30-08-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 13-04-2011 মধুবন


“জ্বালামুখী অগ্নি-স্বরূপ যোগের শক্তির দ্বারা সংস্কারগুলির সংস্কার করো, নিজের চলন, চেহারা, দৃষ্টি, বৃত্তি আর সংকল্পের দ্বারা বাবাকে প্রত্যক্ষ করো”


আজ বাচ্চাদের ভালোবাসা, ভালোবাসার সাগরকেও নিজেদের কাছে ডেকে নিয়েছে। বাপদাদার খুশী হচ্ছে যে বাবার সাথে বাচ্চাদের হৃদয়ের ভালোবাসা খুব ভালো আছে আর সর্বদাই এই ভালোবাসার আধারের দ্বারা বাবার সমান হয়েই যাবে। এমনিতেও বাপদাদা ভালোবাসার সাব্জেক্টে বাচ্চাদেরকে আগে রেখেছেন। তো আজ বাচ্চারা নিজেদের ভালোবাসার সুতোয় বেঁধে, ভালোবাসার সাগরকে মধুবনে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। এইরকম ভালোবাসা সদা ইমার্জ থাকে। দিলারাম বাবার কাছেও বাচ্চাদের হৃদয়ের ভালোবাসা সদা পৌঁছাতে থাকে কিন্তু নম্বরের ক্রমানুসার অবশ্যই থাকে। বাবা এটা চাইছেন যে ভালোবাসার লক্ষণ হলো সদা প্রত্যেকের হৃদয়ে দিলারাম সাথে থাকবেন, কোনও বাচ্চা যেন একলা না থাকে, কম্বাইন্ড হয়ে থাকে। তো চেক করো সদা কম্বাইন্ড থাকো নাকি কখনও কখনও একলাও হয়ে যাও? একলা থাকলে মায়া নিজের জন্য চান্স নিতে থাকে এইজন্য বাপদাদা সদা বলেন যে দিলারামকে সদা হৃদয়ে স্থায়ী ভাবে রাখো। একে বলা যায় সত্য এবং সদা ভালোবাসা। তো কখনও একলা হও নাকি সদা সাথে থাকো? প্রত্যেক বাচ্চা কী প্রতিজ্ঞা করেছিলে? মুখ্য মধুবনবাসীদের নেশা আছে কি যে, একসাথে থাকবো, একসাথে যাবো, একসাথে রাজত্ব করবো। এইরকমই যারা বিশেষ খুব-খুব মিষ্টি নিমিত্ত বাচ্চারা বসে আছে, তাদের তো বাবার কাছে হৃদয় থেকে প্রতিজ্ঞা আছে আর মেজোরিটি তো প্র্যাক্টিক্যালেও সদা কম্বাইন্ড রূপে থাকে কিন্তু নম্বরের ক্রমানুসারে। বাবা চাইছেন যে প্রত্যেক বাচ্চা মহারথী, নিমিত্ত বাচ্চা তো অন্যদেরকেও নিজের চেহারার দ্বারা বাবার সাক্ষাৎকার করাবে। তাদের চেহারা আর আচরণের দ্বারা বাবার প্রকাশময় চেহারা আর সাথে বাবার মতো ডিট্যাচ এবং প্রিয় আচরণের সাক্ষাৎকার হতে থাকে।

