31.12.2025
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
মধুবন হলো 'হোলিয়েস্ট অফ দি হোলি' বাবার ঘর, এখানে তোমরা কোনো পতিতকেই আনতে পারো
না"
প্রশ্নঃ -
এই ঈশ্বরীয়
মিশনে যারা দৃঢ়ভাবে নিশ্চয়বুদ্ধির, তাদের লক্ষণ কেমন হবে?
উত্তরঃ
১) তারা স্তুতি
- নিন্দা..... সবেতেই ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করবে, ২) ক্রোধ করবে না, ৩) কাউকেই দৈহিক
দৃষ্টিতে দেখবে না । আত্মাকেই দেখবে, আত্মা হয়েই কথা বলবে, ৪) স্ত্রী - পুরুষ সাথে
থেকেও কমল ফুল সমান থাকবে, ৫) কোনো প্রকারের ইচ্ছা থাকবে না ।
গীতঃ-
জ্বলে মরবে না
কেন বহ্নি-পতঙ্গ....
ওম্ শান্তি ।
আত্মারূপী
বাচ্চাদের প্রতি আত্মাদের পিতা বোঝাচ্ছেন অর্থাৎ ভগবান পড়াচ্ছেন আত্মারূপী
স্টুডেন্টদের । জাগতিক স্কুলে যে বাচ্চারা পড়ে, তাদেরকে আত্মারূপী স্টুডেন্ট বলা হবে
না । তারা তো হলো আসুরী বিকারী সম্প্রদায় । আগে তোমরাও আসুরী বা রাবণ সম্প্রদায়ের
ছিলে । এখন তোমরা রাম রাজ্যে যাওয়ার জন্য পাঁচ বিকার রূপী রাবণকে জয় করার পুরুষার্থ
করছো । এই জ্ঞান যারা প্রাপ্ত করে না, তাদের বোঝাতে হয় - তোমরা রাবণ রাজ্যে আছো ।
তারা নিজেরা বোঝে না । তোমরা তোমাদের আত্মীয় - পরিজন ইত্যাদিদের বলো - আমরা অসীম
জগতের পিতার কাছে পড়ি, তাহলেও এমন নয় যে, তারা এতে নিশ্চয় করবে । যতই বাবা বলুক না
কেন, বা ভগবানই বলুক, তাও নিশ্চয় করবে না । নতুনদের তো এখানে আসার অনুমতি নেই । চিঠি
ছাড়া বা অনুমতি না নিয়ে কেউই এখানে আসতে পারে না, কিন্তু কোথাও কোথাও কেউ না কেউ
এসে যায়, এও হলো নিয়ম ভাঙ্গা । এক একজনের সম্পূর্ণ খবর, নাম ইত্যাদি লিখে জিজ্ঞেস
করতে হয় । একে পাঠাবো কি? তারপর বাবা বলে দেন, আচ্ছা পাঠিয়ে দাও । আসুরী, পতিত
দুনিয়ার স্টুডেন্ট যদি হয়, তাহলে বাবা বোঝাবেন, ওই পড়া তো বিকারী, পতিতরা পড়ায় ।
এখানে ঈশ্বর পড়ান । ওই পড়াতে পাই - পয়সা উপার্জনের দরজা পাওয়া যায় । যদিও কেউ অনেক
বড় পরীক্ষায় পাস করে, তাও কতো উপার্জন করবে? বিনাশ তো সামনে উপস্থিত । প্রাকৃতিক
বিপর্যয়ও সব আসবে । এও তোমরাই বুঝতে পারো, যারা বুঝতে পারে না, তাদের বাইরে ভিজিটিং
রুমে বসিয়ে বোঝানো হয় । এ হলো ঈশ্বরীয় পাঠ, এখানে নিশ্চয়বুদ্ধিই বিজয়ন্তী হবে
অর্থাৎ বিশ্বে তারাই রাজত্ব করবে । রাবণ সম্প্রদায়ের যারা, তারা তো একথা জানেই না ।
এতে অনেক বড় সাবধানতার প্রয়োজন । অনুমতি ছাড়া কেউই ভিতরে আসতে পারে না । এ কোনো ঘুরে
