29-03-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
25-10-2009 মধুবন
‘‘সর্ব ভাণ্ডারে সম্পন্ন নিজের মুখমণ্ডল দ্বারা
অলৌকিকতার সাক্ষাৎকার করাও"
আজ সর্ব ভাণ্ডারের দাতা ভাণ্ডারের মালিক- বাচ্চাদের দেখছেন। প্রত্যেক বাচ্চা সর্ব
ভাণ্ডারে সম্পন্ন। কেননা, বাবা তাঁর সকল বাচ্চাকে একরকম একই সময়ে সর্ব ভাণ্ডার
দিয়েছেন। তো বাপদাদা নিজের বালক তথা মালিক বাচ্চাদের সাথে মিলিত হতে এসেছেন।
বাচ্চারা ডেকেছে আর বাবা বাচ্চাদের স্নেহে পৌঁছে গেছেন। ভাণ্ডার তো অনেক আছে,
সর্বাপেক্ষা প্রথম ভাণ্ডার জ্ঞান ধন, যে জ্ঞান ধন দ্বারা তোমরা সমৃদ্ধ হয়েছ, মহাদানী
হয়ে অন্যদেরও বিলিয়ে দিতে থাকো। যে সমস্ত বিভিন্ন বন্ধনে আত্মা ফেঁসে গেছে জ্ঞানের
ভাণ্ডার দ্বারা সেই সব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে গেছে। বন্ধনযুক্ত থেকে বন্ধনমুক্ত হয়ে
গেছ। সেইসঙ্গে যোগ অর্থাৎ স্মরণের ভাণ্ডার, যার দ্বারা সমুদয় শক্তির অনেক শক্তি
তোমরা প্রাপ্ত করেছ, এরকমই ধারণা দ্বারা সর্ব গুণের অনুভূতি অর্থাৎ ভাণ্ডার প্রাপ্ত
হয়েছে। সেইসঙ্গে ধারণার শক্তি দ্বারা সকলের স্নেহের শক্তি, সকলের প্রিয় হওয়ার এবং
স্বতন্ত্রতার শক্তির ভাণ্ডার প্রাপ্ত করেছ। সকলের স্নেহের ভাণ্ডার অনুভব করেছ।
সেইসঙ্গে সমুদয় ব্রাহ্মণ সম্বন্ধ থেকে অপার খুশির ভাণ্ডার অনুভব করেছ। কিন্তু সর্ব
ভাণ্ডারের সাথে যে বিশেষ ভাণ্ডার আছে তা' হলো সঙ্গমের সময়ের ভাণ্ডার। যে আত্মার
সময়ের ভাণ্ডারের গুরুত্ব আছে সে সদা অনেক প্রাপ্তির মালিক হয়ে যায়। কেননা, সঙ্গম
যুগের সময় খুব ছোট কিন্তু সময়ের প্রাপ্তি বেশি। সঙ্গমযুগের সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ থেকে
শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি স্বয়ং ভগবান বাবা রূপে, শিক্ষক রূপে, সদ্গুরুর রূপে প্রাপ্ত হয়।
সঙ্গমযুগে ছোট জন্মে ২১ জন্মের প্রাপ্তি, যার মধ্যে তন, মন, ধন, জন সর্বপ্রাপ্তি
রয়েছে এবং গ্যারান্টি রয়েছে ২১ জন্ম পরিপূর্ণ রূপে (ফুল), অর্ধেক নয়, পৌনে নয় বরং
ফুল ২১ জন্মের গ্যারান্টি আছে। তো সবচাইতে বেশি যে মাহাত্ম্য রয়েছে সেটা হলো সঙ্গম
যুগের এক এক সেকেন্ড অনেক বর্ষের সমান। তো বলো, সর্ব ভাণ্ডারে তোমরা সম্পন্ন তো?