তোমরা ব্রহ্মা বাবাকে দেখেছো, ব্রহ্মা বাবা অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত শ্রীমৎ অনুসারে প্রত্যেক মুরলীতে ব্রহ্মা বাবা কতবার বাবা-বাবা বলেছেন! গুনে দেখো - প্রত্যেক মুরলীতে কতবার তিনি বাবা-বাবা বলেছেন আর নিজের চেহারার দ্বারা, মূর্তির দ্বারা, বাণীর দ্বারা, বিশেষতঃ নয়ন আর ললাট দ্বারা বাবাকে প্রত্যক্ষ করিয়েছেন! বাচ্চারা তোমরা তো এই বিষয়ে অনুভবী যে ব্রহ্মাবাবাকে দেখলে কী অনুভব হতো? 'বাপদাদা' । কেবল 'বাবা' শব্দ কেউ বলতো না, সদা প্রত্যেকের মুখ থেকে 'বাপদাদা', 'বাপদাদা' একসাথে বেরিয়ে আসতো আর অনুভব হতো। এইরকমই ফলো ফাদার। তোমাদের চেহারায়, বাণীতে, আচরণে, দৃষ্টিতে বাবার স্মরণ স্বতঃই প্রকাশ পাবে। এখন বাপদাদা দেখছেন যে মেজোরিটি তোমাদের সকলের এটাই সংকল্প যে - আমরা আমাদের চেহারা, বাণী, কর্মের দ্বারা বাবাকে প্রত্যক্ষ করাবো। তারজন্য ফলো ফাদার। যেরকম ব্রহ্মা বাবা নিজের আচরণ চেহারার দ্বারা, দৃষ্টির দ্বারা, বৃত্তির দ্বারা, সংকল্পের দ্বারা সদা বাবাকে প্রত্যক্ষ করিয়েছেন, তোমাদের সকলের তো সেই অনুভব আছে তাই না! ব্রহ্মা বাবাকে কখনও একলা দেখতে না, বাপদাদাকেই একত্রে দেখতে। কারণ? ব্রহ্মা বাবা সদা নিজের নয়নে, ললাটে বাবাকে সমাহিত করে রাখতেন। তো তোমাদের বিশেষ নয়ন, মুখ, আচরণের দ্বারা বাপদাদাকে সমাহিত অবস্থায় প্রত্যক্ষ করবে। প্রত্যেক বাণীতে শিক্ষক রূপে বাবার উপস্থিতি অনুভব হবে, ইনি যা কিছু বলছেন, এনাকে যিনি শিখিয়েছেন, যিনি এনার মধ্যে শক্তি ভরে দিয়েছেন তিনি হলেন সর্বশক্তিবান বাবা, ভগবান। ইনি হলেন ভগবানের সন্তান, ভগবানের স্টুডেন্ট, ভগবানকে ফলো করা ফলোয়ার্স নয়, প্রতি কদমে পদমপতি হওয়া বাচ্চা। এখন সময়ও তোমাদের সহযোগী হওয়ার জন্য তৈরী আছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যে পরিস্থিতি না চাইতেও ভগবানের স্মরণাপন্ন করতে বাধ্য করবে। তো এক হল সময়, আর দ্বিতীয় হল তোমাদের নিমিত্ত হওয়া দুই গ্রুপের বিশেষত্ব, এক হল বিশেষ নিমিত্ত হওয়া মধুবনবাসী, দ্বিতীয় হল পূর্ব নির্ধারিত নিমিত্ত গ্রুপ, যারা মিটিং এ এসেছো।

বাপদাদা দেখেছেন মেজোরিটি আগত বাচ্চাদের হৃদয়ে এই উৎসাহ উদ্দীপনা আছে যে বাবাকে প্রত্যক্ষ করাতেই হবে। সেটা নিজের চেহারার মুখমন্ডলের দ্বারাই হোক, বা বাণীর দ্বারাই হোক, সে যেরকমই আত্মা সম্বন্ধ সম্পর্কে থাকুক, আজকাল নিজেদের মন্সা - আত্মাদের কল্যাণের ভাবনার দ্বারা তোমাদের কানেকশনে আসছে আর আসতেও চাইছে। আর বাপদাদা যে মন্সা সেবার কার্য দিয়েছেন, তাতেও দেখোছেন যে যোগযুক্ত হয়ে মন্সা সেবার অভ্যস করছে তো এখন এই ভায়ব্রেশন চারিদিকে কারো না কারোর কাছে পৌঁছাচ্ছে যে আমরা কোথা থেকে লাইটের কিরণ, সুখ-শান্তির