বেড়াবার জায়গা নয় । কিছুদিনে এই নিয়ম কড়া হয়ে যাবে, কেননা ইনি হলেন 'হোলিয়েস্ট অফ
দ্য হোলি' । শিববাবাকে ইন্দ্রও তো বলা হয়, তাই না । এ হলো ইন্দ্রসভা । আঙ্গুলে তো
নব রত্নও ধারণ করা হয়, তাই না । ওই রত্নের মধ্যে নীলাও তো হয়, পান্না, মাণিকও হয়
। এইসব নাম রাখা হয়েছে । পরীদেরও তো নাম আছে, তাই না । তোমরা পরীরা হলে উড়ন্ত আত্মা
। তোমাদেরই বর্ণনা আছে, কিন্তু মানুষ এইসব কথা কিছুই বোঝে না ।
মানুষ আঙ্গুলেও রত্ন
ধারণ করে, তারমধ্যে কিছুকিছু পোখরাজ, নীলম, পেরুজও হয় । কিছুর দাম হাজার টাকা,
আবার কিছু - কিছুর দাম ১০ - ২০ হাজার টাকা । বাচ্চারাও তেমনই নম্বরের ক্রমানুসারে
থাকে । কেউ তো ভালো পড়ে মালিক হয়ে যায় । কেউ আবার অল্প পড়ে দাস - দাসী হয়ে যায় ।
রাজধানী তো স্থাপন হচ্ছে, তাই না । তাই বাবা বসে পড়ান । তাঁকেই ইন্দ্র বলা হয় । এ
হলো জ্ঞানের বর্ষণ । এই জ্ঞান তো বাবা ছাড়া কেউই দিতে পারে না । তোমাদের এইম
অবজেক্ট হলো এখানেই । যদি নিশ্চিত হয়ে যায় যে, বাবা পড়াচ্ছেন, তাহলে তারা এই পড়াকে
আর ছাড়বে না । যারা পাথর বুদ্ধির হবে, তাদের কখনোই তীর লাগবে না । এখানে এসে তারা
চলতে - ফিরতে আবার পড়ে যায় । পাঁচ বিকার হলো অর্ধেক কল্পের শত্রু । মায়া তোমাদের
দেহ - বোধে নিয়ে এসে থাপ্পড় মেরে দেয়, তারপর আশ্চর্যবৎ শুনন্তী, কথন্তী আর ভাগন্তী
হয়ে যায় । এই মায়া বড়ই প্রবল, এক থাপ্পড়েই ফেলে দেয় । মনে করে যে, আমরা কখনোই নেমে
যাবো না, তবুও মায়া থাপ্পড় লাগিয়ে দেয় । এখানে স্ত্রী - পুরুষ উভয়কেই পবিত্র বানানো
হয় । এ তো ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই বানাতে পারে না । এ হলো ঈশ্বরীয় মিশন ।
বাবাকে কাণ্ডারী বা
মাঝি বলা হয়, আর তোমরা হলে নৌকা । কাণ্ডারী আসে সকলের নৌকাকে পার করাতে । তিনি
বলেনও - সত্যের নৌকা দুলবে কিন্তু ডুবে যাবে না । এত বিভিন্ন মঠ - পথ আছে । জ্ঞান
এবং ভক্তির যেন লড়াই হয় । কখনো ভক্তির বিজয় হবে, অবশেষে তো জ্ঞানেরই বিজয় হবে ।
ভক্তির দিকে দেখো, সেখানেও কতো বড় - বড় যোদ্ধা আছে । জ্ঞান মার্গের দিকেও কতো বড় বড়
যোদ্ধা আছে । অর্জুন - ভীম ইত্যাদি নাম রাখা হয়েছে । এই সব কাহিনী তো বসে বানানো
হয়েছে । তোমাদেরই তো এই মহিমা । তোমাদের এখন হিরো - হিরোইনের অভিনয় চলছে । এই
সময়ই যুদ্ধ চলে । তোমাদের মধ্যেও এমন অনেকেই আছে যারা এইসব কথাকে একদম বুঝতে পারে
না । যারা খুব ভালো হবে, তাদেরই তীরবিদ্ধ হবে । থার্ডক্লাস তো এখানে বসতেই পারবে না
