলায় যখন বাচ্চারা বাবার সাথে বার্তালাপ করে তখন বাপদাদাও খুশি হন।
বাহ্ বাচ্চারা বাহ্! আর বাবা সব বাচ্চাকে, তারা পুরানো হোক বা নতুন সবাইকে হৃদয়ের
অনেক অনেক কল্যাণময় আশীর্বাদ দেন। এক কদম তোমাদের হাজার কদম বাবার সহায়তার। কেননা,
এখন সময়ের পরিবর্তন ফাস্ট গতিতে যাচ্ছে। আচ্ছা।
সেবার টার্ন দিল্লি আর আগ্রা জোনের :
বাপদাদা শুনেছেন যে দিল্লি শুরু থেকে সেবার নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপন ক'রে এসেছে।
করেছনা! দিল্লি করেছে। তো এখন সেবার কোনো নতুন ইনভেনশন বের করো। যেরকম ভাষণ চলে
প্রোগ্রাম চলে সেটাও ভালো। কেননা তা' থেকে বৃদ্ধি হয় এবং তোমাদের সম্বন্ধে আসে। যা
এখন চলছে সেটাও ভালো কিন্তু এই প্রোগ্র্যাম্স অনেক সময় ধরে চলেছে। এখন নতুন কোনো
বিষয় বের করো যাতে যারা সেবা করছে তাদের নতুন উদ্যম নতুন উৎসাহ জাগে। করবে তো না!
এটা ভালো। সবাইকে উৎসাহিত ক'রে তা'তে বিজি করো। এই যে বড়-বড়ো প্রোগ্ৰ্যাম হয় তা'তে
যারা ভাষণ দেয় তারা তো বিজি থাকে, কিন্তু অন্যেরা শুধু সাথ দেয়। সেটাও আবশ্যক।
কিন্তু এমন কোনো কার্য বের করো যাতে কোয়ালিটি আত্মারা প্রত্যেকে নিজেদের বিজি রাখতে
পারে। কেননা, দিল্লিই রাজধানী হবে। তো যারা দিল্লির তাদের এমন কোনো ইনভেনশন বের হওয়া
উচিত। ঠিক আছে! ঠিক আছে, সবাই করবে? হাত তোলো। এটা ভালো। যে কেউই বের করতে পারে।
নতুনরাও বের করতে পারে। যদি অন্য কারও কোনো সঙ্কল্প আসে তবে সেও এখানে হেড অফিস
মধুবনে লিখতে পারো। সবার চান্স আছে। আচ্ছা। যারা দিল্লির তারা পুরুষার্থেও যেন
নম্বর ওয়ান নিতে পারে। বাপদাদা বহু সময় ধরে এটা বলেছেন যে, যে কোনও সেন্টার, তা'
দেশের হোক বা বিদেশের, সেন্টারগুলো এই সেন্টারের সাথে সম্পর্কিত থাকলে বিঘ্ন থেকে ৬
মাসের জন্য নির্বিঘ্ন থাকে, কোনো বিঘ্ন আসে না। বিঘ্ন থেকে মুক্ত। যদি নম্বর ওয়ান
হও তবে তারও নির্বিঘ্ন ভব-র ডে উদযাপন করবো। এখন বাপদাদা ৬ মাসের জন্য বলছেন, যখন ৬
মাসের অভ্যাস হবে তখন ভবিষ্যতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। কিন্তু পুরস্কার নেওয়ার জন্য ৬
মাসের টাইম দেন বাবা। তো দিল্লি কোন নম্বর নেবে? প্রথম নম্বর। বাপদাদা খুশি। সমগ্র
পরিবারও খুশি। সন্তুষ্টতার জয়জয়কার হোক, হয় সেবাতে নতুবা যে নিয়ম তৈরি হয়েছে সেই
নিয়মে, তো দেখবো, বাপদাদা নামের জন্য বলেছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত নাম আসেনি। যদি
জোন না হয় তো যে সব সেন্টার আছে তার কানেকশনে থাকা সেন্টার এতটুকুও করলে বাপদাদা
দেখবেন। এখন তাড়াতাড়ি কদম সামনে বাড়াও, কেন? হঠাৎ করেই যা কিছুই হতে পারে। বাবা
তোমাদের তারিখ বলবেন না। আচ্ছা।
আগ্রা সাবজোন : আগ্রাকে এমন
কোনো কার্য কিংবা সেবা করতে হবে যাতে গভর্নমেন্টের লিস্টে আগ্রা সুপরিচিত হয়।
আগ্রার তোমরা কোনো না কোনো এমন সেবা খোঁজো যা অলমাইটি গভর্নমেন্টে সুপরিচিত হবে। তো
যেরকম আগ্রাতে তাজ আছে সেরকম কিছু করো। আছে আশা, আছে! আশা আছে তার অভিনন্দন। কী করবে?