ঢেউ আসছে, কিন্তু কোথা থেকে আসছে, এখন সেটা স্পষ্ট হচ্ছে না। আসছে কিন্তু বাপদাদার ভারতের বাচ্চাদের থেকেই আসছে, সেটা স্পষ্ট হচ্ছে না। তা নাহলে তো সবাই তাদের কাছে ছুটবে। এখন আরও শক্তিশালী কিরণ এমন আত্মাদের প্রতি দাও যে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, পৌঁছাচ্ছে, শুরু হয়েছে এখন কিন্তু অল্প অল্প, কার কারো কিরণ পৌঁছে গেছে, এখন একে আরও শক্তিশালী বানাও। এরজন্য যে বিঘ্ন পড়ে, পৌঁছাতে বা স্পষ্ট হতে কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যোগ লাগাচ্ছো, অমৃতবেলায় বসছো কিন্তু জ্বালামুখী যোগ, তার ঘাটতি আছে। এর কারণ হল যে ভক্তদের বা আত্মাদেরকে তোমরা কিরণ পাঠাচ্ছো, সেটা এত স্পষ্ট হচ্ছে না আর দ্বিতীয় হল জ্বালামুখী অগ্নি-স্বরূপ যোগের শক্তি না থাকা বা ঘাটতি থাকায় সংস্কার যেটা মধ্যিখানে বিঘ্ন দিচ্ছে, সেই সংস্কারও সমাপ্ত হয় না। পুরুষার্থ করছো যাতে সংস্কার পরিবর্তন হয়ে যায় কিন্তু সংস্কার মরে যায় ঠিকই কিন্তু জ্বলে যায় না। যেরকম রাবণকে কেবল মারে না, মারার পর জ্বালিয়ে দেয় কেননা মারার পর শরীরকে তো রাখা যায় না! তো এইরকমই তোমরা অমৃতবেলায় স্মরণে বসছো কিন্তু যোগের অগ্নিরূপ বা জ্বালারূপ হয় না। মিলন উদযাপন করছো, রূহ-রিহান করছো, নিজের জীবনের কথাও বলছো। নিরন্তর যোগ অগ্নিরূপ হবে, সংস্কার অবশ্যই মারছো, সে মরছে কিন্তু মাঝে মাঝে জেগে উঠছে। পুড়ে গেলে তো নাম রূপ সমাপ্ত হয়ে যাবে। এখন সকল বাচ্চারা রূহ রিহানেও বলে যে যতটা চাই ততটা নেই।

তো বাপদাদা আজ এই ঈশারা দিচ্ছেন কেননা স্পেশাল মহাবীর বাচ্চারা মিটিং এ এসেছে আর মধুবনবাসী অর্থাৎ মধুবনে কে আছেন, মধুবন অর্থাৎ বাবা। মধুবন বললে সকলের কী স্মরণে আসে? মধুবনের বাবা। তো মধুবনবাসীদের বিশেষ এই অ্যাটেনশান রাখতে হবে যে মধুবন বললে মধুবনের বাবা স্মরণে আসে! বাবা মধুবনবাসীদেরকে কোন্ দৃষ্টিতে দেখেন? মধুবনবাসী হাত তোলো। অনেক আছে। নিচে হোক বা উপরে কিন্তু আজকের সভাতে সবথেকে বেশী মধুবনবাসী আছে। বাপদাদা খুশী হচ্ছেন যে মধুবনবাসী এই কামাল অবশ্যই করে দেখাবে যে প্রত্যেক মধুবনবাসীর চেহারা এবং চরিত্র থেকে বাবা-বাবাই দেখা যাবে। কথার দ্বারাও বাবা দেখা দেবে। কেননা মধুবনে যজ্ঞসেবার বল আর ফল অনেক প্রাপ্ত হয়। যে নেওয়ার হবে, সে নেবে, কিন্তু প্রাপ্ত হয় । সংস্কারকে দেখা বা সংস্কার মেলানোতে আরও সদা