সম্পন্ন তো না? সেইজন্য বাপদাদা সদা সময়ের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। কিছু বাচ্চা
মনে করে যে এক দু' মিনিট যদি অন্য কিছু ভাবি! তো দু' মিনিটই তো! সময়ের যে মাহাত্ম্য
রয়েছে সেই অনুসারে তো দু' মিনিট নয়, দু'মাস নয়, দু' বছরের সমান। সঙ্গমের সময়ের
মাহাত্ম্য এতটাই। সর্ব শক্তির, সর্ব গুণের, পরমাত্ম ভালোবাসার, ব্রাহ্মণ পরিবারের
ভালোবাসার এবং পূর্ব কল্পের ঈশ্বরীয় অধিকারের। সর্বপ্রাপ্তি এই ছোট একটা যুগেই আছে
আর কোনো যুগেই সর্বপ্রাপ্তি নেই। রাজ্য ভাগ্য হবে, তোমাদের সকলের রাজ্য হবে, সুখ
শান্তি সব হবে। কিন্তু পরমাত্ম মিলনের, অতীন্দ্রিয় সুখের, সর্ব ব্রাহ্মণ পরিবারের,
আদি মধ্য অন্তের নলেজের সেই সব এখন এই সঙ্গমেই লাভ করেছ, সব কল্প প্রাপ্ত হতে থাকবে।
তো বাপদাদা সব বাচ্চার মুখমণ্ডলে দেখেন ভাণ্ডার কত জমা হয়েছে! ভাণ্ডার তো পেয়েছ
কিন্তু প্রত্যেকে জমার খাতা কত বাড়িয়েছ, তা' প্রত্যেকের মুখ দ্বারা, আচরণ দ্বারা
প্রতীয়মান হয় আর তোমরাও সবাই নিজেকে নিজে জানো যে তুমি কত জমা করেছ। এখন বাপদাদার
হৃদয়ের এটাই আশা যে তোমাদের ভাণ্ডার প্রাপ্ত তো হয়েছে কিন্তু এখন সময় শুধু বর্ণন
করার নয় বরং তোমাদের মুখ আর আচরণ দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে অনুভূত হতে দাও যে এই আত্মারা
বিশেষ কেউ, স্বতন্ত্র এবং পরমাত্ম প্রিয়, কেননা, পরে ভবিষ্যতে সময় পরিবর্তন হওয়ার
কারণে তোমাদের সেবা শুধু বর্ণন ক'রে হবে না, সময় প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াতে এত সময় কেউ
বের করতে পারবে না। বরং ভাণ্ডারে সম্পন্ন তোমাদের মুখমণ্ডল দ্বারা, আচার-আচরণ দ্বারা
দূর থেকেই তোমাদের অলৌকিকতার সাক্ষাৎকার হবে। তো এমন পুরুষার্থ এখন প্রত্যক্ষ করাও।
যেমন, ব্রহ্মা বাবাকে দেখেছ, হতে পারে সংগঠনের মধ্যে থেকেছেন তবুও দূর থেকে সেই
পার্সোনালিটির দ্যুতি অনুভূত হয়েছে। এখন, এমন বিশেষ ডবল বিদেশি, বাপদাদা বলে থাকেন
ডবল পুরুষার্থী। তো আজ বাপদাদা নিমিত্ত ডবল বিদেশি বাচ্চাদের দেখে খুশি। বৃদ্ধির
পুরুষার্থ তোমরা ভালো করছ, সকলেরই পালনাও খুব ভালো প্রাপ্ত হচ্ছে নিমিত্ত হওয়া
আত্মাদের থেকে, আর সকলের একটা বিষয় বাপদাদার খুব ভালো লাগে যে, সকল আত্মা প্রতি বছর
মধুবনে বিশেষভাবে নিজের সংগঠনের মিলন করে। কেননা, মধুবনের বায়ুমণ্ডল রিফ্রেশমেন্টে
খুব সহযোগ দেয় এবং একই দায়িত্ব, স্ব পরিবর্তন, পরস্পরের মন্সা সেবা অনুভব করার ভালো
চান্স মেলে। তো বাপদাদা এই ব্যাপারে অভিনন্দন জানান।