কিন্তু কত সময়ে করবে? (মেলা করবো মেগা প্রোগ্ৰ্যাম করবো) মেগা প্রোগ্র্যাম তো সবাই
করছে কিন্তু কোনো নতুন ইনভেনশন বের করো যা কোনো জোন করেনি। ।কেননা, আগ্রা সবার
দেখার উপযুক্ত। তো আজকাল যেমন গভর্নমেন্টের তাজ আছে, আছে তো না! যদি প্রপাগান্ডা হয়
তবে তার মধ্যে আগ্রা বিখ্যাত, তাই না! এমনই কোনো কার্য করো। ভাবনা, অমৃতবেলায় বসা
এবং ভাবনায় কোনও টাচিং তো আসবে! ঠিক আছে, টিচার্স হাত উঠাও। অনেক আছ। তো চমৎকার করতে
হবে। বাপদাদা সব বাচ্চাকে এটাই বলেন কিছু নবীনত্ব করো এখন। যা চলছে সেই সময়
অনুসারেই তার নবীনত্ব । কিন্তু এখন আরও নবীনত্ব ইনভেনশন করো, যে কোনো জোন করতে পারে
কিন্তু নতুন উদ্ভাবন করো। বাপদাদার তো সব বাচ্চাই প্রিয় আর বাপদাদা প্রত্যেক
বাচ্চার বিশেষত্ব জানেন। প্রত্যেকের বিশেষত্ব অবশ্যই আছে। কিন্তু কেউ কার্যে প্রয়োগ
করে আর কারও অদৃশ্য হয়ে যায়। সেইজন্য বাপদাদা বলেন সব বাচ্চা বাবার প্রিয়, হারানিধি
আর বাবা এটাই চান যে তোমরা উড়তে থাকো অন্যদের উড়াতে থাকো।
চতুর্দিকের বাচ্চারা বাবার হৃদয়ের অতি স্নেহের, প্রত্যেক
বাচ্চা এই লক্ষ্যই বারবার স্মৃতিতে নিয়ে আসে আর আনতে হবে, আমাদের তীব্র পুরুষার্থ
ক'রে বাবাকে প্রত্যক্ষ করাতে হবে। যাতে সবার হৃদয় বলে আমার বাবা এসে গেছেন। এমন
উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্কল্প আজকাল বাপদাদার কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই উৎসাহ-উদ্দীপনা
মেজরিটির হৃদয়ে এসে গেছে। বাপদাদার এই আশা আছে যে এখন শীঘ্রতীশীঘ্র সবাইকে এই বার্তা
পৌঁছাতে হবে কেউ যেন বঞ্চিত না থাকে। কিছু না কিছু উত্তরাধিকার নিতে পারে। হয়
জীবন্মুক্তির নয়তো ভালোবাসার সাথে মুক্তির উত্তরাধিকার তো নিয়ে নাও। কেননা, সবাইকে
উত্তরাধিকার দিতে হবে বাবাকে। যত সংখ্যককে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করাবে, তোমাদেরও
নিজের রাজত্বে রাজ্য অধিকারী হওয়ার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে। সব দিকের সব বাচ্চা
বাপদাদার অনেক অনেক ভালোবাসা আর আশীর্বাদ স্বীকার করো। আচ্ছা।
বরদান:-
ত্যাগ, তপস্যার দ্বারা সেবাতে সফলতা প্রাপ্ত ক'রে
সকলের কল্যাণকারী ভব
যেমন স্থূল অগ্নি দূর থেকেই নিজের অনুভব করায়,
তেমনই তোমাদের তপস্যা ও ত্যাগের ঝলকানি যেন দূর থেকেই সবাইকে আকর্ষণ করে। যদি
সেবাধারী হওয়ার সাথে সাথে ত্যাগী, তপস্বীমূর্ত হও, তবেই সেবার প্রত্যক্ষ ফল দেখা
যাবে। ত্যাগী অর্থাৎ পুরানো সঙ্কল্প বা সংস্কার দেখা যাবে না। তপস্বী অর্থাৎ
বুদ্ধির স্মৃতি বা দৃষ্টি দ্বারা আত্মিক স্বরূপ ব্যতীত অন্য কিছুই দেখা যাবে না। যে
সঙ্কল্পই উঠবে তার মধ্যে যেন সব আত্মার কল্যাণ সমাহিত থাকে, তবেই বলা হবে
সর্ব-কল্যাণকারী।
স্লোগান:-
দেহবোধের ঊর্ধ্বে যাওয়ার জন্য চিত্র না দেখে চেতন এবং
চরিত্রকে দেখ।
অব্যক্ত ইশারা :- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নেচারকে
সরল বানাও, সহনশীল হও। তোমরা সবাই মাস্টার বিশ্ব নির্মাতা। এই স্মৃতি দ্বারা
নিরহংকারের গুণ সহজে এসে যাবে এবং যেখানে নিরহংকার থাকে অর্থাৎ সরলতা সেখানে
ন্যাচারাল রূপে থাকবে, অন্য গুণও সেখানে এসেই যায়। তো সদাসর্বদা এই স্মৃতি স্বরূপে
থেকে সব সঙ্কল্প বা কর্ম করো। তখন এই যে ছোট ছোট পরিস্থিতি সংঘর্ষ করার জন্য আসে
সেসব এমন অনুভব হবে যেন বয়স্ক কারও সামনে ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেখেলা করছে, এতে সেই
ব্যক্তি কোনোভাবে প্রভাবিত হয় না।