অ্যাটেনশান দেওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে । বাপদাদার প্রতিটি মধুবনবাসী বাচ্চাদের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা আছে, কেন? বাবার স্থাপন করা যজ্ঞের সেবাতে নিজেকে সমর্পণ করেছো। মধুবনবাসীদেরকে এক তো নিজের পুরুষার্থের ফল প্রাপ্ত হচ্ছে আর দ্বিতীয়, যারা মধুবনে আসছে, তারা ব্রাহ্মণ হোক বা নতুন আত্মা, তাদের সেবার, যজ্ঞ-সেবা, সাধারণ সেবা নয়, যজ্ঞসেবার এক্স্ট্রা পুণ্যও প্রাপ্ত হয়। যদি কোনও মধুবনবাসী নিজে বাপদাদার শ্রীমৎ অনুসারে অমৃতবেলা থেকে রাত পর্যন্ত চলতে থাকে, তো তার এক্সট্রা, মধুবনবাসী নিজেরা জানে বা না জানে, তবুও তাদের মধুবনে সেবার পুণ্য অবশ্যই প্রাপ্ত হয়। মধুবনবাসী হওয়া সাধারণ কথা নয়। কেউ যে সেবাই করুক, মনে করো সাফাই এর কাজ করছে, এইরকম সাধারণ কাজেরও অনেক পুণ্য জমা হয় কারন এটা হলো বাবার রচিত যজ্ঞ। এই যজ্ঞের দ্বারাই মধুবনেই সকলের পরমাত্ম ভালোবাসা প্রাপ্ত হয় এইজন্য মধুবন ছাড়া বাবা আর কোথাও আসেন না। এই মধুবনেই বাবার আসার, বাচ্চাদের সাথে মিলন করার পার্ট নির্ধারিত । তো প্রত্যেক মধুবনবাসী নিজের পুণ্যের খাতাকে জানো, চেনো, আর তার মহান প্রাপ্তি স্বরূপ হও। যাকিছু হয়ে যাক, তোমাদের কাজ হলো বড়োদের কাছে পৌঁছানো, পোঁছালে অর্থাৎ হৃদয় থেকে শোনালে, তোমাদের দায়িত্ব পূর্ণ হলো। যদি তোমরা মনে করো যে কিছু হচ্ছে না তাহলেও এতে তোমাদের পাপ হবে না। যার দায়িত্ব আছে, তার হবে তোমরা নিশ্চিন্ত থাকো। দেওয়া হল তোমাদের কাজ, কিন্তু যদি চিন্তা করো যে কি হলো, কি হলো না, এটা কেন হলো না, সেটা কেন হলো না, এসব তোমাদের প্রয়োজন নেই, কারণ এতে আরই ব্যর্থ সংকল্প চলবে। তোমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কেবল সেটাই করো, তাদের কাছে পৌঁছাও। কিন্তু পৌঁছানোর পর, পৌঁছানোও রীতি অনুযায়ী, কারণ তোমরা হলে মধুবনবাসী ব্রাহ্মণ, শ্রেষ্ঠ, নিজেদের স্থানকে জেনে এমন কর্তব্য করো যে সবাই তোমাদের কর্তব্য শুনে অনেক কিছু শিখতে পারে। মধুবনবাসীদের উপরে সকলেরই ভাবনা আছে, তো এই আত্মাদের ভাবনার ফল দেখাও। বাপদাদা জানেন যে মধুবনবাসীদের মধ্যে কিছু কিছু বাচ্চা আছে যারা খুবই মর্যাদাপূর্বক স্ব-পুরুষার্থী, বাবার স্নেহী হয়ে সবাইকে সহযোগ দেয়। কিন্তু বাপদাদা এটাই চাইছেন, বাপদাদা কী চাইছেন মধুবনবাসীদের কাছ থেকে? মধুবনবাসী প্রত্যেক