এখন নিজের নিজের স্থানে গিয়ে কিছু চমৎকার করো, কিছু স্বতন্ত্র ভাব যা বাবার প্রিয়
তা' প্র্যাকটিক্যালি অনুভব করাও যাতে মধুবনের রিফ্রেশমেন্টের সহযোগ ওখানেও অনুভব
করতে থাকে। তো আজ বিশেষ ডবল পুরুষার্থী গ্রুপের মিলন, আর দেখো তোমাদের সবার প্রতি
ইন্ডিয়ার বাচ্চাদের এত ভালোবাসা আছে যে প্রথম চান্স তোমাদের দিয়ে দেয়। সুতরাং প্রথম
চান্সের রেজাল্ট প্রথম নম্বর নিতে হবে। ভালো লাগে - বাপদাদা আগেও শুনিয়েছেন যে ডবল
বদেশি কিংবা ডবল পুরুষার্থী বাচ্চারা বাবার এক বিশেষ টাইটেল প্রত্যক্ষ করিয়েছে। যা
বিদেশে মেজরিটি দিকের বাবার বাচ্চাদের বের ক'রে ভাগ্যের রূপরেখা বানিয়ে দিয়েছে।
সেইজন্য নিষ্ঠার সাথে চতুর্দিকে তোমরা যে পরিশ্রম করছ, তা'তে বাবার বিশ্ব কল্যাণকারী
কর্তব্য প্রসিদ্ধ করেছে। সেইজন্য বাপদাদা সব বাচ্চাকে বাঃ! বাচ্চা বাঃ!-এর অভিনন্দন
দেন। এখনো যেমন ভারতের কোনে কোনে বার্তা দেওয়ার সেবা নিরন্তর চলে, তেমনই ওখানেও
উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে অবশিষ্ট দেশে বার্তা দেওয়ার। কেননা সময়ের উপরে কোনো ভরসা নেই।
বাপদাদা প্রথমেই বলেছেন যে হঠাৎই যা কিছু হতে পারে সেইজন্য বার্তা দেওয়ার এবং নিজের
প্রগ্রেসের জন্য এখনই এখনই, কখনো কখনো নয়, বাস্তবে ব্রাহ্মণের ডিকশনারিতে কখনো কখনো
শব্দ শোভন নয়, এখনই এখনই, সঙ্কল্প করার সাথে সাথে ততক্ষণাৎ করতেই হবে। দেখব, করবো
এই বো বো-র শব্দই থাকবে না। সেইজন্য তোমাদের মাম্মাও এই লক্ষ্য রেখেছেন, প্রত্যেককে
স্মরণ করানোর - এখন নয় তো কখনো নয়।
তো এখন এখনই যারা করে তারা ডবল পুরুষার্থী বাচ্চা, নাকি কখনো কখনোর? যারা মনে করো
যে এখন এখনই করতে হবে তারা হাত তোলো। করতেই হবে। করতেই হবে। করবে নয়, করতেই হবে।
স্মরণে রাখো, আপনা থেকেই নিজের চার্ট রাখো এবং বাপদাদা আগেই শুনিয়েছেন যে প্রতি রাতে
বাপদাদাকে সারাদিনের নিজের চার্ট শোনানোর পরে নিজের বুদ্ধি খালি ক'রে শুলে তোমাদের
নিদ্রাও ভালো আসবে আর সেই সাথে রোজের হালচাল জানানোর ফলে পরের দিন স্মরণে থাকে যে
বাবাকে আমি নিজের বলেছি, তো সেই স্মৃতি সহযোগ দেয়। ধর্মরাজপুরীতে যেতে হবে না। দিয়ে
দিয়েছনা আর পরিবর্তন ক'রে নিয়েছ, সুতরাং ধর্মরাজপুরী যাওয়া থেকে বেঁচে যাবে। এখন
আগামী বছর, দেখেনি তো কেউ কিন্তু এখন লক্ষ্য রাখো, বছর ছেড়ে দাও, কমপক্ষে যত অল্প
সময়ে বাবার যে আশা আছে যে তোমাদের মুখমণ্ডলে দৃশ্যমান হোক, আচরণে দৃশ্যমান হোক, তা'
শীঘ্রাতিশীঘ্র প্র্যাকটিক্যালি নিজেকে ক'রে দেখাও। সাহস আছে তো হাত তোলো। সাহস আছে?