। দিনে - দিনে অনেক কড়া নিয়ম হতে থাকবে । পাথর বুদ্ধির, যারা কিছুই বুঝতে পারে না,
তাদের এখানে বসানোই হলো বেনিয়ম ।
এই হল্ হলো হোলিয়েস্ট
অফ হোলি । পোপকে হোলি বলা হয় । এই বাবা তো হলেন 'হোলিয়েস্ট অফ হোলি ।' বাবা বলেন -
আমাকে এদের সকলেরই কল্যাণ করতে হবে । এই সবই বিনাশ হয়েই যাবে । এও তো সব কেউ
বুঝতেই পারে না । যদিও বা শোনে, কিন্তু এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়
। তাই না কিছু নিজে ধারণ করে, আর না অন্যকে করায় । এমন বোবা - কালাও অনেকেই আছে ।
বাবা বলেন যে - হিয়ার নো ইভিল (কোনো মন্দ কথা শুনো না) - ওরা তো বানরের চিত্র দেখিয়ে
দেয়, কিন্তু এ তো মানুষের জন্য বলা হয় । মানুষ তো এই সময় বানরের থেকেও খারাপ ।
নারদের গল্পও বসে বানানো হয়েছে । তাকে বলা হয়েছিলো - তুমি নিজের মুখ দেখো, পাঁচ
বিকার তো ভিতরে নেই? যেমন সাক্ষাৎকার হয় । হনুমানেরও তো সাক্ষাৎকার হয়, তাই না ।
বাবা বলেন যে, কল্প - কল্প এইরকম হয় । সত্যযুগে এইসব কোনো ঘটনাই ঘটে না । এই পুরানো
দুনিয়াই সমাপ্ত হয়ে যাবে । যারা দৃঢ় নিশ্চয়বুদ্ধির, তারা মনে করে যে, পূর্ব কল্পেও
আমরা এই রাজত্ব করেছিলাম । বাবা বলেন যে - বাচ্চারা, এখন দৈবী গুণ ধারণ করো । কোনো
নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করো না । স্তুতি - নিন্দা সবকিছুতেই ধৈর্য ধারণ করতে হবে ।
তোমাদের ক্রোধ করা উচিত নয় । তোমরা কতো উচ্চ স্টুডেন্ট, ভগবান বাবা তোমাদের পড়ান ।
ওরা তো সরাসরি পড়ায়, তবুও কতো বাচ্চারা ভুলে যায়, কেননা সাধারণ শরীরের দ্বারা পড়ানো
তো, তাই না । বাবা বলেন যে, দেহধারীদের দেখলে তোমরা এতটা উঁচুতে উঠতে পারবে না ।
তোমরা আত্মাকে দেখো । আত্মা ভ্রুকুটির মাঝে থাকে । আত্মা সব শুনে মাথা নাড়ায় । তোমরা
সবসময় আত্মার সঙ্গে কথা বলো । তোমরা আত্মারা এই শরীর রূপী আসনে বসে আছো । তোমরা
তমোপ্রধান ছিলে, এখন সতোপ্রধান হও । নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করলে দেহ
ভাব দূর হয়ে যাবে । তোমাদের অর্ধেক কল্পের দেহ বোধ রয়ে গিয়েছে । এই সময় সকলেই দেহ
অভিমানী ।
বাবা এখন বলেন, তোমরা
দেহী - অভিমানী হও । আত্মাই সবকিছু ধারণ করে । খাওয়াদাওয়া সবকিছু আত্মাই করে বাবাকে
তো অভোক্তা বলা হয় । তিনি হলেন নিরাকার । এই শরীরধারীরাই সবকিছু করে । তিনি কিছুই
খান না, তিনি হলেন অভোক্তা । তাই একেই সব লোক অনুকরণ করে । কতো মানুষকে ঠকানো হয় ।