বাবার বাচ্চা যজ্ঞস্নেহী, সহযোগী হয়ে নিজের আচরণের দ্বারা সবাইকে বাবার পরিচয় দেবে যে আমাদের মধুবনবাসীদের কত বড় ভাগ্য! ভাগ্যকে প্রসিদ্ধ করো কারণ তোমরা হলে যজ্ঞ নিবাসী, পরমাত্মা সর্বপ্রথম কী রচনা করেছেন? যজ্ঞ রচনা করেছেন। আর যজ্ঞের ধরণী হলো নিমিত্ত মধুবন। মধুবনের মহিমা জানো তো না, যারা জানে মধুবনের মহিমা, তারা হাত তোলো। বাপদাদা এখানে (সামনে টি.ভি তে) দেখছেন। আচ্ছা, খুব ভালো।

যে বাচ্চারা নিমিত্ত হয়েছো, তাদেরকে দেখে বাপদাদা খুশী হচ্ছেন। সবাই অ্যাটেনশান দিচ্ছে, কিন্তু এখন আরও অ্যাটেনশান দিয়ে সবাইকে সন্তুষ্ট করো তাহলে সমগ্র বিশ্বে সন্তুষ্টতার কিরণ পৌঁছাবে, এই কার্যও নিমিত্তদেরকেই করতে হবে। যারা নিমিত্ত হয়েছে, তাদেরকে নিজের নিজের হ্যান্ডস-কে, সংস্কার পরিবর্তন করাতে আরো একটু পরিশ্রম করতে হবে। সেবা করাচ্ছো, থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত মেজোরিটি সেন্টার দেয় কিন্তু তাদের মধ্যে এমন শক্তি ভরো যে বাবার থেকে শক্তি নিয়ে তোমাদের সেবাস্থানের বায়ুমন্ডল এমন বানাবে, যাতে যদি কেউ আসে, সে প্রথমে বায়ুমল্ডলের আকর্ষণে আসবে। কেননা আজকাল সবাই এটাই চায় যে এমন কোনও কার্য হোক যেটা আসার সাথে সাথেই কিছু অনুভব হবে, দেখার সাথে সাথেই কিছু অনুভব হবে। শোনার অনুভব হয়, যোগের অনুভব হয় কিন্তু বায়ুমন্ডলেরও অনুভব হবে, এই অ্যাটেনশান নিমিত্ত হওয়া আত্মাদেরকে রাখতে হবে, এটা হলো তাদের বিশেষ সেবা। স্বয়ং যদি যোগযুক্ত হয়ে বায়ুমন্ডলে ঠিক স্থিতিতে থাকে তাহলে তার প্রভাব সেবাস্থানের উপরে অটোমেটিকলি পড়ে। যেরকম বাপদাদা বা বড় নিমিত্ত আত্মাদের বায়ুমন্ডল, ভায়ব্রেশন পড়ে, তাই না। বাপদাদা বায়ুমন্ডল পরিবর্তন করেন, তাই না। তো প্রত্যেক বাচ্চাকে বায়ুমন্ডল বানাতে হবে, কেননা এখন নিজের সেন্টার্স এর বায়ুমন্ডল পরিবর্তন করবে তবেই সংসারের বায়ুমন্ডল পরিবর্তন হবে, নিমিত্ত তোমাদের সেবাস্থানের দ্বারা। পুরুষার্থ করছো, লক্ষ্য আছে কিন্তু এই লক্ষ্যকে আরও পাওয়ারফুল বানাও। যাকেই দেখবে, সাধারণ মানুষ আজকাল মুখ দেখে, ভায়ব্রেশনের দ্বারা জানতে পেরে যায়, কেননা আসুরী শক্তিরও প্রভাব তাদের বুদ্ধিতে আছে, নলেজেরও প্রভাব আছে, এইজন্য যার যারা মিটিংএ এসেছো, প্রত্যেকেরই এটা দায়িত্ব। না হলে মিটিংএ নাম কেন দিয়েছো! সাহস আছে না, তাই তো তোমাদের নাম হয়েছে না, এইজন্য তোমাদের কর্তব্য প্রত্যক্ষ করো। করতে চাইছোও, বাপদাদা জানেন করার প্রচেষ্টাও করছো কিন্তু আরও একটু প্রচেষ্টা করো। বুঝেছো।