আছে সাহস? আচ্ছা অভিনন্দন। বাপদাদা তো সব বাচ্চার মধ্যে এই মুহূর্তে নিশ্চয় আর
সাহসের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখছেন। কিন্তু প্লেনে যেতে যেতে কিছু কম ক'রো না। বাড়াতে
থাকবে। দৃঢ় সঙ্কল্পের চাবি যা বাপদাদা দিয়েছেন তা' সদাই কায়েম রেখো। করতেই হবে,
এখনই এখনই, বো বো নয়। সেই সময় এখন চলে গেছে। হয়ে যাবে হতেই হবে - হয়ে যাবে নয়, হতেই
হবে। বাপদাদা ডবল পুরুষার্থীর যে টাইটেল দিয়েছেন, তা' সদাই স্মরণে রাখো।
বাপদাদা রেজাল্ট শুনেছেন, বাপদাদা সেবার যে প্ল্যান দিয়েছেন, তা'তে ভারতও কম করেনি
আর বিদেশেও কম করেনি। এই বরদান মেজরিটি স্থানে উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে করেছে আর
রেজাল্টও আলাদা আলাদা স্থান থেকে আসছে। তো বাপদাদা ভারতের বাচ্চাদের হোক বা বিদেশের
বাচ্চাদের সবাইকে প্র্যাকটিক্যালি করার জন্য পদম পদমগুন অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
বাবা তোমাদের বলে দিয়েছেন এখন এই বছরে কোন বিষয় বিশেষভাবে তোমাদের প্র্যাকটিক্যালি
করতে হবে, যে দেখবে তোমাদের মুখমণ্ডলে দ্যুতি দৃশ্যমান হতে হবে, প্রত্যক্ষতার
নিমিত্ত হতে হবে; বাবাকে প্রত্যক্ষ করাতে হবে। তো কী করতে হবে তোমাদের? সদা
হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল, কোনো চিন্তনের, দ্বিধাদ্বন্দ্বের নয়। বাপদাদা বলেছিলেন যে
এখন দুটো শব্দগুচ্ছ স্মরণ করো, মায়াকে ইশারা করো গেট আউট আর নিজেকে গেস্ট হাউসে
অনুভব করো। এই দুনিয়া তোমাদের নয়, এটা গেস্ট হাউস, এখন ঘরে ফিরে যেতেই হবে। ঘরের
দৃশ্য মনে বুদ্ধিতে যেন দৃশ্যমান হয়। তো অটোমেটিক্যালি তোমাদের অনুভব হবে ঘর এখানেই।
তোমাদের একটা গীত আছে এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। তো ভারত থেকে হোক বা বিদেশ থেকে তোমরা
প্রত্যেকে এখন এই অনুভবের তরঙ্গ প্রত্যক্ষ ক'রে দেখাও। অসীম বৈরাগ্য! গেস্ট হাউসে
কারও হৃদয় আকৃষ্ট হয় না। যেতে হবে, যেতে হবে স্মরণে থাকে। তো অসীম বৈরাগ্য তোমাদের
মনের যে কোনও প্রকারের সঙ্কল্প, সংগঠনে নিজেদের মধ্যে মায়ার বিঘ্ন একেবারে সমাপ্ত
ক'রে দেবে। এই মায়ার তুফান তোমাদের জন্য উপহার হয়ে যাবে। এই যে ছোটখাটো পেপার আসে
সেটা পেপার মনে হবে না, বরং অনুভব বাড়ানোর এক লিফ্ট মনে হবে। গিফ্ট আর লিফ্ট।।
বুঝেছ! এখন লক্ষ্য রাখো অসীম বৈরাগী হওয়ার, সাহস উৎসাহ-উদ্দীপনার পাখায় উড়তে থাকো
আর উড়াতে থাকো। এখন ওড়ার সময়, নিজের পাখা সদা চেক করো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে না তো!