তোমাদের বুদ্ধিতে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে, পূর্ব কল্পে যারা বুঝেছিলো, তারাই এখন
বুঝবে । বাবা বলেন, আমিই কল্পে কল্পে এসে তোমাদের পড়াই আর সাক্ষী হয়ে দেখি ।
পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে যারা তখন পড়েছিলো, তারাই এখন পড়বে । এতে সময় লাগে । বলা
হয় - কলিযুগ এখনো চল্লিশ হাজার বছর বাকি আছে । তাহলে তো ঘোর অন্ধকারে আছে, তাই না
। একেই অজ্ঞান অন্ধকার বলা হয় । ভক্তি মার্গ আর জ্ঞান মার্গে রাতদিনের তফাৎ । এও
বোঝার মতো কথা । বাচ্চাদের খুব খুশীতে ডুবে থাকা উচিত । তোমাদের সবকিছুই আছে, আর
কোনো ইচ্ছাই বাকি নেই । তোমরা জানো যে, পূর্ব কল্পের মতো আমাদের সব কামনা পূরণ হয়,
তাই তোমাদের উদর পূরণ থাকে । যাদের জ্ঞান নেই, তাদের উদর পূরণ হয়ই না । বলা হয় -
খুশীর মতো খাবার নেই । এখানে জন্ম - জন্মান্তরের জন্য রাজত্ব পাওয়া যায় । দাস -
দাসী যারা হবে, তাদের এতো খুশী থাকবে না । তোমাদের সম্পূর্ণ মহাবীর হতে হবে । মায়া
যেন তোমাদের নাড়াতে না পারে ।
বাবা বলেন - এই
দৃষ্টির অনেক সুরক্ষা রাখতে হবে । দৃষ্টি যেন ক্রিমিনাল না হয় অথবা ক্রিমিনাল
জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট না হয় । নারীকে দেখলেই দৃষ্টি চলায়মান হয়ে যায় । আরে, তোমরা
তো ভাই - বোন, কুমার এবং কুমারী, তাই না । তাহলে কর্মেন্দ্রিয় কেন চঞ্চলতা করে ।
বড় বড় লাখপতি, কোটিপতিদেরও মায়া শেষ করে দেয় । গরীবদেরও মায়া একদম মেরে ফেলে । তখন
বলে, বাবা আমি ধাক্কা খেলাম । আরে, দশ বছর পরেও হেরে গেলো । এখন তো পাতালে নেমে গেছে
। ভিতরে - ভিতরে বুঝতে পারে যে, এর অবস্থা কেমন । কেউ কেউ তো আবার খুব ভালো সেবা করে
। কন্যাই তো ভীষ্ম পিতামহকে বাণ মেরেছিলো, তাই না । গীতাতে এর অল্পকিছু আছে । এ তো
হলোই ভগবান উবাচঃ । কৃষ্ণ ভগবানই যদি গীতা শুনিয়েছিলো, তাহলে কেন বলে - আমি যা বা
যেমন, কোনো বিরলতমই (সামান্য কয়েকজন ) তা জানতে পারে । কৃষ্ণ যদি এখানে থাকতো, তাহলে
না জানি কি করে দিতো । কৃষ্ণের শরীর তো সত্যযুগে থাকে । এও জানে না যে, কৃষ্ণের
অনেক জন্মের অন্ত শরীরে আমি প্রবেশ করি । কৃষ্ণের সামনে তো সকলেই চলে আসবে । পোপ
ইত্যাদি এলে তো কতো লোক গিয়ে তো দলে দলে জড়ো হয় । মানুষ তো একথা বুঝতেই পারে না
যে, এইসময় সকলেই পাতিত, তমোপ্রধান । তারা বলেও থাকে যে, হে পতিত পাবন এসো, কিন্তু
বুঝতেই পারে না যে, আমরাই পতিত । বাবা বাচ্চাদের কতো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । বাবার