এখন বাপদাদা সকলের রেজাল্ট দেখতে চাইছেন। মধুবনবাসী বা মিটিংএ আগত, প্রত্যেকেরই রেজাল্ট দেখতে চাইছেন। জগদম্বার যে বিশেষ পুরুষার্থ ছিল, বাবা বলবেন আর জগদম্বা করে দেখাতেন। তোমাদের দিদিরও এই শব্দ ছিল - এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে, এখন ঘরে যেতে হবে। তোমাদের দাদীরও এই সংকল্প ছিল যে এখন কর্মাতীত হতে হবে, কর্মাতীত হওয়ার ক্লাস করাতে হবে, কর্মাতীত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। তোমাদের মধ্যে থেকে যে পান্ডবরা চলে গেছে তাদেরও হৃদয়ে এই সংকল্পই ছিল যে আমাদেরকে যে পান্ডব, পান্ডবদের বিজয় বলা হতো, তো পান্ডবদের যে লক্ষ্য ছিল আর আছেও, যে গায়ন আছে - বিজয়ী পান্ডব, পান্ডব বললে কি স্মরণে আসবে? বিজয়। যদিও অক্ষৌহিণী সেনা ছিল কিন্তু পান্ডব শব্দ বলার সাথে সাথে বিজয় স্মরণে আসে। ৫ পান্ডব, কিন্তু বিজয়ী। যেরকমই বায়ুমন্ডল হোক অক্ষৌহিণী সেনার বায়ুমন্ডল ছিল কিন্তু পান্ডবরা, পান্ডবপতির শ্রীমতের দ্বারাই বিজয়ী হয়েছিল আর বিজয়ের নাম প্রসিদ্ধ করেছিল। এখন সেই পানৃডব বিজয়ী হয়ে অন্যদেরকেও বিজয় প্রদান করবে। তো পান্ডবদের দেখে বাপদাদা খুশী হচ্ছেন, কোন্ কথাতে খুশী হচ্ছেন? যে শক্তিদের সাথী আছে। শক্তিদেরকে সাহস দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার সাথী আছে। যেরকম বাপদাদা শক্তিদেরকে শিবশক্তির মন্ত্র দিয়ে কম্বাইন্ড বানিয়েছেন, এইরকম পান্ডবও শক্তিদেরকে, পান্ডবদের মধ্যে যে বিশেষ গুণ আছে, সেই বিশেষ গুণগুলির দ্বারা শক্তিদেরকে সহযোগ দিয়ে সামনে রেখেছে, খুব ভালো আর সদা ভালোর থেকেও ভালো হয়ে উন্নতি করে চলেছে।

বাপদাদা আজ তোমাদের স্নেহকে দেখে তোমাদের সবাইকে স্নেহের মালা পরাচ্ছেন। ব্যস্, তোমরাও প্রত্যককে স্নেহ সহযোগের মালা পরাও। দুই হাতের মালা নয়, হৃদয়ের সহযোগের মালা পরাও। বাপদাদা পূর্বেও বলেছেন প্রত্যেক বাচ্চার পকেটে সহযেগের নোট থাকা চাই। তো ভুলগুলিকে নোট করো না, সহযোগের নোটের দ্বারা পকেট ভর্তি হওয়া চাই। যেখানেই সহযোগের প্রয়োজন দেখবে তো সহযোগের নোট দিয়ে দাও। পকেটে আছে সহযোগের নোট? সহযোগের নোট আছে? ভর্তি আছে? পকেট ভর্তি আছে? খালি নেই তো? তোমরা সহযোগের নোট দাও আর তারা তোমাদেরকে আশীর্বাদের মালা পরাবে।