তো বাপদাদা ডবল বিদেশিদের বিস্তার দেখে খুশি, এখন কী দেখতে চান? সব বাচ্চা বাবা
সমান সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ, সর্ব ভাণ্ডারে সম্পন্ন আর সব শ্রীমৎ যা তোমরা পাচ্ছো
তা'তে সম্পূর্ণ। পছন্দ হয়েছে? পছন্দ হয় তো তালি বাজাও। আচ্ছা। এই তালি প্রতিদিন
স্মরণ করো, আপনা থেকেই মনে বাজতে দাও। বাইরে থেকে নয় মনে বাজাও। এটা হোমওয়ার্ক।
আচ্ছা।
৯০ দেশ থেকে ২৩০০ ভাইবোন এসেছে - (পাঁচ খণ্ডের ভাইবোনেদের আলাদা আলাদা গ্রুপে দাঁড়
করানো হয়েছে) ১) আমেরিকা, কানাডা ও ক্যারাবিয়ানের ভাইবোনেরা, ২) অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া,
নিউজিল্যান্ড, ফিজি, ৩) ইউরোপ, ইউ.কে., মিডল ইস্ট, ৪) আফ্রিকা, সাউথ আফ্রিকা,
মরিশাস, ৫) রাশিয়া, সি.আই.এস., বাল্টিক রিজন
সব জায়গা থেকে অগ্রচালিত হওয়ার সঙ্কল্প এবং নিজেদের মধ্যে আত্মিক বার্তালাপও করেছে,
বাপদাদার কাছে সমাচার আসতে থাকে। এখন এভাররেডি গ্রুপ বানাও। যে দেশ থেকে যতজনই এসেছে,
সেই দেশকে বাপদাদা প্রাইজ দেবেন, কী প্রাইজ দেবেন তা' সেইসময় দেখবেন। কিন্তু বাপদাদা
সব এরিয়ার ডবল পুরুষার্থী বাচ্চাদের সব গ্রুপকে এটাই বলেন, যে কোনও গ্রুপ যারা
নম্বর ওয়ান হবে; একটা দেশের একেক শহরে যত সেন্টার আছে, মনে করো আমেরিকা - আমেরিকার
কানেকশনে যে দেশই আছে, সেই সব দেশ নিজেদের মধ্যে পরামর্শ ক'রে প্রোগ্রাম বানাক যে
তারা সবাই এখানে নির্বিঘ্ন থাকবে, এভাররেডি থাকবে, মায়াজিৎ থাকবে, স্নেহি আর সেবাতে
সহযোগী থাকবে। যে নম্বর ওয়ান হবে তাকে বাপদাদা প্রাইজ দেবেন। ঠিক আছে, শুধু এক নয়
তিন পর্যন্ত দেবেন। এক, দুই, তিন। তিন নম্বর। সাধারণত, এক নম্বরকেই দেওয়া হয়ে থাকে,
কিন্তু ডবল পুরুষার্থী তো না তাই তিনকে চান্স দেবেন। পছন্দ হয়েছে? হ্যাঁ হাত নাড়াও।
পছন্দ হয়েছে? কত টাইম চাই? এটা টিচার শোনাবে, কত টাইম প্রয়োজন প্রাইজ নেওয়ার জন্য?
বলো। (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) সব দেশের টিচার্স হাত উঠাও। ঠিক আছে? তৈরি হবে তো না!
তারপর বাপদাদা প্রাইজ দেবেন। খুব ভালো। এর জন্য তালি তো বাজাও। ভারতেরও টার্ন আসবে।
এখন তো তোমাদের টার্ন। বাপদাদাও খুশি হন, বাহ্! তীব্র পুরুষার্থী বাচ্চারা বাহ্!