বুদ্ধি তো সব সেন্টারের অনন্য বাচ্চাদের প্রতি চলে যায় । যখন খুব বেশী অনন্য বাচ্চা
এখানে আসে, তখন এখানে দেখি, তা না হলে বাইরের বাচ্চাদের মনে করতে হয় । তাদের সামনে
জ্ঞান নৃত্য করি । বেশীরভাগ যদি জ্ঞানী তু আত্মা হয়, তাহলে মজাও আসে । নাহলে মেয়ে
সন্তানদের উপর কতো অত্যাচার হয় । কল্পে - কল্পে সহ্য করতে হয় । জ্ঞানে আসার কারণে
ভক্তিও ছেড়ে যায় । মনে করো, ঘরে মন্দির আছে, স্ত্রী - পুরুষ উভয়েই ভক্তি করে,
স্ত্রীর যদি জ্ঞানের রং লেগে যায়, ফলে ভক্তি করা ছেড়ে দেয়, তাহলে কতো হাঙ্গামা হয়ে
যাবে । বিকারেও যদি না যায়, বা শাস্ত্র ইত্যাদিও না পড়ে, তাহলে তো ঝগড়া হবে, তাই
না । এতে অনেক বিঘ্ন আসে, অন্য সৎসঙ্গে যাওয়ার জন্য কেউ আটকায় না । এখানে হলো
পবিত্রতার কথা । পুরুষ তো থাকতে পারে না, তখন জঙ্গলে চলে যায়, স্ত্রী কোথায় যাবে?
স্ত্রীর (নারী) জন্য ওরা মনে করে, এ হলো নরকের দ্বার । বাবা বলেন, স্ত্রী তো হলো
স্বর্গের দ্বার । তোমরা মেয়েরাই এখন স্বর্গ স্থাপন করো । এর পূর্বে নরকের দ্বার ছিলো
। এখন স্বর্গের স্থাপনা হয় । সত্যযুগ হলো স্বর্গের দ্বার, কলিযুগ হলো নরকের দ্বার
। এ হলো বোঝার মতো কথা । বাচ্চারা, তোমরাও পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে বুঝতে পারো ।
তবুও তো পবিত্র থাকে । বাকি জ্ঞানের ধারণা পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে হয় । তোমরা
তো ওখান থেকে বের হয়ে এখানে এসে বসেছো, কিন্তু এখন তো বোঝানো হয়, তোমাদের গৃহস্থ
জীবনে থাকতে হবে । ওদের এতে সমস্যা হয় । এখানে যারা থাকে তাদের তো কোনো সমস্যা নেই
। বাবা তাই বোঝান, গৃহস্থ জীবনে থেকে কমল পুষ্পের সমান পবিত্র থাকো । এও এই অন্তিম
জন্মের কথা । গৃহস্থ জীবনে থেকে নিজেকে আত্মা মনে করো । আত্মাই শোনে, আবার আত্মাই
এমন তৈরী হয়েছে । আত্মাই জন্ম - জন্মান্তর ধরে ভিন্ন - ভিন্ন পোশাক পড়ে এসেছে ।
এখান আমাদের এই আত্মাদের ফিরে যেতে হবে । বাবার সঙ্গে যোগযুক্ত হতে হবে । মূল বিষয়
হলো এটাই । বাবা বলেন যে, আমি আত্মাদের সঙ্গে কথা বলি । আত্মা ভ্রুকুটির মধ্যে থাকে
। আত্মা এই অর্গ্যান্সের দ্বারা শোনে । এই শরীরের মধ্যে যদি আত্মা না থাকে, তাহলে
এই শরীর মৃতদেহ হয়ে যায় । বাবা এসে কতো আশ্চর্য জ্ঞান দেন । পরমাত্মা ছাড়া তো এই
কথা কেউই বোঝাতে পারে না । সন্ন্যাসী ইত্যাদি তো কেউই আত্মাকে দেখতেই পারে না । ওরা