তোমাদের অ্যাডভান্স পার্টির বিশেষ আত্মারা আর সূক্ষ্মবতন বাসী বাবা অপেক্ষা করছেন। তোমাদের কাছে তাদের সংকল্প পৌঁছায়? তারা ডেট জানতে চাইছেন। তোমাদের বড় বড় দাদীরা, দাদারা ডেটের অপেক্ষা করছে। তো তাদেরকে ডেট দেবে! দেবে? প্রথম লাইন বলো, ডেট দেবে? নাকি বলবে ওয়েট অ্যান্ড সী। প্রত্যেককে এখন কি করতে হবে? প্রত্যেকে এখন নিজের অবশিষ্ট খারাপ সংস্কারগুলিকে সংস্কার করে দাও, সময় নিকটে চলে আসবে। সময়কে নিকটে নিয়ে আসার এটাই হলো পদ্ধতি। যে পড়ে থাকা সংস্কার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তাকেই সংস্কার করো। তো পরবর্তী সিজন শুরু হতে সময় আছে, অনেক দিন বাকি আছে। তো প্রতিদিন কোনো না কোনো সংস্কারের সংস্কার করে দেবে। এক একটা করে করতে থাকো। ওই ক'টা দিনই বাকি আছে। তো কারা কারা বলছে যে পরেরবার যখন বাপদাদা আসবেন তখন আমরা হাত তুলে বলবো সংস্কারের সংস্কার হয়ে গেছে। তারা হাত তোলো। হয়ে গেছে? হাত তো তুলছো। বাপদাদা অ্যাডভান্সে অনেক অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আচ্ছা।

বরদান:-
আলস্যের ভিন্ন ভিন্ন রূপগুলিকে সমাপ্ত করে সদা উৎসাহে থাকা তীব্র পুরুষার্থী ভব

বর্তমান সময়ে মায়ার আক্রমণ আলস্যের রূপে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে হয়। এই আলস্যও হলো বিশেষ বিকার, একে সমাপ্ত করার জন্য সদা উৎসাহিত থাকো। যেরকম উপার্জন করার উৎসাহ থাকে, তো আলস্য সমাপ্ত হয়ে যাবে এই উৎসাহে থাকো এইজন্য কখনও উৎসাহকে কম করবে না। চিন্তা করে দেখবো, করবো, করেই নেবো, হয়ে যাবে... এইসব হলো আলস্যের লক্ষণ। এইরকম আলস্যযুক্ত আত্মা নির্বল সংকল্পগুলিকে সমাপ্ত করে এটাই চিন্তা করো যে, যেটা করতে হবে, যতটা করতে হবে, এখনই করতে হবে - তখন বলা হবে তীব্র পুরুষার্থী।

স্লোগান:-
সত্যিকারের সেবাধারী হলো সে যার ভাবা আর বলা সমান হবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও পবিত্রতার আলো সদা শ্রেষ্ঠর থেকেও শ্রেষ্ঠ জ্বলতে থাকবে, অল্প একটুও যেন দোলাচলে না আসে, অচল। যতটা অচল পবিত্রতার আলো হবে ততই সহজে সবাই বাবাকে চিনতে পারবে আর পবিত্রতার জয়জয়কার হবে। পবিত্রতার পার্সোনালিটিকে সদা ইমার্জ রূপে স্মৃতিতে রাখো। স্মৃতিই হলো সমর্থীর আধার আর যেখানে সমর্থী আছে সেখানে মায়া আসতে পারবে না। সমর্থ আত্মার কাছে মায়ার আসা অসম্ভব।