আচ্ছা, এখন কী করতে হবে? আচ্ছা।
চতুর্দিকের তীব্র পুরুষার্থী সাহস আর উৎসাহ- উদ্দীপনার সাথে ওড়ে, চলে না, ওড়ে,
চতুর্দিকের যারা বাবা সমান সম্পন্ন এবং সম্পূর্ণ তারা বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন,
সদা বাবার কম্বাইন্ড রূপের অনুভব করে আর সহযোগ নেয়, প্রত্যেকে বাবার হারানিধি,
স্নেহি, এমন বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।
দাদিদের প্রতি :- বাবার সাথে
তোমাদের সবারই সহযোগ রয়েছে তো না! বাচ্চা আর বাবা উভয়ের সহযোগে যজ্ঞ চলেছে, চলতে
থাকবে। তোমরাও তো নিমিত্ত, তাই না! সাকারে একজন বলেছে আরেকজন করেছে। একে অপরের
সহযোগী হয়ে উড়ছ। বাবা তোমাদের উড়তে দেখে খুশি হন। (জানকি দাদি বলেন গুলজার দাদি
করেছেন) সে তো সাথে আছেই। বাপদাদার এই শুভ ইচ্ছা যে, তোমরা সবাই যারা নিমিত্ত হয়েছ
তারা সদা এক - এটা যেন দৃশ্যমান হয়। ভিন্ন ভিন্ন নয়, এক দৃশ্যমান হতে হবে। একজন বলল
আরেকজন সম্মতি দিলো আর এক হয়ে যায়। তবেই তো যজ্ঞ চলছে। তোমাদের সবার একতা দ্বারাই
চলছে। হতে পারে বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু সঙ্কল্পে, বিচারে এক থেকে আরও এগিয়ে
নিয়ে যেতে হবে। কেননা, এখন তোমাদের সবার উপরে নজর আছে। আচ্ছা।
বরদান:-
নিজের শ্রেষ্ঠ বৃত্তির দ্বারা শুদ্ধ বায়ুমণ্ডল বানিয়ে
সদা শক্তিশালী আত্মা ভব
যারা সদা নিজের শ্রেষ্ঠ বৃত্তিতে থাকে, তারা যে কোনও
বায়ুমণ্ডল, ভাইব্রেশনে অস্থির হতে পারে না। বৃত্তি দ্বারাই বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়। যদি
তোমার বৃত্তি শ্রেষ্ঠ হয় তবে বায়ুমণ্ডল শুদ্ধ হয়ে যাবে। কেউ কেউ বলে কী করবো
বায়ুমণ্ডলই এরকম, বায়ুমণ্ডলের কারণে আমার বৃত্তি চঞ্চল হয়েছে - তো সেই সময় শক্তিশালী
আত্মার পরিবর্তে দুর্বল আত্মা হয়ে যাও। কিন্তু ব্রত নেওয়ার (প্রতিজ্ঞা) স্মৃতি
দ্বারা বৃত্তি শ্রেষ্ঠ বানাও তবে শক্তিশালী হয়ে যাবে।
স্লোগান:-
গুণ মূর্ত হয়ে সবাইকে গুণমূর্ত বানানোই মহাদানী হওয়া।
অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশন মজবুত করে সদা
নির্ভীক আর নিশ্চিন্ত থাকো" নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি প্রকৃতি স্নেহ থাকতে হবে,
তবে স্নেহি আত্মার প্রতি কখনো অনুমান উৎপন্ন হবে না। তাদের স্নেহের বোল সাধারণ হলেও
ফিল হবে না। তাদের হালকা বোলও এমন মনে হবে এ' নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্যে বলেছে,
উদ্দেশ্যহীন, ব্যর্থ মনে হবে না। যেখানে স্নেহ থাকে সেখানে ফেথ অবশ্যই থাকে। তো
ব্রাহ্মণ পরিবাবারে পরস্পরের প্রতি স্নেহ এবং ফেথ রেখে সম্পূর্ণ নিশ্চয়বুদ্ধি হও
তবেই ব্রহ্মা বাবার সমূহ আশা পূরণ করতে পারবে।