তো আত্মাকে পরমাত্মা মনে করে । আবার অন্যেরা বলে যে, আত্মাতে কোনো দাগ লাগে না ।
শরীরকে পরিস্কার করার কারণে মানুষ গঙ্গা স্নানে যায় । একথা বুঝতেই পারে না যে,
আত্মাই পতিত হয় । আত্মাই সবকিছু করে । বাবা বোঝাতে থকেন - এমন মনে করো না যে, আমি
অমুক - আমি তমুক । তা নয়, সকলেই হলো আত্মা । কোনো জাতিভেদ থাকা উচিত নয় । তোমরা
নিজেকে আত্মা মনে করো । গভর্নমেন্ট বিশেষভাবে কোনো ধর্মকে মানে না । এই সব ধর্ম তো
হলো দেহের কিন্তু সমস্ত আত্মাদের বাবা তো হলো একজনই । আত্মাকেই তো দেখতে হবে । সকল
আত্মার স্বধর্মই হলো শান্ত । আচ্ছা ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ - সুমন এবং সুপ্রভাত
। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদের নমস্কার জানাচ্ছেন ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) যে
কথা কাজের নয়, তা এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতে হবে, কোনো খারাপ কথা
শুনো না - বাবা যে সকল শিক্ষা দেন, তাকে ধারণ করতে হবে ।
২ ) জাগতিক কোনো ইচ্ছা
রাখবে না । দৃষ্টির অনেক সুরক্ষা করতে হবে । দৃষ্টি যেন ক্রিমিনাল না হয় । কোনো
কর্মেন্দ্রিয়ই যেন চলায়মান না হয় । তোমাদের সর্বদা খুশীতে ভরপুর থাকতে হবে ।
বরদান:-
মায়ার
খেলাকে সাক্ষী হয়ে দেখে সদা নির্ভয়, মায়াজীৎ ভব
বাচ্চারা, সময় প্রতি
সময়ে যেরকম তোমাদের স্টেজ উন্নতি করতে থাকছে, এইরকম এখন মায়ার আক্রমণ যেন না হয়,
মায়া নমস্কার করতে আসবে, আক্রমণ করতে নয়। যদি মায়া এসেও যায়, তাহলে তাকে খেলা মনে
করে দেখো। এইরকম অনুভব হবে যেন সাক্ষী হয়ে লৌকিকের ড্রামা দেখছো। মায়ার যেরকমই
ভয়ঙ্কর রূপ হোক, তোমরা তাকে খেলনা আর খেলা মনে করে দেখবে তাহলে অনেক মজা আসবে, তাহলে
তাকে দেখে ভয় পাবেনা বা ঘাবড়েও যাবে না। যে বাচ্চারা সদা খেলোয়াড় হয়ে সাক্ষী হয়ে
মায়ার খেলা দেখে তারা সদা নির্ভয় আর মায়াজীৎ হয়ে যায়।
স্লোগান:-
এমন
স্নেহের সাগর হও যে ক্রোধ নিকটে আসতেও পারবে না।
অব্যক্ত ঈশারা :- এখন
সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও
কর্মাতীত অর্থাৎ
কর্মের অধীন নয়, কর্মের পরতন্ত্র নয়। স্বতন্ত্র হয়ে কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কর্ম করাও।
যে গায়ন আছে যে - কর্ম করেও অকর্তা, সম্বন্ধ-সম্পর্কে থেকেও কর্মাতীত, এরকম স্টেজ
কী থাকে? কোনও বন্ধন যেন না থাকে আর সেবাও বন্ধনের কারণে যেন না হয়, পরিবর্তে
নিমিত্ত ভাবের দ্বারা হবে, এর দ্বারা সহজেই কর্মাতীত হয়ে যাবে।